fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দিনহাটায় করোনা মোকাবিলায় কড়া প্রশাসন, বাড়ল আরও ৩ টি কনটেনমেন্ট জোন

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: পরিযায়ী শ্রমিক আসার পর থেকেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দিনহাটা শহর ও দুই ব্লক কে কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি দিনহাটা শহরে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন ক্লাব , সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুলির পক্ষ থেকে পুরো কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এই রোগ প্রতিরোধে ছয় দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে। এই সময় যাতে কোনোভাবেই মানুষ ঘর থেকে বের না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাব , সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকেও রাস্তায় নেমে পুলিশকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও সংগঠনগুলির পৃথক পৃথক ভাবে এই অভিযান যথেষ্ট সাড়া পড়ে। রবিবার সকাল থেকে দিনহাটা ও সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ কনটেনমেন্ট জোন এলাকায় যারা নানা অজুহাত দেখিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে ছিলেন তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের পাশাপাশি সংগঠনগুলির পক্ষ থেকেও সাধারণ মানুষকে নানাভাবে সতর্ক ও সচেতন করা হয়।

এদিন দিনহাটা থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত, এসআই বিমান সরকার, রাজু রায়, দীপক রায় প্রমুখ পুলিশ আধিকারিকরা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালান। এদিন শহরের পুটিমারি এলাকা ছাড়াও পাঁচ মাথার মোড় সহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অভিযান শুরু করলে অনেকেই হুড়োহুড়ি করে বাড়ি চলে যান। পুলিশের অভিযান আগামীতেও যেন জারি থাকে তার জন্য সাধারণ মানুষ দাবি জানান। তাদের কথায়, পুলিশ কড়া হলেই মানুষ বাধ্য হবে ঘর বন্দি থাকতে। সেক্ষেত্রে এই রোগ মোকাবেলা করা অনেকটাই সম্ভব হবে। করোনাভাইরাস যেভাবে থাবা বসিয়েছে সেই থেকে এই রোগ মোকাবিলায় নানাভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক পড়া থেকে শুরু করে সচেতনতা প্রচার শুরু হয়েছে তার পরেও অনেকেই নানা অজুহাত দেখিয়ে বাইরে বের হচ্ছেন বলে অভিযোগ। এদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলির সদস্যরা আলাদা আলাদা ভাবে অভিযান চালানোর পাশাপাশি অনেকটাই কঠোর হলে মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যায় রাস্তাঘাট।

দিনহাটা শহরের পাঁচ মাথার মোড় সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলির বিশু ধর, গৌরীশংকর মাহেশ্বরী, নৃপেন দেবনাথ প্রমুখরা ঘুরে ঘুরে বাইক টোটো চলাচলে নানাভাবে বাধা প্রদান করেন। পুর কর্তৃপক্ষের আবেদনের সাড়া দিয়ে বিভিন্ন ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা যেভাবে রাস্তায় নেমে এই রোগ প্রতিহত করতে মানুষকে সচেতন করে চলছেন তাকে সাধুবাদ জানান অনেকেই।

দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক মানবেন্দ্র দাস বলেন, কনটেনমেন্ট জোন এলাকায় মানুষ যাতে ঘরে থাকে তার জন্য পুলিশ রাস্তায় নেমে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, গত কয়েক দিনে দিনহাটায় ৬০ জনের উপরে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে দিনহাটা শহরেই রয়েছেন চারজন। এই রোগ মোকাবেলায় পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি রাস্তায় নামায় সাধারণ মানুষের আনাগোনা অনেকটাই কমেছে। এভাবে আগামী কয়েকদিন চললে কিছুটা হলেও রক্ষা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তিনিও সকলের কাছে আবেদন জানান ঘরে থাকার জন্য।

Related Articles

Back to top button
Close