fbpx
কলকাতাহেডলাইন

সপ্তাহের দ্বিতীয় লকডাউনেও কড়া পুলিশ, ড্রোন উড়িয়ে চলছে নজরদারি

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে সপ্তাহে দু’দিন করে সম্পূর্ণ লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। বৃহস্পতিবারের পর শনিবারও লকডাউন বিধি যথাযথভাবে পালন করতে ভোর থেকেই শহরের রাস্তায় রাস্তায় তৎপরতা শুরু করে দিল কলকাতা পুলিশ। কলকাতার প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে চলছে নাকা চেকিং, নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ড্রোন উড়িয়ে পাড়ার অলিগলিতেও রাখা হচ্ছে নজরদারি। পার্কসার্কাস, পার্কস্ট্রীট, ধর্মতলায় সহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নাকা চেকিং চলছে। গাড়ি, বাইক এমনকি সাইকেলও চেকিং ও জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই ছাড়া হচ্ছে।

প্রথমদিন স্বতস্ফূর্তভাবেই তা পালন করতে দেখা গিয়েছিল। নিয়মভঙ্গের বিক্ষিপ্ত ঘটনা অবশ্যই ছিল। তবে পুলিশের সক্রিয়তায় শেষ পর্যন্ত সফল লকডাউন। কিন্তু আজ, দ্বিতীয় দিন লকডাউনের শুরু থেকেই চোখে পড়েছে নিয়ম ভাঙার ছবি। সাতসকালে নিউটাউনের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন জনা কয়েক যুবক। পুলিশ তাদের দেখামাত্রই গাড়ি আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সূত্রের খবর, বাড়ি থেকে বেরনোর কারণ হিসেবে কেউ তেমন সদুত্তর দিতে পারেননি। তাতে পুলিশ তাদের ৫ জনকে আটক করেছে। আটক করা হয়েছে ৩ টি গাড়িও।

বাগুইআটি এলাকাতেও প্রায় একই ছবি। কারণ ছাড়াই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছেন কয়েকজন। কারও হাতে প্রেসক্রিপশন, কিন্তু তা পুরনো। এসব দেখে পত্রপাঠ তাঁদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে রাস্তায় টহলরত পুলিশ। লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে অবশ্য সল্টলেকের পথঘাট শুনশান। পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন প্রাতঃভ্রমণকারীদেরও বেরতে দেওয়া হয়নি। উলটোডাঙা মোড় থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি বড় রাস্তার মোড়ে চেকিং তো চলছেই, পাড়ার অলিগলিতেও যাতে লকডাউন ভেঙে কেউ বাড়ি থেকে না বেরন, তার জন্য ড্রোনের সাহায্য চলছে নজরদারি। লকডাউনে নিয়মভঙ্গের চেষ্টা যতই থাকুক, উলটোদিকে তা সফল করতে দ্বিতীয় দিন পুলিশের তত্‍পরতা আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলায় আধুনিক ল্যাব উদ্বোধন করবেন মোদি, থাকবেন মমতা

মাস্ক না পড়া, জনসমক্ষে থুথু ফেলা সহ নানাভাবে আইনভঙ্গ করার দায়ে, প্রায় ৪৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে, বিপর্যয় মোকাবিলা আইন ভঙ্গ করার জন্য ২৭৮ জনকে আর ১৪১ জনকে  মাস্ক না পড়ার জন্য এবং ১৪ জনকে প্রকাশ্যে থুথু ফেলার কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাল সারাদিনই কলকাতার নানা বাজার এলাকায় বেশ ভিড় চোখে পড়েছে। রাস্তাঘাটেও ছিল সেই ভিড়। তার জেরে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন সপ্তাহে ২ দিন লকডাউন জারি করেও সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না যদি না অনান্য দিনগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা না যায়। শুধু রাস্তাঘাটেই নয়, ভিড় চোখে পড়ছে দূরপাল্লার বেসরকারি বাসেও। একই অবস্থা চোখে পড়েছে হাওড়া শহরের বুকেও। দক্ষিন হাওড়ার লাইফলাইন আন্দুল রোডে বৃহস্পতিবার রাতে ভিড়েই চোটে তীবে যানজট লেগে যায়। ভিড় হয়েছিল শহরের প্রায় সব মার্কেটেই। এই ভাবে অনিয়ন্ত্রিত ভিড় হলে সপ্তাহে দুইদিন কেন চারদিন লকডাউন জারি করেও সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না বলেই অনেকে মনে করছেন।

 

Related Articles

Back to top button
Close