fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রেশনের খাদ্য সামগ্রী কেউ অন্যত্র বিক্রি করলে কড়া শাস্তি: আউশগ্রাম পঞ্চায়েত

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান : করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে মহাসংকটে পড়েছে গোটা দেশ। এই পরিস্থিতিতে   রেশনের খাদ্যসামগ্রী কেউ খোলা বাজারে বিক্রি করলে তাকে জেল ও জরিমানার শাস্তি পেতে হবে। জনগনকে সতর্ক করতে বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ২ ব্লকের এড়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে মাইকিং করে এমনটাই প্রচার চালানো হল।

কিছু রেশন ডিলারদের অনিয়ম ও কারচুপির কথা বলে বুধবার জেলাশাসক বিজয় ভারতীর কাছে অভিযোগ জানিয়ে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তারপর ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতে রেশনের খাদ্য সামগ্রী বিক্রি বন্ধে এড়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে শাস্তির বার্তা প্রচার সাড়া ফেলল উপভোক্তা মহলে।

রেশনের খাদ্য সামগ্রী খোলা বাজারে বিক্রি রুখতে সদর্থক  ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাসক দল পরিচালিত এড়াল গ্রাম পঞ্চায়েত।

পঞ্চায়েত এলাকার জনগণকে সেই বার্তা দিতে চার চাকা গাড়িতে মাইক লাগিয়ে এদিন সকাল থেকে চলে প্রচার।

মাইকিং করে পঞ্চায়েতের লোকজন এলাকাবাসীকে জানান, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে মহাসংকটে পড়েছে গোটা দেশ। সেই কারণে আস্তে আস্তে খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। শুক্রবার এড়াল পঞ্চায়েত এলাকায় রেশনে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়, “খাদ্য সামগ্রী রেশন দোকান থেকে তুলে কোন উপভোক্তা তা খোলা বাজারে বিক্রি করবেন না। যদি তা প্রমাণিত হয় কোনও উপভোক্তা রেশনের খাদ্য সামগ্রী খোলা বাজারে বিক্রি করেছেন তবে তাঁকে ৫ বছরের জেল ও জরিমানার শাস্তি পেতে হবে।  আর যদি প্রমাণ হয় কোনও ব্যবসাদার রেশনের খাদ্য সামগ্রী কারুর কাছ থেকে কিনেছেন তবে সেই ব্যবসাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বলে মাইকিং করে এদিন ঘোষণা করা হয়।”

যে উপভোক্তাদের রেশনের খাদ্য সামগ্রীর প্রয়োজন নেই তাঁরা ওই খাদ্য সামগ্রী এলাকার গবির দুঃস্থদের দিয়ে যাতে সাহায্য করেন সেই আবেদনও এদিন রাখা হয় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে।

এমন সতর্কতাবার্তা প্রচারের কারণ প্রসঙ্গে এড়াল পঞ্চায়েতের উপপ্রধান উজ্জ্বল পাল বলেন, লকডাউন চলায় গ্রামে গঞ্জের মানুষজন ঘরে থাকছেন। তাঁরা কাজ কর্ম কিছুই করতে পারছেন না। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে আস্তে আস্তে খাদ্যের একটা সংকট তৈরি হচ্ছে। ‘অনৈতিক উপায়ে পূর্বতন সরকারের আমল থেকে এলাকার কিছু বিত্তশালী পরিবার কম দামে খাদ্য সামগ্রী পাওয়ার জন্য রেশন কার্ড নিয়ে বসে আছে।

সেই রকম কিছু উপভোক্তা এই কঠিন পরিস্থিতিতেও কম দামে রেশনের খাদ্য সামগ্রী তুলে খোলা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। কিছু দোকানদার রেশনের সেইসব খাদ্য সামগ্রী কিনে আবার চড়া দামে বিক্রি করছেন। কিন্তু নিজের এলাকার গরিব  ও দুঃস্থদের সেই খাদ্য সামগ্রী দান করে দিয়ে সহযোগিতা করার মানসিকতা কেউ দেখাচ্ছেন না।উপপ্রধান উজ্জ্বল পাল আরও জানিয়েছেন,

কয়েক দিন যাবৎ এমন অনৈতিক কাজ কারবার নিয়ে একের পর এক অভিযোগ আসাতে থাকে। তার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পঞ্চায়েত এলাকার কেউ রেশনের খাদ্য সামগ্রী কেনা বেচায় যুক্ত রয়েছে প্রমাণ হলে তাঁর জেল ও জরিমানার শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এদিন মাইকিং করে সেকথাই পঞ্চায়েত এলাকার সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হল।’

যদিও এড়াল পঞ্চায়েতের এই ঘোষণা বিষয়ে জেলা খাদ্য দফতরের কোনও কর্তা কিছু মন্তব্য করতে চান নি ।

Related Articles

Back to top button
Close