fbpx
অসমদেশহেডলাইন

খেলার মাঠ নিয়ে অবস্থান ধর্মঘট, নজিরবিহীন ঘটনা করিমগঞ্জে

জাকির হুসেন, করিমগঞ্জ (অসম): করিমগঞ্জ জেলা সদরের সরকারি স্কুলের মাঠ বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়ে অবস্থান ধর্মঘটে বসতে বাধ্য হলেন খেলোয়াড়রা। শনিবার দুপুরে ওই অবস্থান ধর্মঘটে নবীন প্রজন্মের বর্তমান খেলোয়াড়রা যেমন ছিলেন, তেমনি প্রাক্তন খেলোয়াড় সহ ডিএসএ-র বর্তমান কর্মসমিতির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে মাঠ বাঁচানোর লড়াইয়ে নিজদের শামিল করেন। ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বরের এই ঘটনাটি করিমগঞ্জের ক্রীড়া ইতিহাসে এককথায় নজিরবিহীন। ওই অবস্থান ধর্মঘটে জেলা সদরের সর্ব স্তরের মানুষের কাছে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা সফল হয়েছে।

করিমগঞ্জ ডি এস এ-র (Karimganj DSA) নিজস্ব কোনও মাঠ নেই। তাই খেলাধুলো চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি স্কুলের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সেই মাঠটি তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এমনকি বিধায়ক-সাংসদরা ডি এস এ-র জন্য কোন‌ও টাকা বরাদ্দ করলে সেই অর্থে এই মাঠেই বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক মিশন রঞ্জন দাস নিজেও একাধিকবার এই মাঠের উন্নয়নের লক্ষ্যে ডি এস এ-কে টাকা দিয়েছেন। করোনা ভাইরাস মহামারীর জন্য দীর্ঘদিন খেলাধুলা বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি খেলোয়াড়রা মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা হয়েছে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে করিমগঞ্জের ক্রিকেট লিগ শুরু হবে বলে এই প্রতিবেদককে (Zakir Hussain) জানিয়েছেন ডি এস এ-র সচিব সুদীপ চক্রবর্তী (Sudip Chakrabarty)। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে মাঠ নিয়ে। আগামী ২৬-২৭ ডিসেম্বর বিজেপির অসম রাজ্য অধিবেশন বসবে করিমগঞ্জে। শহরের সবকটি মাঠ‌ই এজন্য তারা প্রশাসনের কাছে চেয়েছে। করিমগঞ্জ কলেজ (Karimganj College), নীলমণি স্কুল ( Nilmoni School) এবং পাবলিক স্কুল (Public School) মাঠ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু সরকারি স্কুলের মাঠে খোড়াখুড়ি হলে ক্রিকেট মরশুমের বারোটা বেজে যাবে। উঠতি ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে।

বক্তব্য রাখছেন ডিএস‌এ সভাপতি অমলেশ চৌধুরী

এদিকে, এসব বিবেচনা না করে করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই চারটি মাঠ ব্যবহার করার জন্য বিজেপিকে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। অথচ সরকারি স্কুলের মাঠ ও নীলমনি স্কুলের মাঠ নিয়ে চুক্তি রয়েছে করিমগঞ্জ ডি এস এ-র। স্কুল কর্তৃপক্ষ ডি এস এ-কে না জানিয়ে কোনও অনুমতি প্রদান বা ‘নো অবজেকশন’ দিতে পারে না। সেই চুক্তি স্বাক্ষরের ভিত্তিতে বর্তমানে নীলমণি স্কুলের মাঠের সংস্কার কাজ চলছে। তবুও ওই মাঠ আপাতত সর্বানন্দ সোনোয়াল, রঞ্জিত দাস, হিমন্তবিশ্ব শর্মাদের অধিবেশনের জন্য দিতে কোনও আপত্তি করেনি ডি এস এ।

করিমগঞ্জে খেলাধুলার উপযোগী একমাত্র মাঠ সরকারি স্কুলের মাঠ। আর ওই মাঠেই গোটা বছরের ক্রীড়া পরিক্রমা চলে থাকে। তাই এমনিতেই মাঠটি যথেষ্ট চাপে থাকে। বৃষ্টি ভেজা মরশুমে ফুটবল। আর শুকনো মরশুমে ক্রিকেট। এর ফাঁকে ফাঁকে অন্য খেলাধুলা।

ঐতিহাসিক আজকের অবস্থান ধর্মঘটে সংস্থার অন্যতম উপদেষ্টা বিমান বিহারী সিনহা, ডঃ রাধিকা রঞ্জন চক্রবর্তী, ডাঃ মণিশঙ্কর দাশগুপ্ত, আশিষ চৌধুরী, সুবীর রায় চৌধুরী, সভাপতি অমলেশ চৌধুরী (Amalesh Choudhury), সহসভাপতি তাপস কান্তি পুরকায়স্থ, দেবতোষ দাশগুপ্ত প্রমুখ মাঠের মুল ফটকে সবাইকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। সর্বানন্দ সোনোয়াল একজন ক্রীড়াপ্রেমী, প্রাক্তন খেলোয়াড় এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী। মাঠ বাঁচাতে তিনি সদর্থক ভূমিকা নেবেন এবং অধিবেশনের জন্য বিকল্প মাঠকে ছাড়পত্র দেবেন, এমনটা আশা করছেন সীমান্ত জেলার ক্রীড়াপ্রেমীরা।

Related Articles

Back to top button
Close