fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হাতিবাড়ি জামশোল চেকপোস্টে পরিযায়ীদের পাশে পড়ুয়ারা

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : ওড়িশা-বাংলা সীমান্তে পরিবার পরিজনের সাহায্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ালো লকডাউনে গৃহবন্দী থাকা পড়ুয়ারা। কোরোনার কারনে ২৩ শে মার্চ মধ্যরাত থেকে গোটা দেশে শুরু হয়েছে লকডাউন। বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হোষ্টেলগুলো। তাই এই সময় বেশির ভাগ পড়ুয়াই রয়েছে নিজের গ্রাম বা নিজের শহরে। এইভাবেই বেঙ্গালুরুর জ্যোতিনিবাস কলেজের এম সি এ’র ছাত্রী সুদীপ্তা বালা ও মেদিনীপুর সররকারি পলিটেকনিকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সুদীপ বালা নিজেদের গ্রামের বাড়ি ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর থানার আমরদা গ্রামে রয়েছে।

অন্যদিকে স্কুল বন্ধ হওয়ায় দিন কয়েকের জন্য বাবা-মায়ের সাথে মামাবাড়ি বেড়াতে এসে লকডাউনে আমরদাতেই আটকে রয়েছে মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ গার্লস হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সম্প্রীতি খাঁড়া। সুদীপ বালা ও সুদীপ্তা বালা সম্প্রীতির মায়ের মামাতো ভাই-বোন, এঁরা সম্পর্কে সম্প্রীতির মামা ও মাসী। এখন এরা একই গ্রাম আমরদাতে অবস্থান করছে।

কয়েকদিন ধরে টিভি চ্যানেলে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুরাবস্থার খবর এঁদের মনকে নাড়া দেয়। তাছাড়া সপ্তাহ খানেক ধরে তাঁরা দূর থেকে লক্ষ্য করছে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে পিচ রাস্তা দিয়ে বাস যাচ্ছে। তাঁরা পরিকল্পনা করে ফেলে ওড়িশা থেকে জামশোলা-হাতিবাড়ি সীমান্ত দিয়ে যেসব পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলায় ঢুকছে তাঁদের কিছু জনকে তাঁরা অন্তঃত একবেলা খাওয়াবে। সেইমতো তাঁরা পরিকল্পনার কথা জানায় তাঁদের বাবা, মা, দাদু, দিদাদের। এঁদের পরিকল্পনায় সায় দেন, সুদীপ্তা, সুদীপের বাবা-মা সুকুমার বালা ও দীপা বালা এবং ঠাকুমা নীহারিকা বালা। সায় দেন সম্প্রীতির বাবা-মা সুদীপ কুমার খাঁড়া ও মৃণ্ময়ী খাঁড়া। এগিয়ে আসেন সম্প্রীতির মামাদাদু দিলীপ কুমার ভূঞ্যা, মামাদিদি মৃদুলা রানী ভূঞ্যা ও মামা দিব্যকান্তি ভূঞ্যা।

আরও পড়ুন: মালদায় বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

সেইমতো শুরু হয় আয়োজন। ঠিক হয় জনা ৫০ পরিযায়ী শ্রমিকদের তাঁরা আটার রুটি ও তরকারি খাওয়াবেন। বিকেলে হাতিবাড়ী চেকপোস্টে গিয়ে খবর নিয়ে জানা যায়, এদিন আর কোন শ্রমিকের ওড়িশা থেকে বাংলায় ঢোকার সম্ভাবনা কম। সন্ধ্যা ৭ টার আগে চেকপোস্টের পক্ষে বলা অসুবিধা এদিন চেকপোস্টে ক’জন পরিযায়ী শ্রমিক আসবেন। এখবর শুনে মন খারাপ হয় পড়ুয়াদের। কিন্তু প্রস্তুতি চলতে থাকে। এদিকে আমফানের আম্পায়ারিংয়ে সবাই ত্রস্ত। সন্ধ্যা ৭ টার আগেই মা-দিদাদের সাহায্য নিয়ে তৈরি হয়ে যায় প্রায় ২০০ পিস আটার রুটি। অন্যদিকে বন্ধু তপন গরাইয়ের সাহায্য নিয়ে আলু, পটল, সোয়াবিন দিয়ে তরকারি তৈরির ব্যবস্থা করে ফেলেন সম্প্রীতির মামা দিব্যকান্তিবাবু। সন্ধ্যা ৭ টায় হাতিবাড়ি চেকপোস্ট ও পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে জানা যায়, বাংলার এপারে এদিন সন্ধ্যায় কোন শ্রমিক আসেননি। চিন্তায় পড়ে যায় পড়ুয়ারা। শেষমেষ পুলিশ প্রশাসন মারফত খবর আসে, বাংলার ৩৭-৩৮ জন শ্রমিক এদিন হাতিবাড়ী সংলগ্ন ওড়িশার জামশোলাতেই আটকে রয়েছেন। তাঁদেরকে খাবার দেওয়া যেতে পারে।

ইতিমধ্যে আম্ফানের প্রভাবে আকাশের মুখভার এবং মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তারই মাঝে চল্লিশ জনের জন্য রুটি-তরকারী প্যাকিং হয়ে যায়। দুর্যোগ মাথায় নিয়েই মোটরবাইকে প্রতিবেশী নীরোদবরণ ভূঞ্যাকে সাথে নিয়ে খাবার সহ আমরদা থেকে ছ কিমি দূরের হাতিবাড়ি চেকপোস্টের উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু করেন সম্প্রীতির বাবা শিক্ষক সুদীপবাবু। শেষমেষ একজন সিভিক ভলান্টিয়ার ও চেকপোস্টে থাকা পুলিশ কর্মীদের সহযোগিতায় ওড়িশা পুলিশের হাতে খাবার হস্তান্তর করেন সুদীপবাবুরা। মোবাইল মারফত আমরদায় এ খবর পৌঁছাতেই পড়ুয়াদের মন খুশিতে ভরে ওঠে। মনে একরাশ তৃপ্তি নিয়ে আমরদার দিকে পা বাড়ান সুদীপবাবু ও নীরোদবরণ বাবুরা।

Related Articles

Back to top button
Close