fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনের মধ্যে ফের এগিয়ে এল ছাত্রসমাজ, রক্ত পেলেন মুমূর্ষু রোগী

শান্তনু অধিকারী, সবং: বছর চব্বিশের সৌমিতা দে। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরবিদ্যার পিএইচডি ছাত্রী। খুব বেশি দিন নয়, কেশিয়াড়ি থেকে বিয়ে হয়ে এসেছেন মেদিনীপুর শহরে। শরীরে ছুঁচ ফোটানোর কথা ভাবলেই ভয়ে আঁতকে ওঠেন তিনি। মেদিনীপুর ছাত্রসমাজের সদস্য সেই সৌমিতাই এগিয়ে এলেন রক্তদানে। জীবনে প্রথমবার। এগিয়ে এলেন আরও এক সদস্য, বছর তিরিশের দমকলকর্মী অনুপম হাজরা। তাঁদের বদান্যতায় রক্ত পেলেন মুমূর্ষু রোগী। সাময়িক হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন রোগীর পরিজনরা।

পিংলার বাসিন্দা বছর ৪৮-এর বিনোদবিহারী মাইতি, গত দু’মাস যাবৎ অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার রোগী। ৬-৭দিন ছাড়া ছাড়াই তাঁর রক্তের প্রয়োজন। কারণ শরীরে রক্তের মাত্রা না বাড়াতে পারলে বিনোদবাবুর চিকিৎসাই শুরু করা সম্ভব নয়। এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসকেরা। এদিকে লকডাউনের জেরে সর্বত্রই রক্তের হাহাকার। কোথায় মিলবে রক্ত? বিনোদবাবুর পরিজনেরা পড়েন রীতিমতো আতান্তরে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার মেদিনীপুর হাসপাতাল থেকে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁদের। ক্রমশ অবস্থার অবনতি হতে থাকে রোগীর। এমনই সংকটকালে পাশে দাঁড়ায় মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ। তাঁদের আহ্বানে এগিয়ে আসেন সৌমিতা-অনুপমরা।

আরও পড়ুন: বিডিওর মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি তুলে দিলেন গৃহ শিক্ষকরা

জীবনে প্রথমবার রক্ত দিয়ে কী বলছেন সৌমিতা? সোমিতা জনালেন, ‘একটু তো ভয় ভয় করছিলই। তবে ছাত্রসমাজের দাদারা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছেন, তাতে আর ভয় পাচ্ছি না রক্তদানে।’ পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানাতে ভোলেনি স্বামী জয়দীপকেও। সৌমিতা এখন রীতিমতো আত্মবিশ্বাসী, ‘আগামীদিনে আবার রক্ত দেব।’ তবে অনুপম কিছু বলতে চাননি। শুধু জানালেন, ‘মানুষ হয়ে মানুষের বিপদে একটু পাশে দাঁড়িয়েছি। এ নিয়ে কিছু বলার নেই।’

রক্তের সংকট মেটাতে এর আগেও এগিয়ে এসেছিল ‘মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ’ নামের এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি। চলতি মাসেই মেদিনীপুর শহরে আয়োজন করেছিল রক্তদান শিবির। শুধু তাই নয়, এই লকডাউন পর্বে তাঁদের নিয়মিত সমাজসেবা রীতিমতো মন ছুঁয়েছে সকলের। বিনোদবাবুর একমাত্র পুত্র, বছর চব্বিশের স্নেহাশিসও ছাত্রসমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুললেন না। বললেন, ‘ওঁদের জন্যই বাবাকে এ যাত্রা বাঁচানো গেল।’ তবে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ এখনও কাটেনি মাইতি পরিবারের আকাশ থেকে। কারণ, এক সপ্তাহ বাদেই যে আবার রক্তের ব্যবস্থা করতে হবে।

সংস্থাটির সভাপতি রাজকুমার বেরা বললেন, ‘বিনোদবাবুর রক্তের গ্রুপটি বিরল হওয়ায় দাতা পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।’ তাহলে আগামী দিনে কী হবে? আত্মবিশ্বাসী ছাত্রসমাজ। কৃষ্ণগোপাল চক্রবর্তী, কৌশিক কঁচরা জানালেন, ‘আমরা হাল ছাড়ছি না। যে কোনও মূল্যে বিনোদবাবুদের মতো রোগীদের পাশে থাকব আমরা।’ রক্তশূন্য ব্লাডব্যাঙ্ক। এমন সংকটে ছাত্রসমাজের এই ভরপুর আত্মবিশ্বাসই আপাতত বিপন্ন রোগিদের লাইফ লাইন।

Related Articles

Back to top button
Close