fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের চাল ও ডাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের চাল ও ডাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠলো শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ব্যাপক ক্ষোভ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার জৌগ্রাম পঞ্চায়েতের কলুপুকুর শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে। খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনে। চাপে পড়ে শিক্ষিকা মুচলেখা দিয়ে অবিভাবকদের কাছে চাল ও ডাল ওজনে কম দেওয়ার কথা স্বীকার করেনেন। পরে তিনি নির্দিষ্ট ওজনে চাল ও ডাল পড়ুয়াদের অবিভাবকদের বুঝিয়ে দিলে ক্ষোভ বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আসে।

জৌগ্রামের কলুপুকুর গ্রামের ৪৫০ নম্বর শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের পড়ুয়া সংখ্যা ৬৬ জন। করোনা অতিমারির কারণে প্রায় চার মাস ধরে পঠন পাঠন বন্ধ রয়েছে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে। নিয়ম মেনে শুধুমাত্র এখন পড়ুয়াদের মিডডে মিল দেওয়া হচ্ছে।পড়ুয়াদের মিডডে মিল দেবার জন্য সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে পৌঁছান শিক্ষিকা সুপ্রিয়া ঘোষ ও তাঁর সহায়িকা জবা হালদার। পড়ুয়াদের নিয়ে মিডডে মিলের চাল ও ডাল নিতে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে আসেন অবিভাবকরা। চালও ডাল দেওয়া শুরুর কিছুক্ষণ পর থেকেই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে আসা অবিভাবকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে দেন।

অবিভাবক প্রীতিলতা বারুই ও জৌগ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্য রিনা এদবর বলেন, সরকার থেকে পড়ুয়া প্রতি ২ কেজি চাল ও ২৫০ গ্রাম মুশুর ডাল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই শিক্ষিকা পড়ুয়াদের মিডডে মিলের চাল ও ডাল ওজনে কম দিয়ে যাচ্ছেন। এদিনও তারা প্রত্যেক পড়ুয়াকে চাল ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম কম দেন। ডালও কাউকে ৩০ গ্রাম আবার কাউকে ৪০ গ্রাম কম দেওয়া হয়। শিক্ষিকা ও তাঁর সহায়িকার এই কীর্তি ধরাপড়ার পরেই অবিভাবকরা প্রতিবাদে স্বোচ্চার হন। তার পরেই ভোল বদলান শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকা ও তাঁর সহায়িকা।

কলুপুকুর গ্রামের বাসিন্দা মনোজ মণ্ডল বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে মুচলেখা দিয়ে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকা সুপ্রিয়া ঘোষ পড়ুয়াদের মিডডে মিলের চাল ও ডাল ওজনে কম দেবার কথা স্বীকার করে নেন। পরে তিনি নির্দিষ্ট ভাবে ওজন করে চাল ও ডাল অবিভাবকদের বুঝিয়ে দেন। এরপর ক্ষোভবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আসে। অবিভাবকদের অভিযোগ জেনে বুঝে
শিক্ষিকা সুপ্রিয়া ঘোষ ও ও তাঁর সহায়িকা জবা হালদার যদিও ওজন যন্ত্রে কারচুপি করে ওজনে কম দিচ্ছেন।

যদিও শিক্ষিকা সুপ্রিয়া ঘোষ দায় এড়িয়ে বলেন, “তাঁদের কেন্দ্রের ওজন যন্ত্রে গোলযোগ থাকায় এমন সমস্যা হচ্ছে। পরে অবিভাবকরা তা ধরিয়ে দেওয়ায় তাদের সঠিক ওজনে চাল ও ডাল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।” বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, “ জামালপুর থানার ওসির কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারি। ব্লকের আইসিডিএস আধিকারিককে সবিস্তার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবার কথা বলা হয়েছে।”

Related Articles

Back to top button
Close