fbpx
কলকাতাহেডলাইন

বিভ্রান্তিতে পড়ুয়ার, ‘বাধ্যতামূলক’ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা, ইউজিসি এর পর নয়া নির্দেশিকা মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায় ,কলকাতা: কিছুতেই কাটছে না কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার জট। কেন্দ্রের রাজ্যের টানাপোড়েনে রীতিমত বিভ্রান্তিতে পড়ছেন পড়ুয়ারা। কয়েকদিন আগেই কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয় গুলির সুপারিশ মেনে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা বাতিল। কিন্তু তারপরেই ইউজিসি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় গুলিকে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। মঙ্গলবার ইউজিসির পর একধাপ এগিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করলো কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ফাইনাল সেমিস্টার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা শেষ করতে হবে। যদিও রাজ্যের তরফে এখনও কেন্দ্রের নয়া বিধি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে সূত্রের খবর কেন্দ্রের নয়া বিধি ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি৷কেন্দ্রের মানব-মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা মূল্যায়ন ও পড়ুয়াদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ গুরুত্ব দিয়ে এই পরীক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে৷

এখন প্রশ্ন উছঠে, রাজ্য সরকার কি পদক্ষেপ করবে? কেননা, ইতিমধ্যেই পরীক্ষা বাতিল করার ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্যে৷ ক্যাম্পাসে গিয়ে পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে নির্দেশিকা দিয়েছে৷ কিন্তু, কেন্দ্রের তরফে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে৷ বিভ্রান্তিতে পড়েছেন বাংলার কয়েক লক্ষ পড়ুয়া৷ বিজ্ঞপ্তি জারি করে মানব উন্নয়ন সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা ব্যধতামূলক৷ একই সঙ্গে পরীক্ষা মূল্যায়ন এবং ভর্তি প্রক্রিয়া সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ক্যাম্পাসে হাজিরা দিতেও বলা হয়েছে৷ এতদিন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করছিলেন৷ তাঁদের ফের ক্যাম্পাসে ডেকে পাঠানো হয়েছে৷

আরও পড়ুন: নারদ কান্ডে ৯ তৃণমূল নেতাসহ ১১ জনকে নোটিশ ED-র

মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় যে ফাইনাল সেমিস্টার হওয়ার কথা, সেটা বাধ্যতামূলক৷ অর্থাৎ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক৷ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই পরীক্ষা নিতে হবে৷ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল, পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো আপত্তি নেই৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকার পর ইউজিসি তরফেও জারি করা হয়েছিল বেশ কিছু গাইডলাইন৷ এদিন আরও একধাপ এগিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা বাধ্যতামূলক৷ ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা দিতেই হবে৷ এমনকী এটাও বলা হয়েছে, যেহেতু শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা মূল্যায়ন ও ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক শিক্ষাকর্মীদের কলেজে আসতে হবে৷ গোটা পরীক্ষায় হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে৷

কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, খাতা পেন নিয়ে বা পরীক্ষা হলে উপস্থিত থেকে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না৷ বাংলার ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিগত পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া প্রায় চুড়ান্ত করে ফেলেছেন৷ পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ভিত্তিতে ২০ শতাংশ নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কাজ এগিয়ে গিয়েছে৷ আর এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি৷

Related Articles

Back to top button
Close