fbpx
দেশহেডলাইন

২০২৪ সালে অর্থনীতিতে চিনকে টেক্কা দেবে ভারত: সুব্রহ্মণ্যম স্বামী

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৪ সালে অর্থনীতিতে চিনকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবে ভারত। যদিও ১৭৫০ সাল পর্যন্ত চিনের থেকে বৃহত্তর এবং দ্রুত বর্তমান অর্থনীতি ছিল ভারতের। ইসলামিক শত্রুর আক্রমণ হওয়ার পর থেকে চিনের ভারতের এই ব্যব্ধান ক্রমশ কমতে থাকে। এরপর ১৯১১ সালে চিনে চিং রাজবংশ স্থায়ী হলে এই ব্যবধান আরও প্রকোট হয়। অন্যদিকে ভারতে মহম্মদ ঘোরি থেকে মোগল, পরে ব্রিটিশদের লুটপাট অব্যাহত ছিল। অবশ্য ব্রিটিশদের লুট ছিল অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জামসেদজি টাটা এবং সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো দেশপ্রেমীদের অবরুদ্ধ কবে, ভারতের শিল্পায়নকে অস্বীকার করে, ভারতের স্বতন্ত্র অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছিল।

 

 

এরপর ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা এসেছে। কিন্তু স্বাধীনতার পরেও হোঁচট খেয়েছে ভারত। তার অন্যতম কারণ হল একটি অনুপযুক্ত সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক আদর্শ এবং ক্রোনি পুঁজিবাদ। আর সেই কারণেই ১৯৬৫ থেকে ’৬৮ সালের মধ্যে দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল ভারতকে। ১৯৯০ থেকে ৯১ সালের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট দেখা দিয়েছিল। যদিও সবুজ বিপ্লব এবং দুর্দান্ত স্বাধীনতা অর্থনীতিকে সচল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু তারপরেও প্রশ্ন থাকে, ভারত কি খাদ্যশস্যের উপর স্বাবলম্বী ছিল? কিন্তু ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিল ৮ শতাংশ। আর এরপর বিশ্ব চমকে যাবে যখন অর্থনীতিকে চিনকে টপকে যাবে ভারত। ২০১৬ সাল থেকে হয়তো এটা উল্লেকযোগ্য ভাবে লক্ষণীয় হতে পারত। গভীরভাবে বোঝার অভাবের কারণেই ভারতের বৃদ্ধির হার অবিচ্ছিন্নভাবে হ্রাস পেয়েছে। করোনা পূর্ববর্তী ২০১৯-২০২০ আর্থিক বছরে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়ে ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

 

 

 

আর তার জন্যই ২০২০-২১ সালের প্রস্তাবিত বৃদ্ধি ৫ শতাংশের চেয়ে কম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর সেটা দেখে এটা কি বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে যে, ভারত চিনকে ধরে ফেলবে এবং পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবে? তাহলে একবার অর্থনৈতিক অগ্রগতির চার মাত্রায় পরিমাপ করে দেখে নেওয়া যাক, চিন-ভারতের ব্যবধান আজ কত। অর্থনৈতিক অগ্রগতির চার মাত্রা হলঃ ১) বৃদ্ধির কারণসমূহ ২) বিশ্বায়ন ৩) আর্থিক পরিকাঠামো ৪) মানব উন্নয়ন সূচক। এই চার ক্ষেত্রেই ১৯৮০-২০০৪ সালের মধ্যে জিডিপি বৃদ্ধির হার চিনের অনেক দ্রুত গতিতে বজায় ছিল, যা ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত ব্যবধান তৈরি করেছিল।

 

এই সময়ের মধ্যে, সাধারণত চিনা গড় বৃদ্ধির হার ভারতীয় বৃদ্ধির হারের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি ছিল। দু’দশকের পরে মাথাপিছু আয় (যা ১৯৮০ সালে প্রায় একই ছিল উভয় দেশে) তীব্রভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল। আর সেটা কেবলমাত্র জিডিপির উচ্চতর বৃদ্ধির কারণে নয় (১৯৮০ সাল থেকে চিন ভারতের তুলনায় জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে), জনসংখ্যা বৃদ্ধি হার কমার কারণেও। তবে এটা লক্ষ্য করা উচিৎ ২০০৫ সাল থেকে চিনের বৃদ্ধির হার কমার কারণে এই ব্যবধানটি আংশিকভাবে সংকুচিত হয়ে গেছে। কিন্তু চিনের এই উচ্চতর বৃদ্ধিতে মোট দেশীয় বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বেশি হারে হবার জন্যই সেটা সম্ভব হয়েছিল। এই হার ভারতের চেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি ছিল। জিডিপির বৃদ্ধির হার ভারতে হারের দ্বিগুণ ছিল।

 

জিডিপির বৃদ্ধির হার যেহেতু ভারতের দ্বিগুণ ছিল, তাই কেউ সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, ভারত এবং চিনের মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যব্ধান প্রশস্ত। মাথাপিছু আয় (যা ১৯৮০ সালে ব্যবধান প্রায় শূন্য ছিল) আংশিকভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বেড়েছিল তবে মূলত চিনে বিনিয়োগের প্রচুর প্রচেষ্টা এর অন্যতম কারণ। ভারত এই মাথাপিছু আয়ের ব্যবধান ২০২৫ এর মধ্যে কমাতে পারবে না, যদি না খুব দ্রুত জিডিপি হার বৃদ্ধি করা যায় (উদাহরণ, প্রতি বছরে ১০ শতাংশ)। আর তার জন্য বিনিয়োগের স্তর বাড়াতে আরও বৃহত্তর প্রচেষ্টা করতে হবে। যদিও এটা মুখে বলা যতটা সহজ করা ততটাই কঠিন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close