fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা সংক্রমিতদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে দুর্ভোগ স্বাস্থ্যকর্মীদের

সৌরভ বড়াল, বীরভূম: বীরভূম জেলায় যারা করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বার করতে চরম দূর্ভোগে পরেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংক্রমিত নিজেদের স্মৃতিশক্তিতে সঠিকভাবে মনে করে বলতে পারছেন না তারা কার কার সংস্পর্শে গিয়েছিলেন। এর ফলে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি বা এলাকা সঠিকভাবে সনাক্ত করতে রীতিমত দূর্ভোগে পড়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে এই সমস্ত সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি অথবা সংস্পর্শে থাকা এলাকা যদি দ্রুত চিহ্নিত করা না যায় তাহলে সেখান থেকেই সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। যার ফল দিনের পর দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে করনা ভাইরাসের সংক্রমণ। কিন্তু এই সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিরা কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে সেই নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছে জেলা প্রশাসনও।

উল্লেখ্য, বীরভূম জেলা প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে গত কয়েকদিন আগে বীরভূম জেলা গ্রীনজনে থাকার পরেও মুম্বাই ফেরত তিন ব্যক্তি বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ব্লকের একটি গ্রামে পৌঁছানোর দু তিন দিন পর তারা করোনাভাইরাস সংক্রমিত বলে চিহ্নিত করা হয়। সরকারি রিপোর্টে ওই তিনজনের রিপোর্ট কভিড পজেটিভ বলে চিহ্নিত করে প্রশাসন। এরপরই বীরভূম জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দপ্তর খোঁজ চালাতে শুরু করে ওই সংক্রমিত তিনজনের সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন। তাতে জানা যায় পরবর্তীকালে দুবরাজপুরে তাদের সংস্পর্শে আসা দুজন ব্যক্তি প্রশাসনের নজরে আসে। তাদেরকে লালা রস পরীক্ষার পর ফের দেখা যায় তারাও সংক্রমিত হয়েছে। এছাড়া আরও একটি পৃথক ঘটনা হাওড়া থেকে এক যুবক বীরভূমের রামপুরহাটে পৌঁছানোর পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে স্বাস্থ্য দপ্তর ওই যুবকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে ধরা পড়ে তিনি ও কোভিড পজেটিভ রয়েছেন। পরে রামপুরহাট স্থানীয় সূত্র থেকে বাসিন্দারা অভিযোগ করেন ওই যুবক হাওড়া থেকে ফেরার পর হোম কোয়ারেন্টাইন না থেকে নিজের বাড়ি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তবে কোথায় কোথায় তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন পরিষ্কারভাবে সেই সংক্রমিত যুবক স্বাস্থ্য দপ্তরে সবটা বলতে সক্ষম হচ্ছেন না বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক দাবি, এই সংক্রমিত ব্যক্তিরা মনে করে বলতে পারছেন না সবটা যে তারা কার কার সংস্পর্শে গিয়েছিলে ন। তবে উনাদের বক্তব্য ছড়িয়েছে প্রতিক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দপ্তর জরুরী ভিত্তিতে সেই সমস্ত সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অথবা সংস্পর্শে আসা এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলি সাধারণ এলাকা থেকে কিছুটা আলাদা করে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে বীরভূম জেলায় সেই ভাবে করো না সংক্রমনের খবর না থাকায় জেলা প্রশাসনের তরফে লকডাউন কিছুটা শিথিল করা হয়েছে গত কয়েক দিনে। এর ফলে যারা বীরভূম জেলায় পড়ে সংক্রমিত হয়েছেন অর্থাৎ বীরভূমে কোন সংক্রমণের সংখ্যা সরকারিভাবে ৬ জন।

 

তাদের সংস্পর্শে আসা এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি স্বাস্থ্য আধিকারিক দের। তবে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই বীরভূমে পড়না সংক্রমণে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সংস্পর্শে আসা অনেক পরিবারকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন এ থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। শুধু তাই নয় হোম কোয়ারেন্টাইন এ থাকা ব্যক্তিদের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করা। সাময়িকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা কিছুটা দূর্ভোগে পড়লেও সংক্রমণ আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে দাবি করেছে বীরভূম জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।

 

বীরভূম জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি বলেন, “বীরভূম জেলায় করোনাভাইরাস যারা সংক্রমিত হয়েছেন তারা প্রত্যেকেই বহিরাগত। বাইরে থেকে এই ভাইরাস বহন করে এনেছেন। বীরভূমে কোন সংক্রমণ নেই। তবে এইসব ব্যক্তিরা বীরভূমে আসার পর কার কার সংস্পর্শে গিয়েছেন তা চিহ্নিত করতে কিছুটা সমস্যা হলেও আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। অনেক সম্পর্কিত ব্যক্তি সঠিকভাবে মনে করে বলে উঠতে পারছেন না তারা কার কার সংস্পর্শে গিয়েছেন। তবে সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় তার জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা করে সংক্রমিত ওই এলাকাকে সানিটাইজ ওরা সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তবে খুশির খবর জেলার তিনজন করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে চলেছেন।”

Related Articles

Back to top button
Close