fbpx
অসমখেলাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

ভারতের প্রথম ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাকের প্রথম ছাত্রী সুফিয়া

তাজ উদ্দিন: শিলচর: মণিপুরের ইম্ফলে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভারতের প্রথম ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়। ন্যাশনাল স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি। স্নাতক স্তর থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পাঠক্রম রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানে বি এস সি স্পোর্টস কোর্সে পড়াশোনা করছেন কাছাড় জেলার সোনাই ধনেহরি এলাকার বাসিন্দা সুফিয়া ইয়াসমিন লস্কর ( Sufia Yeasmin Laskar)। জাতীয় ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনিই গোটা বরাক উপত্যকার মধ্যে প্রথম ছাত্রী।

সুফিয়ার অবশ্য একাধিক পরিচয় রয়েছে। পি আই অর্থাৎ ক্রীড়া শিক্ষক হুসেন আহমদ লস্করের মেয়ে সুফিয়া। তবে বাবার পরিচয়ে নয়, ক্রীড়াবিদ হিসেবে সুফিয়া নিজেও ইতিমধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন। ২০১৬ সালের ৭-১২ জানুয়ারি শিলচরে যখন তৃতীয় অসম স্টেট গেমস (Assam State Games) অনুষ্ঠিত হল, সেই সময় সুফিয়া ছিলেন রাজ্য কাবাডি দলের সঙ্গে টুর্নামেন্ট। অর্থাৎ জেলা স্তর ছাড়িয়ে তিনি আরও একধাপ উপরে ছিলেন।

২০১৫ সাল থেকে গুয়াহাটি সাইয়ে অ্যাথলেটিক্সের পরীক্ষার্থী হিসাবে তিনি ছিলেন ২০১৮ পর্যন্ত। অ্যাথলেটিক্সে ছিল সুফিয়ার প্রথম পছন্দ। ২০১৬-তে ন্যাশনাল অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে অসমের ৪x১০০ মিটার রিলে দলের সদস্য ছিলেন তিনি। অনূর্ধ্ব ১৬ বয়স গ্রুপে দলটি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে।

সোনাবাড়িঘাট মইনুল হক হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রী সুফিয়া ২০১৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর গুয়াহাটিতে এলএনআইপি কোর্সে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তবে সেটা শাপে বর হয়েছে। মণিপুরের ইম্ফলের অদূরেই খুনাম লম্পাক শহরে ভারতের প্রথম ন্যাশনাল স্পোর্টস ইউনিভার্সিটিতে কোচিং কোর্সে ভর্তি হতে আবেদন করে সফল হন। প্রতি বছর একেকটি কোর্সে ৫০ জন করে ভর্তির সুবিধা রয়েছে। সুফিয়া ২০১৮ সালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত চারটি ষান্মাসিক সেমিস্টার পরীক্ষা দিয়ে এখন ( August 2020 )পঞ্চম সেমিস্টারে পড়ছেন। লকডাউনের জন্য শেষ পরীক্ষাটা অনলাইনে দিতে হয়েছে। আপাতত ক্লাস‌ও চলছে অনলাইনে।

সুফিয়া এই প্রতিবেদককে ( Md Taz Uddin ) জানালেন, তাদের ব্যাচে মাত্র তিনজন মহিলা পরীক্ষার্থী রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে তার সুযোগ পাওয়াটা অত্যন্ত গর্বের ব্যাপার। সেখানে প্রতিটি সেমিস্টারে রয়েছে পাঁচটি করে বিষয়। মোট ৫০০ করে আট সেমিস্টারে চার হাজার নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। চার বছরের কোর্স এখন অর্ধেক সম্পন্ন করে ফেলেছেন সুফিয়া।

নিয়মিত ক্লাস চলাকালীন সেখানে সকালে কোচের অধীনে প্র্যাকটিক্যাল শিখতে হয়। বিকেলের সেশনে নিজে কোচিংয়ের হাতে কলমে ক্লাস করাতে হয়। এছাড়া দিনের বেলা রয়েছে থিওরি ক্লাস।

প্রতিটি সেমিস্টারে হোস্টেল খরচ সহ ৪০হাজার টাকা করে দিতে হয়। মূলত বাবা হুসেন আহমদ লস্কর উৎসাহ এবং অর্থ দুটো দিয়েই মেয়েকে বরাকের প্রথম স্পোর্টস বি এস সি হ‌ওয়ার দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছেন।

বড় কোচ হওয়ার পাশাপাশি ১৯ বছরের সুফিয়া নিজের ক্যারিয়ারও আরও কিছুদূর টেনে নিয়ে যেতে চান। খেলো ইন্ডিয়া গেমসে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। গত বছর মণিপুরের হয়ে নর্থ ইস্ট অলিম্পিকে ৪০০ মিটার রিলের ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। নিজের পদকের ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন দেখছেন সুফিয়া। এছাড়া বরাক উপত্যকার গ্রাম-গঞ্জ থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার স্বপ্ন তো রয়েছেই।

সোনাই ( Sonai ) এলাকা শিলচরের অ‌্যাথলেটিক্সে আলাদা জায়গা করে রেখেছে। অনেক তারকা অ্যাথলিট এখানকার গ্রামগুলি থেকে উঠে এসেছেন। বদর উদ্দিন মজুমদার (Badar Uddin Mazumder) বরাক উপত্যকা থেকে প্রথম ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস অফিসার (DSO)হয়েছিলেন। এবার কৃতীদের তালিকায় যোগ হচ্ছে সুফিয়ার নাম।

Related Articles

Back to top button
Close