fbpx
পশ্চিমবঙ্গ

প্রেমে অশান্তি, আত্মঘাতী কিশোরী

মিল্টন পাল,মালদা: দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক কলেজ পড়ুয়া দুই ছাত্র-ছাত্রীর । কিন্তু সামান্য বচসায় প্রাণ কেড়ে নিল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীর। যদিও মৃত ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, প্রেমিকের প্ররোচনায় আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে তাদের মেয়ে। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার থানার কোতুয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের গনিপুর এলাকায়। রহস্যজনক অবস্থায় শোবার ঘর থেকে ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। ওইদিনই মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা ।

এদিকে এই ঘটনাটি নিয়ে মৃত ছাত্রীর বাবা ভূজন বিশ্বাস প্রতিবেশী যুবক রাহুল রবিদাসর বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রীর নাম অন্তরা বিশ্বাস (১৯)। সে মালদা কলেজের কলা বিভাগের প্রথম বর্ষে পাঠরতা ছিলো। অভিযুক্ত প্রেমিকের নাম রাহুল রবিদাস । সেও একই কলেজে পড়াশোনা করে।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রতিবেশী ওই যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই ভাবছিল ছাত্রী অন্তরা বিশ্বাসের । রবিবার তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর মোবাইলেও কথোপকথন হয়। তার কিছুক্ষণ পরেই নিজের শোবার ঘরে সিলিংয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় ওই কলেজছাত্রী।

মৃত ছাত্রীর বাবা ভূজন বিশ্বাস জানিয়েছেন, তার মেয়ে পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধা ছিল। কোনদিন কারো সাথে চিৎকার করে কথা বলে নি। অথচ প্রতিবেশী যুবক রাহুল রবিদাস তার মেয়ের সঙ্গে ভাব জমায় । দীর্ঘদিন ধরে ওদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এটা আমরা পরে জানতে পারি। রবিবার কোন একটি বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত যুবক তার মেয়েকে অপমান করেছিল, গালাগালি করেছে। এরপরই সকলের অলক্ষ্যে মেয়ে অন্তরা ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনার পিছনে ওই যুবকের আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আমরা ইংরেজবাজার থানায় লিখিত আকারে জানিয়েছি।

এদিকে তদন্তকারী পুলিশ কর্তাদের পাড়া-প্রতিবেশীদের একাংশ জানিয়েছেন, অন্তরা বিশ্বাস অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের এবং দেখতেও খুব সুন্দরী ছিল । পড়াশোনায় গ্রামের অন্যান্যদের থেকে অনেক বেশি মেধা ছিল তার । তবে প্রতিবেশী যুবক রাহুল রবিদাসের প্রকৃত বাড়ি রতুয়াতে। এখানে মামার বাড়িতে থাকতো ওই যুবক। দু’বছর ধরে ওদের মধ্যে ভাবছিল । কিন্তু রবিবার ওই দুজনের মধ্যে কোন একটি বিষয় নিয়ে ঝামেলা বাঁধে। তারপর ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করে।

মৃত ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছেন, তাদের মেয়ের মৃত্যুর পিছনে সম্পূর্ণভাবে দায়ী অভিযুক্ত রাহুল রবিদাস । সেই অন্তরাকে আত্মহত্যা করার জন্য উত্ত্যক্ত করেছিল। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃত ছাত্রীর পরিবার।

ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে । অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই যুবক ও তার পরিবারের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে

Related Articles

Back to top button
Close