fbpx
কলকাতাহেডলাইন

বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে তৎপরতা দেখাচ্ছে না রাজ্য, সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ সুজনের, চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : করোনা ও আমফান বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে তৎপরতা দেখাচ্ছে না রাজ্য। উদাসীন কেন্দ্রীয় সরকারও। তাই এই পরিস্থিতিতে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লেখার পাশাপাশি রাজ্যপালের সঙ্গেও দেখা করলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা তথা সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।
আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি পুনর্গঠনে কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্য সরকারেরও তৎপরতার অভাব দেখা দিচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে সবটা ফের গুছিয়ে তোলার জন্য সর্বদল বৈঠক করা সহ ১২ দফা দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার সুজন চক্রবর্তী বলেন, একদিকে করোনাতে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গ। তার মধ্যেই আমফানে আরও বেশি বিধ্বস্ত। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্ভব হয়নি। মানুষ জল কষ্টে ভুগছে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছি, বিদ্যুৎ সংযোগ সহ পুনর্গঠন এর কাজ সময়সীমা ভিত্তিক দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।’
এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্যের বিষয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে দলবাজি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘বাড়ি, চাষ, গাছপালা সহ আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং ত্রাণবন্টনে শাসকদলের দলবাজির ক্ষমতা প্রদর্শনের কদর্য চেহারা ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বিডিও এসডিও অফিস ছাড়াও অনলাইনে দরখাস্ত গ্রহণ এবং দলমত নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বাড়িকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, বাংলার আবাস যোজনা, গীতাঞ্জলি সহ যে কোন সরকারি আবাসন প্রকল্পে পাকা ছাদ সহ বাড়ির সংস্থান করতে হবে। এবং এই সমস্ত বিষয়ে অবিলম্বে স্বচ্ছ নীতি এবং গাইডলাইন প্রকাশ করতে হবে।’
এছাড়াও কৃষকের ফসলের ক্ষতিপূরণ, ঋণমকুব, ফসলের লাভজনক দাম এবং  গ্রামীণ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা সৃষ্টি করার বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে জানান সুজনবাবু।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মানুষের জন্য খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি মতো প্রতিমাসে মাথাপিছু ১০ কেজি চাল এবং পরিবারপিছু ২ কেজি ডাল দেবার ব্যবস্থা করতে হবে। ‘মাস্ক’ এবং ‘স্যানিটাইজার’ অবশ্য প্রয়োজনীয় হবার কারণে রেশনে সেটাও দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’
সুন্দরবনের ‘আয়লা বাধ’ সম্পূর্ণ করা সহ নদী বাঁধ রক্ষার কাজ দ্রুততার সাথে করা, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীর বিদ্যুৎ বিল আপাতত ছয় মাসের জন্য মুকুব করা, ইনকাম ট্যাক্স এর আওতার বাইরে থাকা পরিবারগুলিকে আর্থিক সুরক্ষার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ছয় মাস মাসিক সাড়ে সাত হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার জন্য রাজ্যের পক্ষ থেকে সার্বিক দাবি উত্থাপন, ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের জন্য যথাযথ পরীক্ষার ব্যবস্থা সহ আরও বেশ কিছু দাবি তুলে দ্রুত সর্বদলীয় সভা আহ্বান করার দাবি জানান তিনি।
একইসঙ্গে আমফান পরবর্তী সময়ে রাজ্যের দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পর আর কোনও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকে দেখা যায়নি বলে রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ জানান সুজন চক্রবর্তী।

Related Articles

Back to top button
Close