fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতা

আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে ২৫টা আসন পাবো ,ঘোষণা সুকান্তর

শরণানন্দ দাস, কলকাতা:  শহরে পা রেখেই বড়ো ঘোষণা রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতির। মঙ্গলবার ভোরেই পদাতিক এক্সপ্রেস থেকে শিয়ালদায় নেমেই সংবাদ মাধ্যমকে ড. সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘ আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে ২৫ টার বেশি আসন জিতবে বিজেপি। লিখে রাখুন, হাওয়া বদলাবে। সবে হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ‘ এদিন হেস্টিংস দফতরে সম্বর্ধনা সভায় , পরে সাংবাদিক বৈঠকেও তিনি বলেন, ‘ উনিশের লোকসভা নির্বাচনে ১৮টা আসন পেয়েছিলাম। আগামী লোকসভা নির্বাচনে আরও বেশি আসন পাবো। নরেন্দ্র মোদি আরও একবার প্রধানমন্ত্রী হবেন।’ এদিন তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই। রাজ্যে তৃণমূলের ‘তালিবানিরাজ’ শেষ করা।’ কেন ব্যবহার করলেন এই শব্দ? তার ব্যাখ্যায় বলেন, ‘ আমার মতটা ঠিক, না মানলে তোমায় হত্যা করবো, এটা হলো ‘তালিবানিরাজ’। যেমন ওরা জনৈক কৌতুক শিল্পীকে‌ মেরে ফেললো। এখানে যেমন বিজেপি করার অপরাধে, অন্য মত বিশ্বাস করার অপরাধে তরতাজা যুবককে পিটিয়ে মেরে ফেলতে‌  হবে? এটা হলো তালিবানিরাজ, বিজেপি করলে বাড়িতে হামলা হবে , এটা হলো তালিবানিরাজ।  আমরা তৃণমূলের এই ‘তালিবানিরাজ’কে উৎখাত করবো।’ তিনি অভিযোগ করেন, ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসে বিশেষ ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষদের লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সুকান্ত বলেন, ‘চারটি রাজ্যে ভোট হলো। কোথাও একজনও মারা যায়নি। শুধু ব্যতিক্রম পশ্চিমবঙ্গ। আমি তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের প্রশ্ন করতে চাই, আপনারা নীরব কেন? এই যে তরতাজা প্রাণগুলো হারিয়ে গেলো, এর কোন মূল্য আপনাদের কাছে নেই?’ মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দেগে বলেন, ‘ বামঘোষকে টের মুখপত্রে লেখা হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার নাকি ৩৫টা প্লটের মালিক। তা নিয়ে কিন্তু দিদি কোন উচ্চবাচ্য করেন নি। নীরবতা থেকে বুঝে নিতে হবে সততার প্রতীক, হাওয়াই চটি পরে ৩৫টা প্লটের মালিক।’

এদিন সদ্য প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন সুকান্ত। তিনি বলেন, ‘ বাংলায় চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে শিখিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। দিলীপদা সফলতম রাজ্য সভাপতি। তাঁর নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। আমি নাড্ডাজিকে অনুরোধ করবো যাতে দিলীপদা বাংলায় বেশি সময় দেন। আমি টিমগেমে বিশ্বাসী, একা আমি কিছু করতে পারবো না। সবাই মিলে একসঙ্গে লড়বো।’ এমন কি ‘গরুর দুধে সোনা’ মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কার্যত দিলীপ ঘোষের পাশে দাঁড়ান। বলেন,’কোনও খাবারে লোহা আছে বলা হলে তা দিয়ে কি আপনি টিএমটি বার বানাবেন? তেমনই খাবারের মধ্যে সোনা রয়েছে মানে মলিকিউলারের কথা বলা হয়েছিল। দুধের সোনা বের করে কি আপনি গয়না বানাবেন?’ এর পরই তাঁর কটাক্ষ, ‘বিজ্ঞানের পড়ুয়া না হলে এটা বোঝা কঠিন।’

উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্যের দাবির প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ আপনারা জন বার্লাকে ইঙ্গিত করছেন। ঘটনা হলো উনি যখন কেন্দ্রের মন্ত্রী ছিলেন না তখন জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় মানুষের দাবির কথা বলেছিলেন। তবে দলের অবস্থান খুব স্পষ্ট, আমরা শ্যামাপ্রসাদের অখণ্ড বাংলাই চাই। ঘটনা হলো যেহেতু এ রাজ্যে উন্নয়নয়ন শুধুই কলকাতা কেন্দ্রিক, তাই অনুন্নয়নেরর কারণেই মানুষ এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে।’ একইভাবে নির্বাচনের পর যেভাবে বিজেপি ছাড়ার হিড়িক পড়েছে তা নিয়ে সুকান্তর বক্তব্য খুব স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনও চাই না কেউ দল ছেড়ে চলে যান। যাঁরা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন তাঁদেরও বলবো পারলে ফিরে আসুন। তবে দলের আদর্শ ও নীতিকে বিশ্বাস করতে হবে।’ বাবুল সুপ্রিয় প্রসঙ্গে বলেন, ‘ কেন দল ছাড়লেন উনিই বলতে পারবেন। তবে না গেলেই ভালো হতো।’ রাজনৈতিক নেতাদের দলবদল প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘ কী উদ্দেশ্যে দলবদল করলেন, সেটা বিচার্য। কেউ যদি তৃণমূলের তোষণ নীতির জন্য দল ছাড়েন সেটা ভালো ব্যাপার। আর যদি কেউ শুধু পদ আর ক্ষমতার জন্য দলবদল করেন সেটা সমর্থনযোগ্য নয়।

Related Articles

Back to top button
Close