fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

চব্বিশের লোকসভায় ২৫ পার, দাবি সুকান্তর

বঙ্গ বিজেপির দায়িত্ব নেওয়ার পরই সামলাতে হয়েছে দু’দুটো বিধাননসভার উপনির্বাচন। একুশে বাংলায় সরকার গঠনের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর গেরুয়া শিবিরকে ফের চাঙ্গা করতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জেলায় জেলায়। শেষ পর্যন্ত বাংলায় কী ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বিজেপি? এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন রক্তিম দাশ।

 

যুগশঙ্খ: একুশের হারের পর চব্বিশের লোকসভা ভোটে বিজেপির বাংলায় কী ফলাফল হবে?

সুকান্ত মজুমদার: এবার ২৫ পার। আগামী লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদিকে বাংলা থেকে ২৫টি আসন উপহার দেওয়ার জন্যে প্রত্যেকে বদ্ধপরিকর। আগের বার আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাজ্য থেকে ১৮টি আসন উপহার দিয়েছিলাম। এবার আমরা ২৫টি আসন উপহার দেব। এটা আমাদের মিনিমাম টার্গেট।  এবার আমরা ২৫টি আসন পার করবই। আমরা সব নির্বাচনেই সর্বশক্তি দিয়ে লড়ব।

যুগশঙ্খ: একুশের হারের পর অনেক কর্মী বসে গিয়েছেন। অনেকে চলে যাচ্ছেন। এটা নিয়ে কী বলবেন?

সুকান্ত মজুমদার: বিজেপির আসল সম্পদ হচ্ছে বুথে লড়াই করা কর্মীরা। যাঁরা ভারতীয় জনতা পার্টির নীতি, আদর্শকে বুকে নিয়ে পদ্মফুলকে হাতিয়ার করে লড়াই করছেন, তাঁরা আগামীদিনেও করবেন। নেতৃত্বের প্রয়োজন হয় মুখ করার জন্য বা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমাদের মূল শক্তি হচ্ছেন আমাদের কর্মীরা। তাঁরা বিজেপির সঙ্গে আছেন, দলের আদর্শ মেনে নিয়ে চলছেন। আগামীদিনেও বিজেপির সঙ্গে থাকবেন। যাঁরা চলে গিয়েছেন তাঁরা থাকলে ভাল হতো, একসঙ্গে লড়াই করতাম।

যুগশঙ্খ: অনেকে বিধায়ক চলে যাচ্ছেন?

সুকান্ত মজুমদার: আমার মনে হয় যাঁরা ভারতীয় জনতা পার্টির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিধায়ক হয়েছেন তাঁরা কেউ যাবেন না। যাঁরা গিয়েছেন আমরা তাঁদের সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। বিধায়ক, সাংসদ একটি পদ মাত্র, রাজ্য সভাপতির মতো। যা ক্ষণস্থায়ী, যা আজ আছে কাল থাকবে না। কর্মীরা আসল শক্তি। তাঁরা বুথে থাকবেন। বুথে থেকে লড়াই করবেন।

যুগশঙ্খ: দলের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে। নতুন কমিটি কবে হবে?

সুকান্ত মজুমদার: আশা করি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এটা একটা সংসার। সেই সংসারে থাকলে এরকম হয়। আশা করি ঠিক হয়ে যাবে। দলের নিয়ম অনুসারে সমস্ত কিছু হবে। কোনও অসুবিধা হবে না। সবার সঙ্গে আলোচনা করে, সবার মতামত নিয়ে করা হবে।

যুগশঙ্খ: বিজেপির উত্তরবঙ্গের সাংসদ, বিধায়কদের মধ্যে রাজ্যভাগের দাবির কথা সংবাদমাধ্যমে আসছে। এটা নিয়ে কী বলবেন?

সুকান্ত মজুমদার: আমাদের দলের নীতি একটাই। বিজেপি অখণ্ড বাংলার পক্ষে। আমিও তার পক্ষে। আর আমাকে সমগ্র বাংলার বিজেপি সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম- এভাবে দেখলে চলবে না। ভাবতেও চাইছি না।

যুগশঙ্খ: একুশে জেতার পর তৃণমূল এখন ভিন রাজ্যে নজর দিয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্য ত্রিপুরা,অসম, গোয়ায় তারা সংগঠন বাড়াচ্ছে। এটা কীভাবে দেখছেন?

সুকান্ত মজুমদার: তৃণমূল একটা প্রাদেশিক দল। তারা চাইলেও জাতীয় হতে পারবে না। কারণ তাদেও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যেই প্রাদেশিকতা রয়েছে। বিধানসভা ভোটের প্রচারে যখন বাংলায় মোদিজী, অমিতজি এসেছিলেন তখন তৃণমূল বলেছিল এঁরা বাংলায় বহিরাগত। এখন যখন তাঁরা ভিন রাজ্যে যাচ্ছেন তখন বহিরাগত হচ্ছেন না?

যুগশঙ্খ: বলা হচ্ছে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্থান দখল করে নিতে পারে তৃণমূল। বিজেপি বিরোধীরাও নাকি চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কি বলবেন?

সুকান্ত মজুমদার: এতো বার কয়েক হয়েছে। কলকাতায় ব্রিগেডের জনসভায় সব বিরোধীরা একসঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে সবাই জানে। যাই হোক না কেন কংগ্রেস এখনও সর্বভারতীয় দল। তৃণমূল কখনওই সে জায়গায় পৌঁছতে পারবে না। আর সত্যি কথা বলতে কী, নরেন্দ্র মোদির সমকক্ষ কোনও নেতা বিরোধী শিবিরে নেই।

যুগশঙ্খ: ত্রিপুরার পর গোয়ায় তৃণমূলে তারকারা যোগ দিচ্ছেন। এটা নিয়ে কী বলবেন?

সুকান্ত মজুমদার: এসব গ্যালারি শো হচ্ছে। কারা যোগ দিচ্ছেন? নাফিসা আলি, যিনি রাজনীতি থেকে অবসরে চলে গিয়েছেন। প্রথমে কংগ্রেসে। তারপর আপে। অনেকদিন চুপচাপ থাকার পর এখন তৃণমূলে। লিয়েন্ডার পেজ, তিনি তারকা নিশ্চয়ই। কিন্তু রাজনীতিতে ওঁর কী অভিজ্ঞতা আছে? এসব দিয়ে চমক দেওয়া যায়। রাজনীতি চলে না।

যুগশঙ্খ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। বিজেপির অপশাসন থেকে গোয়াকে মুক্ত করতে সব বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন।

সুকান্ত মজুমদার: তৃণমূল প্রত্যেকটি বিদ্যুতের বিল থেকে টাকা পায়। সামনের দিনগুলিতে সারদা-নারদার থেকে বড় দুর্নীতি রাজ্যে হতে চলেছে। রাজ্য সরকার বিলিতি মদ বিক্রির জন্য টেন্ডার দিয়েছে। এর আগে রাজ্যের সব মদের ডিস্ট্রিবিউটরশিপ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবার রাজ্য সরকার বলেছে, যাদের শেষ তিনবছরে ২০০ কোটির ওপরে টার্নওভার রয়েছে, তাদেরই ডিস্ট্রিবিউটরশিপ দেওয়া হবে। সরকারের এই বিজ্ঞপ্তির জেরে রাজ্যের কোনও ব্যবসায়ী এতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এর জন্য দক্ষিণ ভারতের ব্যবসায়ীকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এটা দুর্নীতি নয়? বাংলাদেশি এসে এ রাজ্যে ভোট দিয়ে যাচ্ছে। এসব কিছুর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করছি। মানুষ সব দেখছে। বিজেপিই পারবে বাংলার মানুষকে সোনার বাংলা ফিরিয়ে দিতে।

Related Articles

Back to top button
Close