fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আয়লা,বুলবুলের পথ ধরে আসছে সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফান’, রাতের ঘুম ছুটেছে সুন্দরবন বাসীর

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনা: এখনও বছর যায়নি বুলবুল তাণ্ডব লীলা চালিয়ে গিয়েছে সুন্দরবনের উপর দিয়ে। সে যাত্রায় ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবনকে অনেকাংশে বাঁচিয়েছিল। ফের সুপার সাইক্লোন অম্ফান ধেয়ে আসছে সুন্দরবনে। এখন থেকেই আতঙ্ক গ্রাস করেছে সুন্দরবন বাসিন্দাদের মনে। এখনও আয়লা,বুলবুলের ঘা দগদগে সুখাইনি,এখন আম্ফানের সঙ্গে সুন্দরবনবাসী লড়াই করতে পারবে সেই ক্ষতচিহ্ন নিয়ে?

২০১৯-এ নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সুন্দরবনকে তছনছ করে দিয়ে গিয়েছিল বুলবুল। তখন ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবনের সন্দেশখালি, কালিনগর, হিঙ্গলগঞ্জ, ভান্ডার খালি, লেবুখালী, সাহেব খালি, হাসনাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকাকে বাঁচিয়েছিল। সেই ঝড়ে প্রচুর বড় বড় গাছ উপড়ে গিয়েছে। এখন গাছের সংখ্যা অনেক কম। তাহলে কী হবে পরিস্থিতি? কী করে বাঁচবেন তাঁরা, রাতের ঘুম ছুটেছে সুন্দরবনবাসীর।

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দক্ষিণ মধ্য সাগরে অবস্থান করা সুপার সাইক্লোন আম্ফান ধেয়ে আসছে সুন্দরবন অভিমুখে। সাগরদ্বীপ, বকখালি, ঝড়খালির কাছেই আছড়ে পড়তে পারে আম্ফান। উপকূলের কাছে এসে তা গতি বাড়িয়ে আছড়ে পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহবিদরা। এর গতিবেগ ১০০ থেকে ১৫০ কিমি হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

২০০৯ সালের ২৫শে মে বিধ্বংসী আয়লা নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল অনেক নদী বাঁধ ও সমুদ্র বাঁধ। তারপর অনেক নদী ও সমুদ্র বাঁধ এখনও মেরামত সম্পূর্ণ হয়নি। তারপর বুলবুল আঘাত করেছে। সেখানেও নতুন করে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিছু। এবার আম্ফান এগিয়ে আসছে। বাসিন্দাদের আশঙ্কা এই ঝাপটা তাঁরা সহ্য করতে পারবেন তো!

তার উপর এবার করোনা থাবা বসিয়েছে রাজ্যে। বুলবুলের সময় ২১ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলতে সমর্থ হয়েছিল প্রশাসন। এবার সামাজিক দূরত্ব মেনে কতজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে সংশয় তিমিরে সুন্দবনবাসীর সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনও।

তবে মুখ বুজে বসে নেই প্রশাসন। তারা ইতিমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মজুত রাখা হয়েছে জলের পাউচ, ত্রাণও। ১৭টি সাইক্লোন সেন্টারের ১০টি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হয়েছে। তাই এখন স্কুলগুলিকে ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে। তা ছাড়াও রয়েছে সুন্দরবনের অনেক গুলি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, সেই কেন্দ্রে গুলিতে গ্রামবাসীদের উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সরে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে তোলা হচ্ছে। সেখানে গবাদিপশু রাখার ও তাদের খাদ্যর বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close