fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

‘সুপার স্প্রেডার’ হয়ে উঠতে পারে শহরের জনপ্রিয় ২৫ মণ্ডপ! সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: শহরের মণ্ডপগুলিতে মানুষ কোভিড নির্দেশাবলী মেনে যাতে ঠাকুর দেখেন, তা নিশ্চিত করতে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা করেছে কলকাতা পুলিশ। খোলামেলা মণ্ডপ থেকে শুরু করে মণ্ডপের ভিতরে যাতে একসঙ্গে ১৫-২৫ জনের বেশি মানুষ না ঢুকতে পারেন, সেটাও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও কি পুজোয় ঠাকুর দেখা থেকে ছড়াবে না সংক্রমণ? তার গ্যারান্টি কিন্তু কেউই দিতে পারছেন না। উলটে চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, শহরের জনপ্রিয় ২৫ মণ্ডপই হয়ে উঠতে পারে প্রকৃত অর্থে ‘সুপার স্প্রেডার।’ কারণ মণ্ডপে ঢোকা থেকে বেরোনোর রাস্তাগুলিতে মানুষের সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শ সব ক্ষেত্রে আটকানো সম্ভব হবে না।

রাজ্য প্রশাসনের সবুজ সঙ্কেত পেয়ে পুজোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন শহরের সমস্ত পুজো উদ্যোক্তারা। যদিও এবারে সরকারি কোভিড নির্দেশাবলী মেনে সমস্ত মণ্ডপ খোলামেলা এবং মণ্ডপে মাস্ক, স্যানিটাইজার রাখা সহ আরও একাধিক নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কিন্তু কলকাতার এরকম একাধিক পুজো মণ্ডপে ঢোকার এবং বেরোনোর রাস্তা একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। মূল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে যাতে সমস্যা না হয়, তার জন্য মণ্ডপগুলির অন্তর্বর্তী রাস্তাগুলিকে সংযুক্ত করে সেভাবেই জনসমুদ্রকে বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। আর সেক্ষেত্রে বড় রাস্তার বদলে এলাকার ছোট ছোট রাস্তাগুলি ধরেই এগোতে হয় মানুষজনকে।

সাধারণভাবে ভিড় করে ঠাকুর দেখাই পছন্দ বাঙালির। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু মানুষজন ভিড় এড়াবেন, এটা নিশ্চিত। কিন্তু সিংহভাগ মানুষজনই মুখে মাস্ক এবং পকেটে স্যানিটাইজার নিয়েই যে পুজোর মণ্ডপে ভিড় করতে পারেন, যেমন পুজোর শপিংয়ে সব সঙ্গে নিয়েই বিপুল ভিড় জমিয়েছেন মানুষ। আর শহরের যে মণ্ডপগুলি লাইন দিয়ে ঢুকে মণ্ডপ ও ঠাকুর দেখে অন্য রাস্তা দিয়ে বেরোতে হয়, সেই মণ্ডপগুলিকেই ‘সুপার স্প্রেডার’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ মণ্ডপ যতই খোলামেলা হোক, ভিতরে লাইন দিয়ে আসার সময়ে বা বেরোবার সময়ে সংক্রামিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কিন্তু অন্যান্য বছর এই মণ্ডপগুলিতে মানুষের ভিড় সামলাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’এর এক আধিকারিক বলেন, ‘উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার বিশেষ ২৫ মণ্ডপ আমাদের নজরে রয়েছে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে উত্তর কলকাতার বাগবাজার সার্বজনীন, কুমোরটুলি পার্ক সার্বজনীন, হাতিবাগান নবীন পল্লি, তেলেঙ্গাবাগান, চালতাবাগান, কাশী বোস লেন, কলেজ স্কোয়ার, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, ঠিক তেমনই দক্ষিণের ত্রিধারা সম্মিলনী, সেলিমপুর পল্লি, যোধপুর পার্ক, সুরুচি সঙ্ঘ, ম্যাডক্স স্কোয়ার, বেহালা নতুন দল, কসবা বোসপুকুর, খিদিরপুর সার্বজনীন, একডালিয়া এভারগ্রিন, সিংহী পার্কের মত একাধিক পুজো।’ তবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, বেহালা দেবদারু ফটক, ম্যাডক্স স্কোয়ারের মত একাধিক পুজো ইতিমধ্যেই দর্শকবিহীন পুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর দেশপ্রিয় পার্ক থেকে আহিরীটোলা সার্বজনীন, জগৎ মুখার্জি পার্কের মত পুজোগুলি রাস্তার ওপরে হওয়ায় থেকে খুব একটা সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:দীর্ঘ ৬ মাস পর আজ থেকে ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল শবরীমালা মন্দির

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কার্ডিও থোরাসিক বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ সঞ্জীব মজুমদার বলছেন, ‘সারা রাজ্যে ১২০০০-এর ওপর বেড থাকলেও কলকাতায় কিন্তু বেড রয়েছে মাত্র ৩০০০-এর কিছু বেশি। করোনা সংক্রমণের ধাক্কায় গুরুতর অসুস্থ হলে এবং এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মত পরিস্থিতি না থাকলে তখন কিন্তু ভুগতে হবে রোগী ও তাঁদের পরিবারকেই। মানুষ যদি নিজে থেকে সচেতন না হন, তাহলে চিকিৎসক বলুন বা রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কেউ কিছু করতে পারবে না।’

Related Articles

Back to top button
Close