fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

ফের কেজরি সরকারকে তিরস্কার সুপ্রিম কোর্টের, বায়ুদূষণ রুখতে সম্পূর্ণ লকডাউন করতে রাজি দিল্লি

ইন্দ্রানী দাশগুপ্ত , নিউদিল্লি: বায়ুদূষণের দাপটে এই মুহূর্তে ত্রাহি ত্রাহি রব সমগ্র দিল্লি জুড়ে‌। বিষয়টি নিয়ে সোমবার কেজরিওয়াল সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই পরিস্থিতিতে এদিন সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে দিল্লি সরকার জানাল দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন হলে সম্পূর্ণ লকডাউন করতে রাজি তারা। তবে বায়ু যেহেতু কোনও রাজ্যের সীমানা মানে না, তাই দিল্লির পাশাপাশি এনসিআর এবং পার্শ্ববর্তী তিনটি রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং পাঞ্জাবেও লকডাউন করা প্রয়োজন। এরপর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়ে জানায়, অবিলম্বে দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ,পাঞ্জাব এবং হরিয়াণার সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করুক কেন্দ্র। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ পরিষ্কার জানিয়ে দেয় লক্ষ লক্ষ দিল্লিবাসীর স্বার্থে যেভাবেই হোক নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে রাজধানীর বায়ুদূষণকে।

গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনার পর দিল্লিতে ইতিমধ্যেই আংশিক লকডাউন পরিস্থিতি জারি করা হয়েছে। দিল্লিতে বন্ধ স্কুল, সরকারি দপ্তর,নির্মাণকার্য। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনও ভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না দিল্লির বায়ুদূষণকে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জারি করে দিল্লি সরকার বলেছে, দিল্লিতে দূষণের প্রধান কারণ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে ‘নাড়া’ অর্থাৎ কৃষির আগাছা পোড়ানো। বার বার পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির সঙ্গে কথা বলেও এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এমনটাই এদিন সুপ্রিম কোর্টে জানায় দিল্লি সরকার। এর পাশাপাশি তারা আরও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট যদি এনসিআর-সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে বায়ুদূষণ রোধ করতে লকডাউন করে, তাহলে দিল্লিতেও লকডাউন জারি করার ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি নেই তাদের।

যদিও এই প্রসঙ্গে দিল্লি সরকারকে তিরস্কার করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা বলেন, “অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করুন। প্রচারের জন্য যে অর্থ আপনারা ব‍্যয় করছেন, তার হিসেব নিতে আমাদের বাধ্য করবেন না”। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, দূষণের জন্য বার বার দিল্লি সরকারের কৃষকদের সম্পূর্ণ দায়ী করাটা একেবারেই ঠিক নয়। দূষণের মাত্র চার থেকে দশ শতাংশ হয় কৃষি আবর্জনা পোড়ানোর কারণে। তাই এই অজুহাত দেওয়া যায় না বলে জানিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে বায়ুদূষণ রোধ করার জন্য অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকারকে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল প্রকাশ্যে আবর্জনা বা জঞ্জাল পোড়ালে জরিমানা করা, ডিজেল জেনারেটরের ব্যবহার বন্ধ করা, গাড়ির ক্ষেত্রে জোড়-বিজোড় ব্যবস্থা চালু করা, পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে দিল্লিতে ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, পাথর খোদাই মেশিনের ব্যবহার বন্ধ করা, হোটেল-রেস্তোরাঁয় কয়লা বা কাঠের জ্বালানি নিষিদ্ধ করা ,রাস্তা পরিষ্কার রাখা এবং রাস্তায় নিয়মিত জল ছেটানোর ব্যবস্থা করা। সেই সঙ্গে অযথা বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঘোরাঘুরি বন্ধ করার জন্য দিল্লিতে পার্কিং ফি দ্বিগুণ করার উপদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আর এনসিআর (ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন) অঞ্চলে কর্মরত সকলকে বাড়িতে বসেই কাজ করার নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

Related Articles

Back to top button
Close