fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে ঘরে বসে স্বনির্ভরতার ডাক সুস্মিতার

নিজ উদ্যোগে প্লাস্টিক মুক্ত পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন

গোবিন্দ রায়, কলকাতা: আত্মনির্ভর ভারতের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জীবনে ভালোবেসে কোনও কাজ করলে তাতে সফলতা আসবেই। প্রধানমন্ত্রীর সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে বসেই স্বনির্ভরতার এমনই উদাহরণ দিলেন হাবরার মেয়ে সুস্মিতা। গত দুমাসে গড়ে ফেললেন একটি আস্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠী। এখানেই শেষ নয়।

স্বনির্ভরতার পাশাপাশি, একদিকে যেমন প্লাস্টিক বর্জন করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ও পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন ও পরিবেশনের ডাক দিয়েছেন, তেমনই অন্যদিকে আগামীতে আরও কিছু মেয়ের অর্থসংস্থান ও স্বনির্ভর করার ভাবনা করেছেন তারা।

 

আরও পড়ুন:করোনা আক্রান্ত পি চিদাম্বরম পুত্র কার্তি চিদাম্বরম

জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার হাবরার বাসিন্দা সাংবাদিকতার ছাত্রী সুস্মিতা। লকডাউনের মধ্যে বাড়িতে বসে সরকারি কোনও সাহায্য ছাড়াই এই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের কাজ শুরু করেন। পরে তার এই কাজে আগ্রহী হয়ে আরও কিছু মেয়ে এগিয়ে আসেন। কাজ শুরু করেন তারা। যেখানে মহিলাদের ব্যবহার যোগ্য কাপড়, পাটের ব্যাগ, গহনা, সাজসজ্জার সরঞ্জাম এই গোষ্ঠীর বর্তমান পণ্য। প্রত্যেকটি পণ্যই তৈরি হয় প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে। কাপড়, তুলো, পাট, কাঁদা, মাটি ইত্যাদি পরিবেশ বান্ধব উপকরণ দিয়ে গড়ে তোলা হয় ‘এক সে বরকার এক মাস্টার পিস’।

সুস্মিতা সাধু জানান, ‘সম্পূর্ণ পকেটের টাকা থেকে এই প্রচেষ্টা। পরিবেশকে রক্ষা করে ফ্যাশনকে অন্য মাত্রা দেওয়ার ভাবনাকেই কাজে লাগিয়েছেন তিনি। এবং গোটা কর্মযজ্ঞকে শিউলি ফুলের সঙ্গে তুলনা করে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘শিউলি’।
তিনি জানান, ‘শিউলি’ নামটা শুনলেই প্রথমে মাথায় আসে একটি ছোট্ট শুভ্র ফুল। যা আমাদের খুব প্রিয়।

সেই ভাবনা মাথায় রেখেই এখন শিউলি কেবলমাত্র একটি ছোট্ট ফুল নয়। বর্তমানে শিউলি সম্পূর্ণ ইকো ফ্রেন্ডলি ছোট একটি ব্র্যান্ড। কাজটিও শিউলির মতো ভালোবাসার। পরিবেশকে রক্ষা করে ফ্যাশনকে অন্য মাত্রায় দেওয়াই শিউলির মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন:হিন্দুরাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্তর…..রামমন্দিরের ভূমিপুজো নিয়ে দাবি অযোধ্যাবাসীর

শিউলির প্রত্যেকটি পণ্যের প্যাকেজিং হয় কাগজের ব্যাগ অথবা কাগজের মোরকে। এই অভিনব উদ্যোগে খুশি ক্রেতারাও। আগামীদিনে প্রত্যেকটি ছোট ছোট ব্র্যান্ড পরিবেশ সম্পর্কে আরও সচেতন এবং স্বনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এই গোষ্ঠী।
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে চিনা পণ্য বর্জনের ডাকে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য তথা দেশের একাধিক জায়গা।

 

দেখা গিয়েছিল চিনা পণ্য পুরনো ও ভাঙার ছবিও। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দেশের বাজারে স্বনির্ভর পণ্যের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে সুস্মিতাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। কারণ এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে স্বনির্ভরতা হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব হওয়াটাও খুবই জরুরি।

Related Articles

Back to top button
Close