fbpx
কলকাতাহেডলাইন

তৃণমূল নেত্রীর অভিষেক প্রীতি, দূরত্ব বাড়াচ্ছেন শুভেন্দু

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: সম্প্রতি একের পর এক দলীয় বা রাজ্য সরকারি অনুস্ঠানে গড় হাজির থাকছেন তৃণমূলের ভরসা যোগ্য সারথি তথা বিধায়ক ও মন্ত্রী শুভেন্দু আধিকারী। তার এই গরহাজিরে ক্ষুব্দ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দুর এই হঠাৎ অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি দলের অন্দরে যথেষ্ট সারা ফেলেছে। স্বভাবতই শুভেন্দুর অনুপস্থিতি চোখ এরায়নি দলনেত্রীরও। সূত্রের খবর, তাই দলীয় ও সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁকে একান্তই উপস্থিত  থাকার বার্তা দিয়েছেন মমতা।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নেত্রীর অতিরিক্ত ভাইপো অভিষেক প্রীতি দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে শুভেন্দুর। সম্প্রতি পর্যবেক্ষক পদ তুলে শুভেন্দুর হাত থেকে এক লহমায় অনেক দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রকারান্তরে অভিষেককে মহাপর্যবেক্ষক বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ছাড়াও অনেক কমিটিতে রয়েছেন তিনি।অন্যদিকে শুভেন্দুকে দলীয় কোনও বড় পদে না রেখে অনেক সহ সভাপতির মধ্যে একজন। সমন্বয় ও কোর কমিটিতে তাঁকে রাখা হয়েছে বটে। কিন্তু ২০২১-এর আগে শুভেন্দু অধিকারীকে দলের অন্য কোনও বড় পদে রাখা উচিত ছিল। সে ক্ষেত্রে গোটা রাজ্যের সংগঠনের স্বার্থে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারত তৃণমূল। কিন্তু মমতার ভাবনায় শুধু ভাইপো অভিষেকই, রাজনৈতিক মহলে এমনই আলোচনা চলছে প্রতিনিয়ত।
স্বাভাবিক ভাবে রাজনৈতিক মহলে ২১শের নির্বাচনের আগে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে তৃণমূল নেত্রী মমতার অভিষেক-প্রীতি কি দলের ক্ষতি করছে?  তৃণমূলের অনেক দলত্যাগীই অভিষেকের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। এমনকী মুকুল রায়েরও তৃণমূল ছাড়ার নেপথ্যে ছিলেন অভিষেক। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৬-র আগে থেকেই মুকুলকে সরিয়ে সেকেন্ড ইন কম্যান্ড বানাতে চেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যিনি তৃণূলের চাণক্য রূপে কাজ করতেন, তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল পিছনের সারিতে। তারপর মুকুলের দলত্যাগ করা ছাড়া আর অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না।
তৃণমূলে অভিষেকের উত্থানে অনেকেই বিমুখ হয়ে গিয়েছেন। তার প্রভাব পড়ছে সংগঠনে। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করে, মুকুল রায় থেকে সৌমিত্র খান, অর্জুন সিং-সহ অনেকে নেতাকে অভিষেকের কারণে হারাতে হয়েছে। আবার শুভেন্দু অধিকারীর মতো অনেক নেতা তৃণমূলে থেকেও যোগ্য সম্মান পাচ্ছেন না, তাঁদের গুরুত্বের আসনে বসতে দেওয়া হচ্ছে না, ওই অভিষেকের কারণেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের গুরুত্ব বাড়াতে গিয়ে আদতে দলেরই ক্ষতি করছেন বলে আঙুল তুলেছেন অনেকে। বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খান তো প্রতিদিনই নিয়ম করে বিঁধছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পিছন থেকে অভিষেককে তুলে ধরতে চাইছেন, দলে যোগ্যতা কোনও মান নেই। যোগ্য ব্যক্তিরা কোনও গুরুত্ব পাচ্ছেন না দলে। তাই তাঁরা হয় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন, নতুবা দল ছেড়ে দিচ্ছেন।
 অর্জুন সিং অভিষেককে নেতা মানতে তাঁর আপত্তির কথা এখন খুল্লামখুল্লা জানাচ্ছেন বিজেপিতে যোগ দিয়ে। তৃণমূলে থাকাকালীন তিনি মুখ বুজে ছিলেন। এখন তাঁর আর কোনও বাধা নেই। তিনি এজন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অভিষেককে গুরুত্ব দিতে গিয়ে তিনি অন্যদের কথা ভাবেননি।

Related Articles

Back to top button
Close