fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

”কোন পথে হাঁটব, ঠিক জানাব, নন্দীগ্রামের পবিত্র মঞ্চ রাজনীতির জায়গা নয়’, বড়সড় ইঙ্গিত শুভেন্দুর

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ক্ষমতার লোভে নয় মানুষের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করেছি। এই আন্দোলনে শুভেন্দু অধিকারীর আন্দোলন ছিল না মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল বলেই তিনি আর জনসমাবেশ থেকে বার্তা দেন।”আমি জানি সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অপেক্ষা করে আছেন। তারা আমার মুখ থেকে কিছু শুনতে চান। আমি বলব। সব বলব। রাজনীতিতে সেই পথেই এবার হাঁটব যেখান দিয়ে গেলে আমাকে আর হোঁচট খেতে হবে না। তবে আজ আমি রাজনৈতিক মঞ্চে আসিনি। নন্দীগ্রামের এই পবিত্র মঞ্চ রাজনীতির জায়গা নয়। এখান থেকে আমি কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেব না। রাজনীতির কথা সময় মতো বলব। আর সেটা বলব রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে।” শুভেন্দু অধিকারী কথাগুলো বলার পরই হাততালিতে ফেটে পড়ে নন্দীগ্রামের অরাজনৈতিক মঞ্চ।

নন্দীগ্রামের শহীদ দিবসকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার একই দিনে জোড়া সমাবেশ তৃণমূলের। একটি ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ডাকে যার নেতৃত্বে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আবার বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারের সমাবেশ। সম্প্রতি তৃণমূলের প্রতীক ছাড়াই একের পর এক সভা করতে দেখা যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী কে। আজ গোকুলনগর এরপর পল্লীতে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে জনসভা থেকে বক্তব্য রেখে শুভেন্দু অধিকারী বলেন আমি নতুন লোক নই চেনা বামুনের পইতে লাগেনা।

এরপরই তার সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন ভোটের আগে এলেন ভোটের পরেও তো আসতে হবে। খুব ভালো লাগছে ১৩ বছর পর নন্দীগ্রামের কথা মনে পড়েছে জয় জয় নন্দীগ্রাম বলে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। রাজনীতির মঞ্চে দেখা হবে। সমর্থকদের উদ্দেশে অনুগামীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন সঙ্গে আছেন তো? শুভেন্দু অধিকারী কাউকে ভয় পায় না বলে জনসমাবেশ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি ছুঁড়ে দিলেন। তার সভা থেকে জয় শ্রীরাম ধ্বনিও শোনা গিয়েছিল। এমনকি তিনি সর্বশেষে ভারতমাতা জিন্দাবাদ বলেছেন।

ভূমি উচ্ছেদ কমিটির ব্যানারে কেন শুভেন্দু সভা করছেন সেই প্রশ্ন গতকাল সোমবার তুলেছিলেন পুরমন্ত্রী ববি হাকিম। নন্দীগ্রামের হাজরাকোটে তাই আজ পাল্টা সভাও রেখেছে তৃণমূল। ববি, পূর্ণেন্দু-দোলারা সেই সভায় সম্ভবত থাকবেন। কার্যত সেই সভার দিকেই ইঙ্গিত করে শুভেন্দু বলেন, “বাহ রে বাহ! ১৩ বছর পরে নন্দীগ্রামকে মনে পড়েছে? ভোটের আগে আসছেন। ভোটের পরে আসবেন তো?” এ কথা যখন তিনি বলছেন, দেখা যাচ্ছে তাঁর শরীরের ভাষা বদলে যাচ্ছে। চোয়াল শক্ত, হাতের মুঠো উঁচিয়ে ধরেছেন। সেই সঙ্গে বলেন, “লড়াইয়ের মাঠে দেখা হবে। রাজনীতির মঞ্চে দেখা হবে। কি, আপনারা সঙ্গে আছেন তো?” ওমনি জবাব আসে ভিড় থেকে। শুধু তা নয়, এদিনের বক্তৃতায় কাকে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দু এ কথা বলেছেন, কে জানে! তিনি বলেন, “ক্ষমতার দম্ভ নিয়ে রাজনীতি করিনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করেছি।” সভার শেষে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই ‘ভারত মাতা’র নামে স্লোগান তোলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। সকাল থেকে গভীর আগ্রহে রাজ্যবাসী বসেছিল শুভেন্দু অধিকারীর সভা থেকে কি বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যের মধ্যে অনেক কিছুই প্রকাশ পেল। দশই নভেম্বর নন্দীগ্রামে সূর্যোদয়ের বর্ষপূর্তি। শহীদ সম্মান জানাতেই শুভেন্দু বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন। জনসভা থেকেই তিনি স্পষ্ট বলেও দিলেন আমি জানি সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অপেক্ষা করে আছে আমার মুখ থেকে কিছু শুনতে চাইছেন আমি বলব এবার আমি কোন পথে হাঁটবো কিন্তু সেটা রাজনৈতিক প্লাটফর্মে।

আরও পড়ুন: শুভেন্দু অধিকারী বনাম ফিরহাদ হাকিম, সূর্যোদয় দিবসের বর্ষপূতিতে তিন সভা ঘিরে তপ্ত নন্দীগ্রাম

কোন পথে হাঁটতে চাইছেন তিনি? তৃণমূলে কি তাহলে তিনি থাকছেন না? বিজেপিতে যোগদান করছেন? না নিজেই কোন নতুন দল তৈরি করছে নির্বাচনের আগে? তার বক্তব্যের পর তো স্বভাবতই এই প্রশ্নগুলো উঠছে। যার ফলে আবারও নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিলেন আজ শুভেন্দু অধিকারী। আজকের জনসভায় জনসমর্থন ছিল চোখে পড়ার মতো। তার প্রত্যেকটি কথার পর হাততালিতে ফেটে পড়ে নন্দীগ্রামের ও শুভেন্দু অধিকারীর মঞ্চ।

দুর্গা পুজোর আগে থেকেই নিজের জেলায় এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক মঞ্চে শুভেন্দু একের পর এক সভা করে যাচ্ছে আর তাতেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তৈরি হচ্ছে। তৃণমূলের রং চিহ্ন কোন কিছুই ব্যবহার করছে না শুভেন্দু। অরাজনৈতিক ব্যানারে পরপর সভা করা নিয়ে তৃণমূল নেতারা প্রশ্নও তুলেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর ব্যানার-পোস্টার নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বিভিন্ন জায়গায় বাড়ছে।

তাহলে তার অনুগামী এবং সমর্থকদের সঙ্গে বাড়ছে তা শাসক দল আচ করতে পারছে। দ্বন্দ্ব চলছে তা অনেকদিন আগেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। আজ তার বক্তব্যের শুভেন্দু অধিকারীর দলবদল এর জল্পনা যেন আরও গাঢ় হয়ে গেল। তিনি আজ বলেছেন তিনি কোন পথে এগোবেন। শুভেন্দু অধিকারী তিনি এখন কোন পথে এগোবে সেই দিকেই তাকিয়ে রইল বঙ্গবাসী।

Related Articles

Back to top button
Close