fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধায় তমলুকে ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : চিন সীমান্তে দেশের জন্য যখন ভারতীয় শহীদ সেনারা রক্ত ঝরাচ্ছেন তখন তাঁদের সেই মহান কীর্তিকে সম্মান জানিয়ে দেশবাসীর জন্য ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন করলো সতের জন ভারতীয় যুবক। সেই রক্তদানে কোনো আড়ম্বর ছিলো না, ছিল না লাঞ্চ প্যাকেট, কোনো দামী গিফটও ছিলোনা। ছিলো ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।

 

 

এক অন্যরকম মানবিকতার পরিচয় দিয়ে কোরোনা সংকটের মধ্যেও মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির আহ্বানে সাড়া দিয়ে তমলুক জেলা হাসপাতালে ‘ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন’ ক্যাম্পে ১৭ জন রক্তদান করলেন। তমলুক ব্লাডব্যাংকে মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্রের এটি ছিলো তৃতীয় ইন-হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প। তবে বেশ কয়েকজন রক্ত দিতে পারলেন না। তাই আবার জুলাই মাসে একটা শিবিরের আয়োজন করে ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প হবে।

 

 

এদিন রক্তদান শিবিরে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করতে উপস্থিত ছিলেন মৌসম মজুমদার, সংগঠনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক কৃষ্ণপ্রসাদ ঘড়া, অরুণ কুমার সাউ, অলক গাঁতাইত, চন্দন মন্ডল, অলোক মাইতি, কমলিকা সামন্ত, সৌমেন গায়েন সহ অন্যান্য সংগঠকগণ। কুইজ কেন্দ্রের পক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক সুজন বেরা ও সভাপতি রিংকু চক্রবর্তী সমস্ত রক্তদাতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। এদিন সবুজায়নের বার্তা দিতে কুইজ কেন্দ্রের চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী সমস্ত রক্তদাতাদের হাতে একটি করে চারাগাছ উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।

 

 

‘ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প’ সরকারী ভাষাটা অনেকটা এরকম, ক্যাম্প না করে সংঠনগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে সরাসরি ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্তদান করা। সংস্থার পক্ষ থেকে প্রথমবার গত ২৮ মে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প সূচনা করেন। ওইদিন রক্তদান করেন ১ জন মহিলা সহ মোট ১২ জন রক্তদাতা। এরপর দ্বিতীয় পর্বের ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প হয়েছিল সংস্থার হলদিয়া শাখার উদ্যোগে হলদিয়া ব্লাড ব্যাংকে। সেদিন ১১ জন রক্তদাতা রক্ত দান করেন। এরপর সংস্থার উদ্যোগে বুধবার তমলুক ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে এদিন ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প দিন স্থির করা হয়। এদিন ১৭ জন রক্ত দান করেন।

 

 

সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মৌসম মজুমদার বলেন, ‘সাধারণত যে ধরনের রক্তদান শিবির হয়ে থাকে, ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প একটু আলাদা। সরাসরি ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্তদান করা।’ এদিন ১৭ ইউনিট জমা হওয়া রক্তের মধ্যে ৩ ইউনিট রক্ত তমলুক হাসপাতালের ৩ জন রোগীর পরিবারকে সরাসরি তুলে দেওয়া হয় ব্লাডব্যাংকের মাধ্যমে। লকডাউন সময়কালে সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের আয়োজন না করে এইভাবে ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের মাধ্যমে একদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা থাকলো, অন্যদিকে মানুষের প্রয়োজন মেটানো হোলো।

 

 

‘জীবনের জন্য রক্তদান’ এই মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি লকডাউনের সংকটকালে ব্লাড ব্যাংক গুলোতে সামর্থ্য মতো রক্তের যোগান দেবার সংকল্প নিয়ে ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প শুরু করেছে। সংস্থার সদস্য এবং শুভানুধ্যায়ীরাই পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সর্বোপরি, সীমান্তে আমাদের দেশকে রক্ষার জন্য ভারতীয় সেনারা নিরন্তর রক্ত ঝরিয়ে যাচ্ছে। মৃত্যুবরণ করছে। তাঁদের সম্মানার্থে এভাবেই রক্ত দিয়ে স্যালুট জানালো মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্যরা।

 

 

এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র বাবা মাকে লুকিয়ে, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে রক্তদান করে গেল। পাশাপাশি বার্তা দিয়ে গেল, যুব সমাজের মানসিকতা বদলে যাচ্ছে। তাঁরা সবাই উপহার পাওয়ার লোভে রক্ত দেয়না। তাঁরা মানবিকতার পরিচয় দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তৈরি।

Related Articles

Back to top button
Close