fbpx
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশহেডলাইন

হাসিনা সরকারের অযোগ্যতা আর ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে : তারেক রহমান

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা : চলমান করোনাভাইরাস ও ঘূর্ণিঝড় আমফানের কারণে সৃষ্ট সংকটে হাসিনা সরকারের অযোগ্যতা আর ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অস্থায়ী চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

ঈদ-উল ফিতর এবং সাম্প্রতিক বিষয়াবলী নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, একদিকে করোনা ভাইরাস আতংক অন্যদিকে খাদ্যাভাবে ঘরবন্দী অসংখ্য, অগণিত মানুষের হাহাকার। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আমফানের আঘাতে জনজীবনে নতুন করে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এমন অমানবিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় সময়ের দাবি হলো দলীয়-রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রদর্শন। সতর্কতা, সহায়তা, মানবিকতার চেতনায় অসহায় মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।

 

 

তিনি বলেন, এক অদৃশ্য শত্রুর মোকাবেলায় প্রতিটি দেশ নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিয়েছে যে দেশের সরকার যত বেশি জবাবদিহিমূলক জনবান্ধব গণমুখী এবং দায়িত্বশীল সেই সব দেশের নাগরিকগণ নিজেদেরকে ততবেশি নিরাপদ মনে করেন কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জবাবদিহিমূলক কিনা কিংবা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত এ নিয়ে নাগরিকদের মনে রয়েছে এক বিরাট প্রশ্ন।

 

 

খালেদার অসুস্থতার কারণে দলের প্রধানের দায়িত্ব পাওয়া তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কোটি কোটি পরিবারের দিন কাটছে অধ্যাহার এবং অনাহারে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভীতি উপেক্ষা করে একমুঠো খাবারের আশায় অসহায় মানুষ নেমে আসছে রাজপথে। বাড়ছে বুভূক্ষ মানুষের হাহাকার, দেশে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতিতেও সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা মেতেছে ত্রাণের চাল চুরির উৎসবে। নানা কৌশলে আত্মসাৎ করেছে অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্দ সরকারি টাকা। সরকারিভাবে গরিব কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের জন্য করা তালিকাতেও চলছে জালিয়াতি। মানুষের এমন ঘোর বিপদ কালেও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের চুরি-দুর্ণীতি প্রমাণ করে এই দল এবং সরকার এখন সম্পূর্ণভাবে লুটেরা পরিবেষ্ঠিত।

তিনি বলেন, শাসক দলের দাবি গত এক দশকে তারা নাকি বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি মডেল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তবে করোনার করালগ্রাস যখন মানুষকে মানবিক হতে শিখিয়েছে ঠিক সেই সময়টিতে বাংলাদেশে যখন গরিব মানুষের ত্রাণ চুরির কারণে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সংবাদ শিরোনাম হয় তখন নাগরিকদের মনে প্রশ্ন জাগে বাংলাদেশ কাদের কাছে কিসের রোল মডেল। চাল চুরির নাকি গরীবের ত্রাণ চুরির?

 

 

তারেক রহমান বলেন, একদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতংক আর অপ্রতুল চিকিৎসা ব্যবস্থা অপরদিকে অসংখ্য মানুষের ঘরে ঘরে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর অভাব এমন পরিস্থিতিতে মানুষের প্রতিটি দিন কাটছে ভয়-ভীতি এবং আতংকে। তাই আপাতত এই সময়ে ক্ষমতাসীনদের অপকৃতি, অনাচারের দীর্ঘ ফিরিস্তি তুলে ধরতে চাইনা, তবে লকডাউনের এই দু:সময়টিতে মানুষের যখন অর্থনৈতিক সহায়তা ভীষণ প্রয়োজন তখন ক্ষমতাসীনদের কয়েকটি মেগা লুটপাটের ঘটনা উল্লেখ না করলেই নয়।

 

 

তিনি বলেন, গত এক দশকে দেশ থেকে পাচার হয়ে গেল প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড থেকে লোপাট হয়ে গেল ৫শ’ কোটি টাকারও বেশি। বাংলাদেশের এই মুহুর্তে খেলাপী ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ্ কোটি টাকা। সরকারের প্রপ্রয়ে একটি ব্যাংকের মূলধন পর্যন্ত হজম করে ফেলা হয়েছে। শেয়ার বাজারের শত শত কোটি টাকা যারা লুট করেছে তারা সর্র্ম্পণভাবে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। খোদ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় লুটেরা দল এভাবে দেশের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার এবং লুটপাট করার সুযোগ না পেলে জনগণকে হয়তো বর্তমানে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাতে হতো না।

Related Articles

Back to top button
Close