fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

৪১টি মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভাকে টার্গেট! সংখ্যালঘু ভোট পেতে সদস্য বাড়ানোয় জোর বিজেপির

মোকতার হোসেন মন্ডল: ৪১টি মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভাকে টার্গেট করে সংখ্যালঘু ভোট পেতে সদস্য বাড়ানোয় জোর দিচ্ছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার দলটির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ একাধিক রাজ্য নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে বিজেপির মাইনোরিটি মোর্চার রাজ্য সভাপতি জানান, দলের সিদ্ধান্ত মেনে ৪১টি মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভায় কুড়ি লক্ষ সদস্য সংগ্রহ করা হবে। আলি হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, রাজ্যে বিরাট সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোট। আগামী ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এলাকায় এলাকায় গিয়ে বিজেপির কর্মী বাড়ানো হবে।

মুসলিম ভোট ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা যে সম্ভব নয় তা জানেন বিজেপি নেতৃত্ব। মুকুল রায় তো বটেই, সম্প্রতি দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহারাও মুসলিম ইস্যুতে কথা বলছেন। বিজেপির এক নেতা জানান, আগামী বিধানসভা ভোটে প্রায় ২৭টি আসনে মুসলিম প্রার্থী দিতে পারে দল। এমনকি সংখ্যালঘু কাউকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে মুখ করেও দল প্রচার করতে পারে। বিজেপি নেতা কাসেম আলি বলেন, বাংলায় মুসলিম ভোট একটা ফ্যাক্টর এটা অস্বীকার করতে পারিনা। দলে যোগ্যদের জায়গা হবে। আগামী বিধানসভা ভোটে বিজেপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে মুসলিম ভোট। তৃণমূল সরকার সংখ্যালঘুদের জন্য কী কাজ করেছে আর কিভাবে ঠকিয়েছে তাও জনগণকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন: শয্যাশায়ী পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী বৃদ্ধ স্বামী

আসলে এ রাজ্যে একশোর অধিক আসনে মুসলিম ভোট বড় ফ্যাক্টর। আবার আদিবাসী, দলিত,মতুয়া,নম:শূদ্র, রাজবংশী ভোট যে লোকসভার মতো দখলে থাকবে এমনটাও হলফ করে বলা যাবে না। বিশেষত তিনটি উপনির্বাচনে যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছেন তাতে বিজেপি নেতাদের অনেকে চিন্তিত। সেই জন্য নতুন কৌশল নিচ্ছে বিজেপি। অনেকে বলছেন, মুকুল রায় বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বকে এটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, বাংলায় সংখ্যালঘু ভোট নিজের দখলে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে একাধিক কৌশল নিচ্ছে বিজেপি।
জানা যাচ্ছে, মুসলিমদের বৃহত্তর অংশ বিজেপিতে না এলেও কিছু লোককে মুখ করে প্রচার করা হবে। তাছাড়া মুসলিম ভোটের উপর নির্ভরশীল এমন কিছু রাজনৈতিক দল ভোটে দাঁড়ালে ভোট কাটাকাটির অঙ্কে বিজেপির সুবিধা হবে।

মুসলিম ‘বঞ্চনা’ নিয়ে কথা বললে একটা অংশের ভোট বিজেপিতে না এলেও বাম-কংগ্রেসে গেলেও তৃণমূলের ভোট কমবে। আবার মুসলিম মন জয় করতে পারলে কোনও বিধানসভায় দশ শতাংশ ভোট টানতে পারলেই হিসাব ওলট পালট হতে পারে। কিন্তু বিজেপি সম্পর্কে মুসলিমদের যে ধারণা তৈরি হয়েছে তাতে বিজেপি এই সমাজের অন্দরে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে কাসেম আলি বলছেন, আমরা চেষ্টা করছি ভুল ধারণা ভাঙতে। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় নেই,তাহলে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে পিছিয়ে কেন? শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ জানেন, কোন সরকারের আমলে কত চাকরি হয়েছে।

কিন্তু একাধিক বিজেপি নেতা যেভাবে সংখ্যালঘু মুসলিমদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন, যেভাবে মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের নামে ‘মিথ্যা’মামলার অভিযোগ উঠেছে তাতে মুসলিম সমাজ বিজেপিতে কতটা আসে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

Related Articles

Back to top button
Close