fbpx
অসমখেলাগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

তরুণ গগৈকে মনে রাখবে অসমের ক্রীড়াঙ্গন

তাজ উদ্দিন, শিলচর: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের খেলাধুলো আয়োজনে দেশের মধ্যে অসম‌ও একটি উল্লেখযোগ্য নাম। গুয়াহাটিকে দেশের ক্রীড়া রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার কথা বারবার বলে আসছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তবে এমনটা না বললেও ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নতিতে যথেষ্ট কাজ করেছেন অসমের সদ্য প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর গুয়াহাটিতে পরলোকগমন করেছেন ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা তরুণ গগৈ।

২০০৬ সালে দ্বিতীয় দফায় কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন গগৈ। এর পরের বছরই রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হল ৩৩তম ন্যাশনাল গেমস। অলিম্পিক স্টাইলের ন্যাশনাল গেমস আয়োজন সত্যিকার অর্থে অনেক কঠিন ব্যাপার। এতে গগৈ সরকার পুরো মেশিনারি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সফল আয়োজনের মাধ্যমে আর মান সম্মান বাড়িয়ে দিয়েছিল। তরুণ গগৈ স্বয়ং ছিলেন অসম অলিম্পিক সংস্থার সভাপতি। সরুসজাইয়ের ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়াম‌ও ২০০৭ সালে চালু হয়। গড়ে ওঠে অনেক ক্রীড়া পরিকাঠামো। সরুসজাই স্টেডিয়ামের মতো পরিকাঠামো দেশের অনেক বড় শহরেও নেই। এই  স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে রয়েছে অসমের নিজস্ব আই এস এল দল। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ালিফাইং রাউন্ডের ম্যাচ‌ও হয়েছে এই স্টেডিয়ামে। পরবর্তীতে সর্বা সরকারের সময় ২০১৭ সালে হয়েছে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল।

২০১৬ সালে স্টেট গেমস হয় শিলচরে। গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এশিয়াডে পদকজয়ী শ্যুটার জয়দীপ দাসের হাতে মশাল তুলে দিচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। (ফাইল চিত্র)

তরুণ গগৈ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ২০০৭ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত চারটি ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে গুয়াহাটির নেহরু স্টেডিয়ামে। তখন অসম ক্রিকেট সংস্থার (এ সি এ) সভাপতি পদে ছিলেন মন্ত্রী গৌতম রায়। রাজ্য সরকারের প্রধান হিসাবে প্রতিবারই ম্যাচ আয়োজন করার ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা এ সি এ-র মুখ্য পৃষ্ঠপোষক তরুণ গগৈ। শুধু তাই নয়, ২০০৪ সালে বর্ষাপাড়ায় শুধুমাত্র ক্রিকেটের জন্য গড়ে ওঠা স্টেডিয়ামের শিলান্যাস হয়েছিল তরুণ গগৈর হাত দিয়ে। এ সি এ সচিব দেবজিৎ শ‌ইকিয়া জানান, গগৈ সাহেবের মৃত্যুতে তারা শোকার্ত। সোমবার থেকে শুরু করে তিনদিন সংস্থার পতাকা অর্ধনমিত রেখে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে।

কথা হচ্ছিল অসমের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অজিত সিংয়ের সঙ্গে। তরুণ গগৈ তাঁকে এই দায়িত্ব দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার ক্রীড়া পরিকাঠামো সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শনের নির্দেশ‌ও দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী অজিতবাবু গিয়েছিলেন বিভিন্ন জায়গায়। রাজীব গান্ধী মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে বিভিন্ন মাঠের উন্নতি ঘটানো হয় সেই সময়। এমনকী চা বাগানগুলিতে সি এম কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছিল। অজিতবাবু এই প্রতিবেদককে ( Md Taz Uddin ) আরও বলেন, বরাক উপত্যকায় প্রাক্তন খেলোয়াড়দের মধ্যে স্পোর্টস পেনশন প্রাপকদের সংখ্যা তাঁর সময়েই বৃদ্ধি হয়েছিল।

২০১৬ সালের শুরুর দিকে শিলচরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল তৃতীয় অসম স্টেট গেমস। এই আয়োজনে পূর্ণ সহযোগিতার পাশাপাশি উদ্বোধনে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ।

প্রসঙ্গত, স্টেট গেমস বা রাজ্য অলিম্পিকের ধারাবাহিকতা আর থাকেনি। আগামীতে এমন একটা আসর ফিরে আসুক, সেটা রাজ্যের ক্রীড়াপ্রেমীরা অবশ্যই চাইছেন। শিলচর ডি এস এ-র তদানীন্তন সচিব এবং বর্তমান সভাপতি বাবুল হোড় জানান, স্টেট গেমস ( Assam State Games) আয়োজন করার জন্য ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ( Tarun Gogoi )।

ফুটবল, ক্রিকেট ও টেনিস খেলতেন তরুণ গগৈ। তবে বড় মাপের আসরে খেলা হয়নি তাঁর। মূলত শরীরচর্চার কথা মাথায় রাখে খেলতেন। পরের দিকে গলফ খেলাও শুরু করেন। একজন খেলোয়াড়‌ই খেলাধুলাকে প্রমোট করতে পারেন। দেখাতে পারেন খেলোয়াড়ি মানসিকতা।

এই খেলোয়াড়ি মানসিকতার একটি উদাহরণ হল ২০১৬ সালের সাউথ এশিয়ান গেমস। একইসঙ্গে শিলং এবং গুয়াহাটিতে হয়েছিল সেই আসর। সেই সময় কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রী ছিলেন সর্বানন্দ সোনোয়াল, অসমের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। একজন বিজেপির, আরেকজন কংগ্রেসের। সবচেয়ে বড় কথা হল, ফেব্রুয়ারিতে যখন আসর বসেছিল তখনই ঠিক হয়ে গেছে, এপ্রিল-মে মাসের নির্বাচনে দুই শীর্ষ দলের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হয়ে সম্মুখ সমরে নামতে হবে উভয়কে। কিন্তু গোটা দক্ষিণ এশিয়া তথা বিশ্বের দরবারে অসমের মান উঁচুতে তুলে ধরতে উভয়ে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেছিলেন। একটা সফল গেমস আয়োজন করেছিল অসম। তাই, ক্রীড়াক্ষেত্রে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সোনোয়াল সত্যিকার অর্থে তরুণ গগৈ এর মাধ্যমে একজন আদর্শ পূর্বসূরি পেয়েছিলেন, সেটা অবশ্যই বলা যায়।

Related Articles

Back to top button
Close