fbpx
অসমহেডলাইন

কালাইনে দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গণপিটুনির পর গ্ৰেফতার শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কাটিগড়া: ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপকের কুকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বরাক উপত্যকায় ঘটে গেল আরও এক গণিত শিক্ষকের কুকাণ্ড। নিজের ছাত্রীকে ধর্ষণ করে গণ পিটুনির শিকার হলেন কালাইন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষক কৌশিক নাথ।সোমবার সকালে ন্যাক্কারজনক এমন ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্ৰেফতার করেছে পুলিশ।ধর্ষিতাকে পাঠানো হয়েছে শিলচরের এক হোমে। এনিয়ে কালাইন এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ চা বাগান সম্প্রদায়ের মানুষ।

কাছাড়ের কালাইন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক কৌশিক নাথ।ছাত্র ছাত্রীদের গণিত পড়ান তিনি। করোনা আতঙ্কে সমস্ত রাজ্যে স্কুল, কলেজ, প্রাইভেট টিউশন সব কিছু বন্ধ থাকলেও কৌশিক নাথ নামের ওই শিক্ষক নিজের বাড়িতে যেন স্কুল খোলে বসেছেন।কালাইন ব্রাহ্মণ গ্রামে কৌশিক নাথের বাড়ি। ওই বাড়িতেই প্রতিদিন বসে প্রাইভেট টিউশনের আসর। সোমবার এক ছাত্রীর সঙ্গে কুকাণ্ড করে বসেন গণিতের এই স্যার। চা বাগান সম্প্রদায়ের এক ছাত্রীকে গণিতের স্যার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনা সামনে আসতেই হইচই পড়ে যায়। ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন একাংশ লোক। অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে চড়াও হন লোকজন। অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বাহিরে বের করে দেওয়া হয় উত্তমমধ্যম। গণিতের স্যারকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় কিল- ঘুষি, চড়-থাপ্পড়, লাথি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কালাইন পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় কাটিগড়া থানায়।

ধর্ষক স্যারের পিছুপিছু কাটিগড়া থানা মুখো হন কালাইন চা বাগান এলাকার বেশ কিছু লোকও। কাটিগড়া মডেল হাসপাতালে অভিযুক্ত স্যারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর থানায় নিয়ে গিয়ে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। ততক্ষণে থানার বাহিরে বহু লোকের ভিড় জমে যায়। ছিলেন কালাইন মণ্ডল বিজেপির সভাপতি নিত্যগোপাল, আঞ্চলিল পঞ্চায়েত সভাপতি কার্তিক তাঁতি,কালীবাড়ি জিপির আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সদস্যা মণিরাণি বাগতি। একসময় নিজের ধর্ষিতা মেয়েকে নিয়ে থানায় পৌঁছান তাঁর মা, বাবা। দেওয়া হয় এজাহার। ধর্ষিতার বাবার দেওয়া এজাহারে বলা হয়েছে, তাঁর মেয়ে মণিকা তাঁতি (আসল নাম নয়) কালাইন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

স্কুল বন্ধ থাকায় ওই স্কুলের শিক্ষক কৌশিক নাথ নিজের বাড়িতে ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ান। সোমবার সকালে ওই শিক্ষকের বাড়িতে পড়তে যায় তাঁর মেয়ে মণিকা। আর তখন তাঁর নাবালিকা মেয়েকে ডেকে নিয়ে একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে বলপূর্বক ধর্ষণ করেন শিক্ষক কৌশিক নাথ। মেয়েটি সেখান থেকে বাহির হয়ে বিষয়টি আশপাশের লোকদের জানায়। এজাহারে এমনটাই বলা হয়েছে। পুলিশ এজাহার গ্রহণ করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্ৰেফতার করেছে। শিক্ষকের হাতে ধর্ষিতা ছাত্রীকে শিলচরের এক হোমে পাঠানো হয়েছে।একজন শিক্ষকের হাতে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা চাউর হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

কালাইন পুলিশ পেট্রোল পোস্টের ইনচার্জ স্যারসিং টেরং জানান, অভিযোগ পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে বর্তমানে থানায় রাখা হয়েছে।ঘটনার তদন্ত চলছে।এ ঘটনা নিয়ে চা বাগান সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।অল আদিবাসী স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব আসাম এর বরাকভ্যালি কো-অডিনেশন কমিটির সভাপতি শীলাস মুন্ডা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। ঘটনার তদন্তে কোন ধরণের অবহেলা করা হলে ছাত্র সংস্থা বসে থাকবে না বলে হুঙ্কারও দিয়েছেন মুন্ডা।ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে কালাইনের এক শিক্ষকের হাতে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসতেই সমস্ত কাটিগড়াজুড়ে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

সন্ধ্যায় ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশিক নাথের পরিবারের লোকজন থানায় পৌঁছান। পাল্টা মামলা দায়ের করেন তাঁরা। কৌশিক নাথের স্ত্রী সবিতা নাথের অভিযোগ এদিন কালাইন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের এসএমডির সভায় ছিলেন তাঁর স্বামী। ওখান থেকে ডেকে নিয়ে তাঁর স্বামীকে মারপিট করা হয়। ধর্ষণের অভিযোগ সাজানো বলেও জানান তিনি।

Related Articles

Back to top button
Close