fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনের মধ্যেই আসানসোল জেলা হাসপাতালে সদ্যোজাতের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: লকডাউনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সদ্যোজাতের মৃত্যুতে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসার গাফিলতির কারণে ওই সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে, এই অভিযোগে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিক্ষোভও দেখান। খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ হাসপাতালে আসে। বাড়ির লোকেরা পুলিশের সামনেও বিক্ষোভ দেখান। পরে তারা হাসপাতালের সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাসের কাছে গিয়ে সদ্যোজাতের মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতিতে সরব হন। পরিবারের তরফে সুপারকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়।

একই অভিযোগ আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা সিএমওএইচকেও দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আসানসোলের ডামরার বাসিন্দা শিপ্রা খাঁকে গত রবিবার ১৬ আগস্ট রাতে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন তিনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক শিশুপুত্রের জন্ম দেন। সেই সময় হাসপাতালে থাকা শিপ্রাদেবীর মা বনশ্রী সাঁধুকে প্রসূতি ও সদ্যোজাতকে দেখানোর পরে অপারেশন থিয়েটার থেকে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। বুধবার রাত এগারোটার সময় শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে এসএনসিইউ বা সিক নিউনেটাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার সময় বাড়ির লোকেদের ডেকে এসএনসিইউয়ের চিকিৎসক বলেন, সদ্যোজাতর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। সকাল এগারোটার সময় চিকিৎসক বাড়ির লোকেদের বলেন, শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরপরই বাড়ির লোকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন।

আরও পড়ুন:টিএমসির গণতন্ত্র ধ্বংসের রাজনীতি বিজেপি শেষ করবে

পরে এই ঘটনা প্রসঙ্গে বনশ্রী সাঁধু অভিযোগ করে বলেন, শিশু ও মা দুজনেই ভালো ছিল। বুধবার রাত এগারোটার সময় শিশু হঠাৎ কাঁদতে শুরু করে। আমি বলায়, তাকে এসএনসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন সকালে প্রথমে আমায় বলা হয়, শিশুর অবস্থা ভালো নয়। আপনারা থাকুন। তারপর ঘন্টা খানেক পরে বলা হয়, সকাল সাড়ে আটটার সময় শিশু মারা গেছে। আমরা হতবাক হয়ে যাই। তিনি আরও বলেন, সকালে প্রথমেই বলতে পারত যে, শিশুর শারীরিক অবস্থা খারাপ। তাহলে আমরা বাইরে কোথাও নিয়ে যেতে পারতাম। ওয়ার্ডে ভর্তি থাকার সময় একবারও চিকিৎসক দেখতে আসেননি বা রাউন্ড দেননি। দুদিন আগে শিশুকে ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়। আজ বলা হয়েছে, শিশুর সুগার লেভেল নেমে গেছিল। সংক্রমণ বা ইনফেকশনও হয়েছে। আমার প্রশ্ন, কিভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করা হোক। আমাদের বক্তব্য, চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছে।

সুপার বলেন, অভিযোগের তদন্ত করে দেখা হবে। বাড়ির লোকেদের সদ্যোজাতের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা রাজি হননি।

Related Articles

Back to top button
Close