fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সদ্যোজাতর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে

মিল্টন পাল, মালদা: সদ্যোজাতর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ালো মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। চিকিৎসার গাফিলতিতে শিশুর মৃত হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, তাদের সদ্যোজাতকে বদলে মৃত শিশু দেখানো হয়েছে। আর এই ঘটনাকে ঘিরে শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত মেডিকেল কলেজের “মাতৃমা” বিভাগের সামনে চলে সদ্যোজাত শিশুর পরিবারের লোকেদের বিক্ষোভ । এমনকি মেডিকেল কলেজের এক স্বাস্থকর্মীকেও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। উত্তেজনার খবর পেয়ে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত সদ্যোজাত শিশুর পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ ও মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে মেডিকেল কলেজের মাতৃমা বিভাগে ভর্তি হন মালদা শহরের গয়েশপুর এলাকার গৃহবধূ নাসরিন পারভীন । শুক্রবার রাতে সদ্যোজাত পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। কিন্তু সেই শিশুটি মৃত অবস্থা জন্ম হওয়ার পর বিষয়টি পরিবারের লোকেদের জানাতে গেলেই বিক্ষোভ চরমে ওঠে । হেনস্থা করা হয় মেডিকেল কলেজের এক স্বাস্থ্যকর্মীকে। এরপরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেডিকেল কলেজের নিরাপত্তারক্ষীরা ওই পরিবারটির সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হন নি বিক্ষোভকারীরা। চিকিৎসার গাফিলতিতে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি, সদ্যোজাত শিশু বদলে ফেলে মৃত শিশু দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন পরিবারে লোকেরা। আর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে চরম গোলমাল শুরু হয়।

ওই প্রসূতি মহিলার স্বামী সামীম হোসেন জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুর ১২ টায় আমার স্ত্রীকে ডেলিভারি করাবার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। রাত আটটার সময় আমাদের জানানো হয় মৃত সন্তানের জন্ম হয়েছে। কিন্তু প্রথমে আমাদের যখন শিশুটিকে দেখানো হয়েছিল তখন ওর হাত পা নড়ছিল। পরে হঠাৎ করে শিশুর মৃত্যুর কথা কর্তৃপক্ষ জানায়। তাই শিশু বদলের অভিযোগ তোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত অপারেশন থিয়েটারের লেবার রুমে প্রসূতি মহিলাকে প্রায় আটঘন্টা ধরে কেন ফেলে রাখা হল, তার জবাব চাওয়া হয়েছে। কিন্তু মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর দিতে পারি নি। আর এতেই পরিবারের লোকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিক্ষোভ দেখান। কিন্তু কাউকে হেনস্থা বা মারধর করা হয় নি।

ওই প্রসূতির পরিবারের অভিযোগ, মেডিকেল কলেজের একটি অসাধু চক্র কাজ করছে। যার ফলে জীবন্ত সদ্যোজাতকে মৃত হিসাবে দেখানো হয়েছে। এব্যাপারে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।

মালদা মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা: অমিত দাঁ জানিয়েছেন, যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে ওই প্রসূতির পরিবার যদি কোনো লিখিত অভিযোগ করে থাকেন তাহলে ক্ষতিয়ে দেখা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button
Close