fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মমতা ব্যানার্জীর তোষন নীতির জন্য পশ্চিমবাংলায় সন্ত্রাসবাদীরা আশ্রয় পাচ্ছে, তোপ কৈলাশ বিজয়বর্গীয়

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: ‘ পশ্চিমবঙ্গে সন্ত্রাসবাদীরা আশ্রয় পাচ্ছে। জঙ্গলমহলে নকশালবাদীরা সক্রিয় হচ্ছে। তারজন্য মমতা ব্যানার্জী ও রাজ্য সরকারের তোষননীতি দায়ী।’ বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই বিষ্ফোরক তোপ দাগলেন বিজেপির রাজ্য পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। পাশাপাশি তিনি কৃষি বিল নিয়ে তৃণমূল ও বিরোধীদের কড়া আক্রমন করে বলেন, কৃষি বিলের ফলে কৃষক ও মান্ডির মাঝখানে থাকা তৃণমূলের সোসাইটি, দালালদের ৯০০ কোটি টাকার ব্যাবসা বন্ধ হবে। তাই বিরোধীতা করছে।”

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে করোনা আবহের মধ্যে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হয়। আর শুরুতেই কৃষি সংশোধনী বিল পাশ হয়। এই বিলের বিরোধীতায় আসরে নেমেছে কংগ্রেস, সিপিএম সহ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে অভিনব কায়দায় আন্দোলন শুরু করেছে। তারমধ্যে বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে সাংগঠনিক কর্মসুচীতে এসে কৃষি বিল নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সম্পাদক তথা রাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। এছাড়াও ছিলেন মুকুল রায়।

এদিন কৃষি বিলে কৃষকদের সুবিধা তুলে ধরে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন, ” কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের নিজের জেলায়, মান্ডিতে বিক্রি করার যে বাঁধন পরানো ছিল, সেটা থেকে মুক্তি পেল। এই বিলের ফলে কৃষকরা তাদের ফসল যেখানে খুশী বিক্রি করতে পারবে। তাদের ফসলের আয় দ্বিগুন হবে। কৃষকরা চাষের সঙ্গে সম্মাজনক ব্যাবসার সুবিধা পাবে।” তিনি আরও বলেন, ” তারপরও বিরোধীরা এই বিলকে অপপ্রচার করছে। কৃষকদের বিভ্রান্ত করছে।” তিনি বলেন,” উৎপাদিত ফসলের চুক্তি রয়েছে। জমির কোন চুক্তির উল্লেখ নেই। তারপরও বিরোধীরা বিভ্রান্ত করছে চাষীদের।”

তিনি রাজ্যের তৃণমূলকে এক হাত নিয়ে বলেন, ” রাজ্য কৃষকরা ফসল সরাসরি মান্ডিতে বিক্রি করতক পারে না। মাঝে তৃণমূলের সোসাইটি, দালাল আছে। এই বিলের ফলে তৃণমূলের ওইসব দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। মান্ডি আর কৃষকের মাঝে তৃণমূলের ওই সব সোসাইটি দালালের ৯০০ কোটি টাকার ব্যাবসা হয়। এই বিল পাশে সেই ব্যাবসা বন্ধ হয়ে যাবে। দাললরা এতদিন চাষীদের শোষন করে এসেছে। এবার সেটা সমাপ্ত হবে। তাই বিরোধিতা করছে। কৃষকদের বিভ্রান্ত করছে। তারা চাষীদের কল্যান চায় না।” তিনি আরও বলেন,” কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কৃষক সম্মান নিধির তালিকা পাঠানের চিঠি দিয়েছে। এখন ওই খাতে ৮-৯ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। যাতে কৃষকরা সরাসরি ৬ হাজার টাকা কেন্দ্রের ওই প্রকল্পের সহায়তা পায়। কিন্তু রাজ্য চাইছে কৃষকদের সরাসরি দিলে হবে না। তাদের খাজনা বক্সে দিতে হবে। যাতে কাটমানি পাবে। কৃষকদের সরাসরি দিলে কাটমানি খাওয়া লোকেরা গায়েব হয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, ” কৃষকদের কল্যানের জন্য স্বামীনাথন আয়োগের সুপারিশ অনুসারে এই বিল করা হয়েছে।” কৃষি বিল নিয়ে মুকুল রায় বলেন,” কৃষি উৎপাদন ও বিপননের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক এই বিল কৃষকদের মুক্তির স্বাদ এনে দিয়েছে।” এদিন মুর্শিদাবাদের সন্দেহজনক আল কায়দা জঙ্গী ধরা পড়ায় বিএসএফের কর্তার নাম এনআইএর হাতে উঠে আসার প্রশ্নে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন,” যে দোষী হবে। তাতে রাজ্য কিম্বা কেন্দ্র সরকারের আধিকারিক জোক না কেন শক্ত হাতে তদন্ত হবে।”

প্রসঙ্গে রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ” আতঙ্কবাদীরা পশ্চিমবাংলায় যেভাবে আশ্রয় পাচ্ছে। জঙ্গলমহল মহলে নকশালবাদীর সক্রিয় হচ্ছে। তাতে রাজ্য সরকারের ভুমিকায় সন্দেহজনক। রাজ্যে আতঙ্কবাদী ও নকশালবাদী সক্রিয়তার জন্য হয়, তার জন্য দায়ী রাজ্য ও মমতা ব্যানার্জী তোষন নীতি। তার জন্য অশান্ত হচ্ছে রাজ্য।” তিনি বলেন, ” আগের নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জী নকশালবাদীদের মদত করেছিল। কিষেনজীর সঙ্গে সমাঝোতা করেছিল। নকশালবাদীরা মমতা ব্যানার্জীকে সহযোগিতা করেছিল। পরে কিষেনজীর কি হয়েছিল, সকলে জানে।” তিনি আরও বলেন,” রাজ্যে ঘোষিত একজন মাওবাদীকে জামিনে মুক্তি করিয়েছে। যার বিরুদ্ধে বহু হত্যার অভিযোগ তাকে নিজের পার্টির বড় রাজ্যস্তরে আসন দিয়েছে। সে পুলিশের সুরক্ষায় জঙ্গলমহল আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। মমতা ব্যানার্জী কুর্শীপ্রেমী। তাই কুর্শীর জন্য যে কাউকে ব্যাবহার করতে পারে।”

Related Articles

Back to top button
Close