fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পায়ে হেঁটে ৮০ কিমি পথ পেরিয়েও বাড়ি ফেরা হল না বীরভূমের ১৪ জন পরিযায়ী শ্রমিকের

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বাড়ি ফিরবেন বলে বেড়িয়েছিলেন ওরা। কিন্তু পায়ে হেঁটে ৮০ কিমি পথ পেরিয়ে আসার পরেও হল না বাড়ি ফেরা।

পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের সরকারি ত্রাণ শিবিরে ঠাঁই হল বীরভূমের নলহাটির ১৪ জন পরিযায়ী শ্রমিকের। প্রশাসন তাঁদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু কবে বাড়ি ফেরা সম্ভব হবে তার উত্তর এই পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে আজানাই রয়ে গেল।

হাওড়ার সাঁকরাইল থেকে পায়ে হেঁটে ১৪ জন পরিযায়ী শ্রমিক শনিবার দুপুরে পৌঁছন জামালপুর থানার জোড়বাঁধ এলাকায়। সুদীর্ঘ পথে পেরিয়ে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়া ওই শ্রমিকরা
জোড়বাঁধে গাছের ছায়ার নিচে শুয়ে পড়েন। ক্ষুদার্থ ও তৃষ্ণার্ত ওই শ্রমিকদের কাছে টাকা পয়সাও তেমন ছিল না।বাঁধ ধরে যাওয়া কয়েকজন মানুষকে দেখে শ্রমিকরা তাঁদের অসহায়তার কথা জানান।

ওই ব্যক্তিদের মাধ্যমেই পরিযায়ী শ্রমিকদের জোড়বাঁধে আসার কথা জানতে পারেন জামালপুর নিবাসী জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রামকৃষ্ণ চক্রবর্ত্তী।তিনি চিড়ে ,মুড়ি ,মুড়কি মিষ্টি ও পানীয় জল নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে পৌঁছন। রামকৃষ্ণবাবু ও তাঁর সহকর্মীরা মিলে সেই সব খাবার পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে তুলে দেন। তারই মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের আগমনের খবর পেয়ে সিভিক ভলান্টিয়াররা সেখানে পৌঁছে যান। তারা পরিযায়ী শ্রমিকদের আসার খবর থানার পুলিশ কর্তাদের জানান।

পুলিশ মাধ্যমে ব্লক প্রশাসনের কর্তারাও পরিযায়ী শ্রমিকদের সাঁকরাইল থেকে জামালপুরের জোড়বাঁধে এসে হাজির হওয়ার কথা জানতে পারে। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে ১৪ জন পরিযায়ী শ্রমিককেই পরে পাঠানো হয় জামালপুরের পাঁচড়ার অস্থায়ী সরকারি ত্রাণ শিবিরে।

পরিযায়ী শ্রমিক দলের সদস্য সাদের মোল্লা ,আব্দুল রফিক প্রমুখরা জানান , ‘তাঁদের ১৪ জনেরই বাড়ি বীরভূমের নলহাটি থানার লোহাপুর গ্রামে। লকডাউন ঘোষণার পাঁচ দিন আগে রাজ মিস্ত্রির কাজে যোগ দিতে তাঁরা সকলে হাওড়া জেলার সাঁকরাইলে যান।
সাদের মোল্লা বলেন , লকডাউন ঘোষণার পর দিন ৪-৫ তাঁরা রাজ মিস্ত্রির কাজ করতে পেরেছিলেন। তার পর থেকে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সবাই বাড়ি ফেরার মনস্থির করে ফেলেন। কিন্তু গণ পরিবহন ব্যবস্থা সব বন্ধ থাকায় আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। কাজের জায়গাতেই আটকে পড়েন। কাজের পারিশ্রমিক বাবদ যেটুকু রোগজার হয়েছিল সেটাও সেখানে বসে বসে খেয়ে শেষ হয়ে যায়। ’

আব্দুল রফিক বলেন , ’এই আবস্থার মধ্যে সাঁকরাইলে পড়ে থাকলে ভোগান্তি যে চরমে পৌঁছাবে তা তাঁদের বুঝতে আসুবিধা হয়নি। তাই তাঁরা পায়ে হেঁটেই সাঁকরাইল থেকে বীরভূম পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

বৃহস্পতিবার ভোর তিনটের সময়ে সাঁকরাইল থেকে হাঁটা শুরু করেন। সেখান থেকে ডানকুনি ,শিয়াখালা , সিঙ্গুর , হরিপাল , ধনিয়াখালি ,চাঁপাডাঙ্গা হয়ে প্রায় ৮০ কিমি পথ পেরিয়ে শনিবার দুপুরে জামালপুরের জোড়বাঁধে পৌঁছন। জামালপুর প্রশাসনের কর্তারা তাঁদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আপাতত সরকারি ত্রাণ শিবিরে থাকার ব্যবস্থা করেছেন । ’ভবিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানিয়েছেন , হাওড়ার সাঁকরাইল থেকে পায়ে হেঁটে ১৪ জন পরিযায়ী শ্রমিকের জামালপুরে আসার বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পাঁচড়া কিষাণ মাণ্ডিতে যে অস্থায়ী সরকারি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে সেখানেই আপাতত তাঁদের রাখা হয়েছে। বিডিও বলেন , আশা করা যায় খুব শীঘ্র পরিযায়ী শ্রমিকদের বীরভূমের বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেওয়া সম্ভব হবে।

Related Articles

Back to top button
Close