fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে দিনহাটায় কড়া নজরদারি প্রশাসনের

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: করোনা ভাইরাসকে রোধ করতে গোটা রাজ্যের পাশাপাশি দিনহাটা তে ও শুরু হয়েছে দুই দিনের লকডাউন। দুই দিনের লকডাউন এর প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দিনহাটার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়। লকডাউনে দোকানপাট হাট বাজার বন্ধ থাকলেও রাস্তাঘাটে টোটো ও বাইক চলাচল করে। তবে সংখ্যায় ছিল অনেকটাই কম। লকডাউন সফল করতে পুলিশি তৎপরতা ছিল যথেষ্ট।

এদিন সকাল থেকে রাস্তায় মানুষের আনাগোনা ছিল খুব অল্প। কড়া পুলিশি নজরদারির কারণে রাস্তায় লোকজন খুবই কম থাকায় প্রথম দিনের লকডাউন অনেকটাই সফলতা পায়। কোনো রকম কারণ ছাড়াই যারা রাস্তায় বের হন পুলিশ তৎপরতার সাথে তাদের বাড়ি ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক মানবেন্দ্র দাস এর নেতৃত্বে এসআই বিমান সরকার, দীপক রায়, সাহেবগঞ্জ থানার সৌমাল্য আইচ প্রমূখ পুলিশ আধিকারিকদের মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারিও চালান। পুলিশি কড়া নজরদারির ফলে কোথাও দোকানপাট কিংবা অস্থায়ী বাজার এদিন খোলা দেখা যায়নি। দিনহাটার বলরামপুর রোড এলাকায় একটি দোকান বসতে শুরু করলেও মুহূর্তে পুলিশ সেই দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

টানা দুই দিনের লকডাউনের প্রথম দিন দিনহাটা শহরের পাঁচ মাথার মোড়ে বাইক ও সাইকেল আরোহীদের অযথা ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে বেশ কয়েকটি বাইক আটক করে। এদের অনেকেরই যেমন সঙ্গে ছিলনা কাগজপত্র, তেমনি মাথায় ছিলনা হেলমেট। বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন করোনা যেভাবে বেড়ে চলছে তা রোধ করতে পুলিশ কড়া নজরদারি জারি রাখলে লকডাউন যথার্থ ভাবে সফলতা পাবে। সেক্ষেত্রে এই রোগ প্রতিরোধ অনেকটাই সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, দিনহাটা শহর সহ মহকুমা জুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলছে। গত দুইদিনের দিনহাটা শহরে আক্রান্ত হয় ২১ জন। মহকুমাতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ জন। বৃহস্পতিবারও নতুন করে আরও ছয়জন আক্রান্ত হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী দিনহাটাতে দোকানপাট বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত খোলা থাকছে। স্বাভাবিকভাবেই দোকান বাজারে ভিড় হচ্ছে। এর ফলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলছে। রাজ্য সরকারের ডাকা এই লকডাউনে দিনহাটার সংক্রমনের প্রভাব কিছুটা কমবে বলে আশাবাদী অনেকেই।

দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতি ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকেও লকডাউনকে সফল করে তুলতে পুলিশ প্রশাসনকে নানাভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সংগঠনের নেতৃত্ব বলেন লকডাউন এর আগে কিংবা পরে অতিথি ব্যবসায়ীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য তারা ইতিমধ্যেই সচেতন করেছেন।

মহকুমা পুলিশ আধিকারিক মানবেন্দ্র দাস বলেন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় রাজ্য সরকারের লকডাউন কে সফল করে তুলতে পুলিশ কড়া নজরদারি জারি রেখেছে। মহকুমা শাসক শেখ আনসার আহমেদ বলেন, লকডাউনের প্রথম দিন সবকিছু বন্ধ ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close