fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অভিবাসী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার পথে কড়া নজরদারি প্রশাসনের

আসাদ মল্লিক, হুগলি : আন্তঃরাজ্য পারমিট না পেয়ে এখনও রেল ও সড়কপথে অভিবাসী শ্রমিকরা হেঁটে ঘরে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হুগলির ডানকুনিতে এ দৃশ্য অব্যাহত। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিযায়ী শ্রমিকদের যাত্রার মাঝপথে বিশ্রাম, খাবার এবং ফেরার জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঔরঙ্গাবাদের মত আর কোনো দুর্ঘটনা যাতে না হয় তার জন্য তৎপর প্রশাসন।

 

 

মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে ১৬ অভিবাসী শ্রমিকের মারা যাওয়ার খবর পেতেই তৎপর হয় হুগলি জেলা প্রশাসন। দেখা যায়, পূর্ব রেলের হাওড়া-বর্ধমান মেন ও কর্ড শাখা এবং সড়কপথে দিল্লি রোড এবং দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে কাছে হওয়ার ফলে লকডাউনের মধ্যেই বহু অভিবাসী শ্রমিক ডানকুনি আসছিলেন। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরেও শ্রমিকদের ঝুঁকির যাত্রা অবিরাম চলছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বা গ্রামের মানুষজন জায়গায় জায়গায় তাঁদের খাবার ও জলের ব্যবস্থা করছেন বলে খবর।

 

 

সড়কপথে গাড়ি কম চললেও রেলপথে মালগাড়ি চলছে, ফলত শ্রমিকদের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ ট্রেন চালু হওয়ার পরপরই আরও সাবধান হয়েছেন রেল আধিকারিকরা। শনিবার জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাওয়ের কাছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব শ্রমিকদের সাবধানে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্যে আর্জি জানিয়েছে। শ্রমিকদের মিছিল রুখতে ডানকুনি স্টেশনে নজরদারি বেড়েছে।

 

 

হুগলি জেলা প্রশাসন সূত্রের জানা গেছে, অভিবাসী শ্রমিকদের বিশ্রাম হেতু ডানকুনিতে অস্থায়ী শিবির তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। কমিশনারেটের এসিপি (ট্র্যাফিক) তমাল সরকার জানিয়েছেন, ‘‘প্রশাসনের তরফে ওনাদের বাড়ি ফেরানোর জন্য পাঁচটি বাস দেওয়া হয়েছে। আমরা ওই বাসে শ্রমিকদের রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। কোনও জেলায় যাওয়ার জন্য ১৫-২০ জন শ্রমিক জোগাড় হলেই বাস বেরিয়ে পড়ছে। বাস ফিরলে তাকে জীবাণুমুক্ত করে আবার অন্য দলকে পাঠানো হচ্ছে।’’

 

 

সূত্রের খবর অনুযায়ী, সোমবার শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থেকে ওড়িশার পথে প্রশান্ত পারিদা নামক এক শ্রমিককে পুলিশ আটক করে ডানকুনি টোলপ্লাজার কাছে। প্রশান্ত জানিয়েছেন, ‘‘আমি কিছু পথ হেঁটে এবং কিছু পথ গাড়িতে এসেছি। পুলিশের কাছে আমার অনুরোধ, আমাকে যেন খড়গপুর পৌঁছে দেওয়া হয়।’’ একই উপায়ে ঝাড়খণ্ডে ফেরার পথে প্রমোদ দাস আটক হন পুলিশের হাতে। তিনি জানান, ‘‘পুলিশ যেন কিছু একটা ব্যবস্থা করে। এতদিন নরেন্দ্রপুরে আটক ছিলাম।’’ যদিও এক প্রশাসনিক আধিকারিকের কথায়, “চিন্তা নেই, সব শ্রমিককে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close