fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অসুস্থ মহিলার সোনার দুল নিয়ে রোগীকে বর্ধমান হাসপাতালে পৌঁছালেন অ্যাম্বুলেন্স চালক

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: গুরুতর ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারের মহিলার পরিজনদের কাছে টাকা পয়সা ছিলনা। তাই অ্যাম্বুলেন্স চালকও মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল।পরে অসুস্থ মহিলার কানে থাকা একজোড়া সোনার দুল নিজের কব্জায় নিয়ে তবেই তাঁকে বর্ধমান হাসপাতালে পৌছে দিল অ্যাম্বুলেন্স চালক। অ্যাম্বুলেন্স চালকের এমন অমানবিকতায় স্তম্ভিত পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের বাসিন্দারা।ঘটনা জানার পর বেজায় ক্ষুব্ধ হন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ।তিনি গরিব পরিবারের মহিলার কানের সোনার দুল ওই অসুস্থ মহিলার পরিবারের কাছে ফেরৎ দিয়ে আসতে বাধ্য করেন।

জামালপুর থানার উত্তরশুড়া গ্রামে বসবাস দিন দরিদ্র মালিক পরিবারের।পরিবারের সকলেই দিন মজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।এই পরিবারের বছর ৩৪ বয়সী বধূ বুল্টি মালিক দিন দশেক যাবৎ জ্বরে ভুগছেন। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করানোর পরেও মহিলা সুস্থ হননা। মঙ্গলবার অসুস্থতা বাড়লে পরিবারের লোকজন তাঁকে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। মহিলার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নাথাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক বুল্টি মালিকে ওই দিন দুপুরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। তখনই মাথায় হাত পড়ে যায় অসুস্থ ওই মহিলা ও তাঁর পরিজনদের।

অসুস্থ বুল্টি মালিকের জা সুমিত্রা মালিক বুধবার বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে বুল্টিকে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মত টাকা পয়সা তাঁদের কাছে ছিল না। পরে ভাড়ার টাকা মিটিয়ে দেবেন বলে জানানো হলে চালক হাসেম মোল্লা ওরফে অসিত বর্ধমান হাসপাতাল যেতে অস্বীকার করে। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে শেষ সম্বল অসুস্থ বুল্টির দুই কানে থাকা সোনার দুল জোড়া খুলে নিয়ে তুলে দিতে হয় অ্যাম্বুলেন্স চালকের হাতে। উনি দুল জোড়া নিয়ে দুই হাজার টাকা দেন। সেই টাকা থেকে ১,১০০ টাকা অ্যাম্বুলেস চালকের হাতে তুলে দেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্স চালক অসুস্থ বুল্টিকে বর্ধমান হাসপাতালের এমারজেন্সি বিভাগে পৌছে দেয়। সুমিত্রা মালিক বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক
এমন অমানবিকতা দেখালেও জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান ও কর্মাধ্যক্ষ ভুতনাথ মালিক তাঁদের পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন। ঘটনা জানার পর পঞ্চায়েত সমিতির এই দুই কর্তা মঙ্গলবার রাতে অ্যাম্বুলেন্স চালককে চূড়ান্ত ধমক দেন। ওনারা সোনার দুল জোড়া আমাদের বাড়িতে এসে ফেরৎ দেওয়ার নির্দেশ দেন অ্যাম্বুলেন্স চালককে। চাপে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক বুধবার সকালে অসুস্থ বুল্টির কানের সোনার দুল জোড়া বাড়িতে ফেরৎ দিয়ে গেছে।

এদিন জামালপুর হাসপাতালে পৌছে অ্যাম্বুলেন্স চালক হাসেম মোল্লার কাছে ঘটনা বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রথমে তিনি সবকিছু অস্বীকার করেন। পরে চাপের মুখে পড়ে তিনি জানান, বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডল রোগী স্বার্থে জামালপুর ১ পঞ্চায়েতকে একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছেন। সেটি তিনি চালাচ্ছেন। হাসেমের বক্তব্য ওই রোগী পরিবারের কাছে কোন টাকা পয়সা ছিলনা। তাই বিনা ভাড়ায় বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে পরিবারকে জানানো হয়। এরপর পরিবার অসুস্থ মহিলার কানে থাকা সোনার দুল জোড়া খুলে তার হাতে দেয়। প্রথমে হাসেম বলেন, সোনার দুল জোড়া একজনকে বন্ধক দিয়েছেন। পরে স্বীকার করেন তিনি সোনার দুল জোড়া নিজের বাড়িতে রেখে এসে অসুস্থ মহিলার পরিবারের হাতে দুই হাজার টাকা দেন। তার থেকে পরিবার তাঁকে ১১০০ টাকা ভাড়া মেটালে তিনি রোগীকে বর্ধমান হাসপাতালে পৌছে দেন। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এমন অমানবিক কাজ করাটা অন্যায় হয়েছে বলে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির কাছে স্বীকার করেন অ্যাম্বুলেন্স চালক।

জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান বলেন ,“অ্যাম্বুলেন্স চালক অত্যন্ত অমানবিক কাজ করেছে।এমন কাজ তৃণমূল কংগ্রেস দল সমর্থন করে না। গরিব মানুষ যাতে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পায় সেই কারণেই বাংলার মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়করা বিভিন্ন ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানকে অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রেখেছেন। প্রয়োজনে বিনা ভাড়ায় গরীব পরিবারের রোগীকে বর্ধমান বা কলকাতার হাসপাতালে পৌছে দিতে হবে এমন নির্দেশও পঞ্চায়েত সমিতি থেকে দেওয়া আছে। দলীয় ভাবেও আমরা গরীব পরিবারের রোগীদের পাশে দাঁড়াই ।এতসব কিছু জানার পরেও অ্যাম্বুলেন্স চালক অসুস্থ গরির মহিলার কানের দুল নিজের কব্জায় নিয়ে চুড়ান্ত অন্যায় করেছে। তাই ওকে সোনার দুল ফিরৎ দিতে বাধ্য করা হয়েছে । অ্যাম্বুলেন্স চালানোর কাজ থেকেও হাসেম মোল্লাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ”

বিএমওএইচ (জামালপুর) আনন্দ মোহন গড়াই বলেন , “জামালপুর ব্লক হাসপাতালে সরকারী কোন অ্যাম্বুলেন্স নেই। যে অ্যাম্বুলেন্সগুলি হাসপাতাল চত্ত্বরে থাকে সেগুলি হাসপাতালের নিয়ন্ত্রাধীনে নয়। সেই কারণে এমনসব অমানবিক ঘটনা ঘটছে। সাংসদ , বিধায়ক কিংবা মন্ত্রীদের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সগুলি প্রশাসনিক ভাবে নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণ বা অন্য সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ” জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন ,“জেলা শাসক বিজয় ভারতি এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন । কিন্তু এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ”

Related Articles

Back to top button
Close