fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

একাধিক আমফান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর তৈরি করে দিয়ে নজির গড়ল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস: আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার বার্তা নিয়ে হাজির হওয়া তো দূর অস্ত, এলাকায় দেখা পর্যন্ত যায়নি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ শাসক কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোন নেতানেত্রীকে। একের পর এক ক্ষতিগ্ৰস্থ পরিবারের পাশে থেকে ঘর তৈরি করে এলাকায় নজির গড়ল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘নেতাজী ইউথ ফোর্স’। করোনা আবহে লকডাউন প্রেক্ষাপট সহ আমফান পরবর্তী পরিস্থিতিতে হাঁসখালি থানা এলাকার একাধিক গ্ৰামের অসংখ্য পরিবারের ত্রাতা হিসাবে অবতীর্ণ নেতাজী ইউথ ফোর্স আজ বর্ধিত বগুলার গর্ব,যুব সমাজের প্রেরণা। দেশের সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারগুলির বেঁচে থাকার প্রাথমিক শর্ত এবং চাহিদা খাদ্য,বস্ত্র, বাসস্থান সহ সার্বিক দিক থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এলাকার জনমানসে অনন্য নজির সহ ইতিহাস সৃষ্টি করেছেএই অরাজনৈতিক সেবামূলক ছাত্র সংগঠনটি। যে কাজটি করার কথা ছিল, স্থানীয় প্রশাসন কিংবা শাসক বা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির। তারা নিরব থাকলেও এগিয়ে কিন্তু এসেছে এই ছাত্র সংগঠনটি।

বিবেক ও মনুষ্যত্বের তাড়না থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই এগিয়ে আসা তন্ময় রায়,সুহাগ বিশ্বাস, সৈকত দত্ত, অনুরাধা রায়,তপন মৌলিক দের মতো কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া ছাত্রছাত্রীদের। রাজ্যে লকডাউন বলবৎ হওয়ায় সপ্তাহকাল পর অর্থাৎ ৩রা এপ্রিল থেকে কর্মাভিযান শুরু হলেও ভাবনা, সংস্থা গঠন, এলাকায় বিভিন্ন সেবামূলক কাজ কর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকা বিগত তিন বৎসর যাবৎ। প্রেসিডেন্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তন্ময় রায়,তার ই মস্তিষ্ক প্রসূত গঠনমূলক চিন্তা ভাবনার ফসল এই “নেতাজী ইউথ ফোর্স”। মানুষের জন্য কিছু একটা করতে হবে, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে অনার্স নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর ই হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা শুরু করলেও তন্ময়ের মন পড়ে ছিল বগুলায়। বন্ধু -বান্ধব দের অধিকাংশই বগুলা শ্রীকৃষ্ণ কলেজ সহ পার্শ্ববর্তী মাজদিয়া, রানাঘাট,চাকদহ, কৃষ্ণনগর প্রভৃতি জেলার বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়।তাই নাড়ির টানে প্রয়োজনের তাগিদে তাদের সঙ্গে ফোনালাপ, হোয়াটস অ্যাপ, ফেসবুক গ্ৰুপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ এবং গঠনমূলক কিছু একটা করার তাগিদ থেকেই নেতাজী ইউথ ফোর্সের জন্ম।

আরও পড়ুন: বিধবা ভাতার টাকার জন্য মাকে মারধরের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

সংস্থার নামকরণ নেতাজী ইউথ ফোর্স কেন? প্রশ্নের উত্তরে তন্ময় জানালেন, প্রত্যেকটি ভারতবাসীর কাছে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস হলেন গর্বের চরিত্র। আমাদের মতো যুব সমাজের প্রেরণা নেতাজী, তার নীতি আদর্শ ছাড়া জীবন ?একদম ভাবাই যায়না,যুব সমাজের প্রেরণা নেতাজী, বিষয়টি নিয়ে বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই কাঙ্খিত নামটি নির্বাচন করেছিলাম সকলে।এই ভাবেই আমাদের পথ চলা শুরু।বিগত বৎসর গুলিতে নেতাজী ইউথ ফোর্সের পক্ষ থেকে এলাকার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুস্থ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী অর্থাৎ ব ই ,খাতা বিতরন, পরিবেশ সুরক্ষা সহ সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বগুলা শ্রীকৃষ্ণ কলেজ সহ এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী পালন করেছি।

এবার এই আন্তর্জাতিক মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কল্পে লকডাউন বলবৎ হওয়ার পর থেকেই আমরা এলাকার অসহায় কর্মহীন শ্রমজীবী প্রান্তিক মানুষজনদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। প্রথমে মাস্ক,হ্যান্ড স্যানিটাইজার,তারপর খাদ্যসামগ্রী যথাক্রমে চাল,আলু,ডাল,লবন, সরিষার তেল, সোয়াবিন, বাচ্চাদের জন্য আমুল দুধ এলাকা ভিত্তিক ত্রাণ শিবির খুলে অসহায় মানুষজনের সাহায্য করেছি।যে সমস্ত পরিবারে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা রা আছেন,যাদের ঔষধ লাগবে কিন্তু কিনতে পারছেন না,আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি, প্রেসক্রিপশন সংগ্ৰহ করে ঔষধের দোকান থেকে ঔষধ কিনে বাড়িতে পৌছে দিয়েছি। পরবর্তী সময়ে প্যাকেজ জাত শুকনো খাবার ও আমরা এলাকা ভিত্তিক কর্মসূচি অনুযায়ী বিতরণ করেছি, ছোট বাচ্চাদের পোশাক পরিচ্ছদ সহ সব চাইতে উল্লেখ যোগ্য কাজ যেটা কিনা, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসন কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের করবার কথা ছিল,তারা করেনি,সেই কাজটি কিন্তু স্কুল কলেজে পাঠরত বেকার ছাত্রছাত্রীগন, সংগঠনগতভাবে নেতাজী ইউথ ফোর্সের ছত্রছায়ায় করে দেখিয়ে এলাকায় ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। গৃহহীন,যাদের আমফান ঝড়ে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে, তাদের ঘর তৈরি করার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে।

হাসখালী থানা এলাকায় মোট ৯ টি টিনের চাল, বাঁশের খুঁটি এবং মুলিবাশের বেড়ার ঘর তৈরি করে দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান টি।এক সাক্ষাৎকারে তন্ময় রায় জানালেন,এক একটি ঘর তৈরি করতে ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে।এমন ও পরিবার আছে, স্বামী বিদেশে, ছোট বাচ্চা নিয়ে গৃহবধূ বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়িকে কে নিয়ে একা আছেন, স্বামী লকডাউনের ফলে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতে পারছে না, জ্বালানী র অভাবে রান্না বন্ধ। নেতাজী ইউথ ফোর্স এগিয়ে এসেছে, রান্নার গ্যাস পর্যন্ত কিনে দিয়েছে এরা। ছাত্র ছাত্রীদের অরাজনৈতিক সংগঠন, টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে অথবা প্রাইভেট টিউশনি পড়িয়ে তহবিল তৈরি,এর ই সঙ্গে হোয়াইট অ্যাপ এবং ফেসবুকের মাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে এ্যাকাউন্ট নং দিয়ে সর্বসাধারণের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ,এই ভাবেই এগিয়ে চলা,যথেষ্ট সাড়া মিলেছে। তাছাড়াও এলাকার সর্বস্তরের শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিক বৃন্দ এগিয়ে এসেছেন সাহায্যার্থে। আমাদের সদস্য সদস্যা সংখ্যা এই মুহূর্তে ১২০, শুরু করেছিলাম খুব অল্পসংখ্যক বন্ধু বান্ধব মিলেই। এখন অনেকেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে এসেছে,মোট ১২০ জনের মধ্যে ছাত্রছাত্রী ই ১১০ জন, অবশিষ্ট ১০ জন আছেন অভিভাবক পর্যায়ের । আমাদের কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে অভিভাবক হিসাবে পাশে থাকার বার্তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন।

Related Articles

Back to top button
Close