fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গব্লগহেডলাইন

নবজাগরণের বাংলা আজ দুর্নীতির পীঠস্থান

দিলীপ ঘোষ: মায়ের কাছে থেকেও কাটমানি?এ জিনিস কখনও শুনেছেন? দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের গোপালপুর পঞ্চায়েতের বধূকুলা গ্রামের তৃণমূলের নেতা আকছার মণ্ডল ও তার বৌমা তথা গোপালপুর পঞ্চায়েতের সদস্য তাজকিয়া মণ্ডল প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা আকছারের মা আবেদা মণ্ডলের কাছ থেকে (১০ হাজার টাকা)কাটমানি হিসাবে আদায় করেই ক্ষান্ত হয়নি আরও ১০ হাজার টাকা চেয়ে জোরজুলুম করছে। সেই খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ইতিমধ্যেই ছেপেছে। রেশন, টেট, কাটমানি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভর্তি এবং করোনা, আমফান এই শব্দবন্ধগুলোর সঙ্গে তৃণমূল সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত সে কথা আজ কারও অজানা নয়! কিন্তু তা বলে জন্মদাত্রী মায়ের কাছে ছেলে কাটমানি খাবে? নবজাগরণের বাংলা তৃণমূলের দয়ায় আজ দুর্নীতির পীঠস্থানে পরিণত হয়েছে। তাই এখন টিএমসির মানে বদলে হয়েছে তৃণমূল মানে কোরাপশন।

বর্তমান সরকার সারাদিন পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের পাঁচালি পরে কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে তার কতটা মিল আছে তা সবাই জানে। একথা ঠিক যে তৃণমূলের বড়ো, মেজ, ছোট নেতাদের আমূল পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু সাধারণ মানুষের কতটা উন্নয়ন হয়েছে সে প্রশ্নের উত্তর স্বয়ং ভগবানও দিতে পারবেন না! খুবই দুর্ভাগ্যের হলেও পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এটাই বাস্তব তাই যে কোন সরকারি দফতর, হাসপাতাল, রাজ্য সরকারের বা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প, তৃণমূলের দাদাদের কাটমানি না দিলে তার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না এবং গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষ সেই সব সুবিধে থেকে বঞ্চিত হবেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে ছিলেন সততার প্রতীক কিন্তু ক্ষমতায় ৯ বছর থাকার পর সেটা এখন আপনাদের কাছে অভিযোগের মতো শোনায় না কি? যিনি সবাইকে সারাক্ষণ মূল্যবোধের জ্ঞান দেন, নীতি-আদর্শের পাঠ পড়ান, ধর্ম-অধর্মের ফারাক বোঝান তিনি একবারও কি ভেবে দেখেছেন যে এই রাজ্যে তথাকথিত পরিবর্তনের জন্য যাদের উপর একদিন ভরসা করেছিলেন তারা আজ বৃষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। সংবিধানের শপথ নিয়ে একটা দল রাজ্য চালানোর ভার গ্রহণ করে গত কয়েক বছরে যে পরিমাণ দুর্নীতি করেছে তা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

এর আগে যারা সরকারে ছিল তাদের বিরুদ্ধে অনেক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল কিন্তু কোন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই, ভাইপোকে রাতারাতি কোনও নির্দিষ্ট ইনকাম ছাড়াই বিপুল সম্পত্তি বানাতে দেখা যায়নি, কাউন্সিলরকে অ্যাস্টন মার্টিন গাড়ি চড়ে কর্পোরেশনে আসতে বা প্রত্যন্ত গ্রামে সুইমিং পুল সমেত অট্টালিকা বানাতেও দেখা যায়নি| করোনার আবহে আমরা এখন নিউ নরম্যালের কথা বললেও সুদূরপ্রসারী তৃণমূল নেতারা সারা গায়ে সোনার গয়না পরে এলাকায় ঘুরে ঘুরে আমাদের নিউ নরম্যালের সঙ্গে অনেক আগেই পরিচয় করে প্রমাণ করেছিলেন যে শাসক দলের নেতা হতে গেলে জীবনে একটা ট্রেডমার্ক স্টাইল আনতে হবে না হলে মা, মাটি মানুষের সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে ঠিক মানাবে না।

আরও পড়ুন:দেশের করোনা গ্রাফ উর্দ্ধমুখী, মোট আক্রান্তের সংখ্যা পার হল ৪৮ লক্ষ

তৃণমূল নেত্রীর কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে। যারা এক লাফে বেড়ার বাড়ি থেকে ডিরেক্ট আলিশান মহলে শিফট করেছেন বা বিউলির ডাল আর আলুপোস্ত ছেড়ে রোজ বিরিয়ানি আর চিকেন চাঁপ খাচ্ছেন তাদের উন্নতির কথা রাজ্য সরকার কেন ফলাও করে সবাইকে জানাচ্ছে না? এত উন্নয়ন ভূ-ভারতে কোথাও, কোনদিন হয়নি, তার ক্রেডিট কেন মুখ্যমন্ত্রী নেবেন না? যিনি গ্রামের ছোট একটা সাঁকো উদ্বোধনও নিজের হাতে করেন তিনি কেন এই সব কীর্তিমানদের সরকারি স্বীকৃতি বা উন্নয়নের প্রতীক রূপে পুরস্কৃত করে তাদের যোগ্য সম্মানটুকু দিচ্ছেন না? আমার দৃঢ় বিশ্বাস উন্নয়নের যে নজির মুখ্যমন্ত্রী এই রাজ্যে গড়েছেন তাতে তৃণমূলের সেই সব নেতা, মন্ত্রী যারা গত ৯ বছরে উন্নয়নকে চিটফান্ড থেকে আমফানের ক্ষতিপূরণ লুঠ অব্দি তুলে এনেছেন, তাদের অসামান্য সাফল্যের মডেল নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে আইআইএম জোকাতে গবেষণা হবেই। শুধু তাই নয়, করোনা মহামারী মোকাবিলায় মেডিকেল সরঞ্জাম কেনার মধ্যে দিয়ে সরকারের দুর্নীতি এবং রাস্তার কুকুরদের স্টেরিলাইজ করার জন্য বরাদ্দ টাকাও মারার অভিনব কায়দার উপর যদি কোন পুস্তক লেখার প্রতিযোগিতা হয় তাহলে তৃণমূলের প্রায় সমস্ত নেতাই প্রথম পুরস্কার পাবেন।

এবার দেখা যাক কেন সততার প্রতীক এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা ক্ষমতায় আসার অনেকদিন আগেই থেকেই সারদা, রোজ ভ্যালির মতো চিটফান্ড কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন? কারণ ক্ষমতা দখলের পর বেআইনি লগ্নিকারী সংস্থাগুলোকে বৈধতা দেওয়াই যে ছিল ওনাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। শাসক দলের সঙ্গে এইসব চিটফান্ডের মালিকদের ওঠাবসা সর্বজনবিদিত (যেমন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডেলোতে মিটিং)। তাই যারা একদিন গরীব, খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে সর্বস্বান্ত করে তৃণমূলের নেতাদের সিন্দুক ভরিয়ে দিয়েছিল তাদের আজও বিচারের আওতায় এই সরকার আনতে পারেনি। আর কোনদিন পারবেও না কারণ তাতে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে যাওয়ার ভয় আছে তাই গৌতম কুণ্ডু, সুদীপ্ত সেন বা দেবযানীর মুখার্জির মতো কিছু মানুষকে বলির পাঁঠা সাজিয়ে নিজেদের ধোয়া তুলসীপাতা বানিয়ে রাখার প্রক্রিয়া বজায় রেখেছে। প্রতারিত মানুষগুলোর মধ্যে অনেকেই মমতা ব্যানার্জির সততার প্রতীক ভেবে ক্ষমতায় এনেছিলেন কিন্তু তাঁরা কি তাঁদের ভরসার কোন মর্যাদা পেয়েছেন? এই প্রতারিত প্রান্তিক মানুষগুলোর বিচার কে করবে? কেন সরকার লোক দেখানো একটা কমিশন বানিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলেছে? কেনই বা মূল ষড়যন্ত্রকারী কুণাল ঘোষকে তৃণমূলের মুখপাত্র হিসেবে পুনর্বহাল করা হল? কিসের ভয়ে পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে মরিয়া হয়ে আড়াল করা হল? এর কোন জবাব কি তৃণমূলের নেত্রীর কাছে আছে?

রাজ্যে লাগামছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী কোনও রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাননি তাই তাঁর শাসনকালে দামাল ছেলেদের থেকে শুরু করে সাংসদ বা মন্ত্রী কাউকেই আর লুকিয়ে টাকা খেতে হয় না। সবই এখন দিনের আলোতে বা ক্যামেরার সামনে হয়। এটা খুবই দুর্ভাগ্যের হলেও ২০১১ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রধান কারিগর মমতা বন্দোপাধ্যায়কে আজ আর দুর্নীতি থেকে আলাদা করা যায় না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে গঠনমূলক কাজ করার পরিবর্তে এই সরকার সেগুলিকে বিরোধীদের চক্রান্ত, ছোট বা সামান্য ঘটনা বলে সেই সব প্রতারক, দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দিয়েছেন তাই আজ গোটা ব্যবস্থাটাই লাগামহীন গতি পেয়েছে।

মাত্র কয়েক মাস আগেই মুখ্যমন্ত্রী তার কর্মীদের বলেছিলেন ৭৫ শতাংশ কাটমানি দলে ফেরত দিয়ে বাকি ২৫ শতাংশ নিজের কাছে রাখতে। আর কদিন আগে তিনি আবার দাবি করেন যে আগের সরকারের আমলে ১০০ শতাংশ দুর্নীতি হত আর এখন নাকি তিনি ৯০ শতাংশ দুর্নীতি কমিয়ে দিয়েছেন! তিনি কি বলছেন নিজেই জানেন না। বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধির উদয় হয়েছে তাঁর। এই বুজরুকি আর চলবে না কারণ জনতা তৃণমূলনেত্রীকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হবেই তাই তিনি দিশেহারা হয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিরোধীদের উপর জুলুমবাজি করছেন, আমাদের কর্মীদের মিথ্যে কেসে ফাঁসাচ্ছেন, দাগি ক্রিমিনালদের জেল থেকে ছেড়ে দিয়ে পার্টির পদ উপহার দিয়ে সংগঠনের কাজে লাগাচ্ছেন।

আরও পড়ুন:সেনার পাশে দাঁড়িয়ে গোটা দেশ, বার্তা দিক সংসদ, অধিবেশনের আগে মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর

রাজ্যজুড়ে লকডাউনের সময় রেশন ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সাধারণ জনগণ দেখেছে কিভাবে রেশন দোকানের পরিবর্তে তৃণমূলের কার্যালয় থেকে চাল-গম বিক্রি হচ্ছে। কালোবাজারি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে গ্রামের মানুষকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে হয়েছে কারণ নির্দিষ্ট মূল্যের অনেক বেশি দামে খাদ্য সামগ্রী কিনতে তাদের বাধ্য করা হয়েছে। তৃণমূল নেতাদের অবৈধভাবে টাকা কামানোর খিদে এই রাজ্যের সাধারণ জনগণের খাবার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে।

আমরা দেখেছি কিভাবে আমফানের পর গ্রামের অসহায় মানুষগুলো দুমুঠো খাবারের জন্য তৃণমূল নেতাদের কাছে দরবার করেছে কিন্তু হৃদয়হীন সরকার তাদের কোনও সুরাহা করেনি। উল্টে বিজেপিকে ত্রাণ বিতরণে বাধা দেওয়া হয়েছে। লকডাউনের নিয়ম ভাঙার দায়ে পুলিশ কেস দিয়ে আমাদের কর্মীদের জেল খাটানো হয়েছে। এই চাল চোর, গম চোর, চিনি চোর, ডাল চোর, ত্রিপল চোর তৃণমূলকে এর যোগ্য জবাব আপনাদেরই দিতে হবে। আমফানে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য বরাদ্দ টাকাও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান বা সদস্য বা তাদের আত্মীয়স্বজনের পকেটে ঢুকে গেছে। এইভাবে সেই ভুয়ো তালিকাগুলো তৈরি হয়েছিল পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে। কয়েক জনকে শোকজ করে নিয়ম রক্ষা করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রাজ্যের প্রায় সমস্ত পঞ্চায়েতের কার্যালয়কে দুর্নীতির আঁতুড়ঘর বানিয়ে রেখেছে আর তাই পঞ্চায়েতে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রকাশ্য দিবালোকে ভোট লুঠ করে তাঁর স্নেহের ভাইরা দিদিকে বিরোধীশূন্য একটা নির্বাচন উপহার দিয়েছিল যাতে সরকারি টাকা লুঠে কোন বাধা না থাকে। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে আপনারা বঞ্চনার প্রতিশোধ ইভিএমে কমল চিহ্নের বোতাম টিপে নেবেন।

বাম আমলে তৈরি হওয়া অবৈধ সিন্ডিকেট রাজ আজ এই সরকারের প্রধান চালিকা শক্তি। এই রাজ্যে কেউ নিজের ইচ্ছেয় বাড়ি তৈরি করতে পারবে না কারণ তৃণমূলের দাদাদের কাছে বাজার মূল্যের থেকে অনেক বেশি দামে ইট, বালি সিমেন্ট কিনতে হবে না হলে তারা নির্মাণ কার্যে বাধা দেবে। শুধু তাই না, সিন্ডিকেটের অত্যাচারে ফ্ল্যাটের মূল্য বাজার দামের থেকে অনেক বেশি টাকা দিয়ে ক্রেতাদের কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে কারণ পাড়ায় পাড়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো প্রোমোটার গজিয়ে উঠছে যাদের বেশিরভাগই শাসকদলের মদতপুষ্ট। কোথা থেকে এল এই সংস্কৃতি? কাদের মদতেই বা এই অবৈধ কারবার পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে? কয়লা, মাটি, বালি মাফিয়াদের অত্যাচারে প্রকৃতি আজ ধ্বংসের মুখে। দুর্নীতির জাল একবারে শেকড় অবধি ছড়িয়ে পড়েছে আর তার বখরা মাথা থেকে পা অবধি থাকে থাকে ভাগ করা আছে। কে কত পাবে আর কে কত খাবে এই নিয়েই যত ঝামেলা যার ভাল নাম অন্তর্দ্বন্দ্ব। ভাগ বাটোয়ারায় গন্ডগোল হলেই ঝামেলা আর সেই বিবাদ না মিটলে দেশি পিস্তলের মাধ্যমেই সমস্যা মেটানো হয়। সিন্ডিকেট যে শুধু সাধারণ মানুষের উপর জুলুম করে তা নয় সরকারি প্রকল্পেও এদের অবাধ প্রবেশ তার জলজ্যান্ত প্রমাণ ২০১৬ সালে বড়বাজারে উড়ালপুলের ভেঙে পড়ার ঘটনা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কথা মাথায় রেখে যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করছেন ঠিক তখন তৃণমূলের অবস্থা একদম বিপরীত মেরুতে। তৃণমূলের নেতাদের পেট ভরাতে গিয়ে জনগণের কপালে কিছুই জুটছে না। গরীব মানুষগুলো যদি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলোর ঠিকঠাক সুবিধে পেত তাহলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর তাদের গাছ তলায় থাকতে হত না বা শীত, গ্রীষ্ম বর্ষাতে কষ্ট করতে হত না। সাধারণ মানুষের কাছে আমার অনুরোধ একবার ভেবে দেখুন যে কাদের আপনারা ক্ষমতায় বসিয়েছেন? যারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আপনাদের মতো অসহায়, গরীব মানুষের হকের টাকা আত্মসাৎ করে তাদের কি আবার নির্বাচিত করবেন?

আরও পড়ুন:নেপালের ভূমিধস কেড়ে নিল ১২ জনের প্রাণ, নিখোঁজ ২১… যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকার্য

যারা ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে তাদের গণতন্ত্রের অংশীদার হওয়ার কোনও বৈধ অধিকার থাকে না। যারা জনগণকে স্বাধীনভাবে ভোট প্রদানের অধিকার প্রয়োগ করতে দেয় না তারা সরকার গঠনের পর যে রাজ্য পরিচালনার জন্য গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে মূল্যহীন করে দমননীতি চালাবে তা বলাই বাহুল্য। আর সেই সব তাঁবেদাররা, যাঁরা সরকারি পদে থেকে, আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্থ, অমানবিক এবং জনগণের শত্রু তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করেছন তাঁরা সমস্ত রাজ্যবাসীর সঙ্গে নয়, তাদের পরিবারের সঙ্গেও প্রতারণা করছেন। তাঁদের বোঝা উচিত তাঁরা যে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন তার ভবিষ্যৎ অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।

এই নাগপাশ থেকে আপনাদের মুক্ত হওয়ার সময় এসেছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সামাজিক সাম্যের ব্যবস্থা না করতে পারলে এই রাজ্যেকে আর বাঁচানো যাবে না। সেটা করতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আর সেই অধিকার অর্জনের জন্যে সবরকম সাহায্য বিজেপি আপনাদের করবে। তৃণমূলের আমলে বাংলা মায়ের যে মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে তার পুণরুদ্ধার করা বিজেপির প্রধান কর্তব্য। তাই সাধারণ মানুষের অধিকারের টাকা যদি কেউ লুঠ করে নিজের সম্পত্তি বানায়, স্বজনপোষণ করে তার প্রতিরোধ বিজেপি করবে। সরকার যদি পারে তো আটকে দেখাক।

লেখক রাজ্য বিজেপি সভাপতি

(মতামত ব্যক্তিগত)

Related Articles

Back to top button
Close