fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশবাংলাদেশহেডলাইন

যৌথভাবে শান্তিপূর্ণ সীমান্ত সুরক্ষিত করল বিজিবি-বিএসএফ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: শনিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন শেষ হল। গত বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম।

এই দলে বিজিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যৌথ নদী কমিশন এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করছেন। অন্যদিকে ভারতের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা।

আরও পড়ুন: বিশ্ব বাঁশ সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষে বাঁশ দিয়ে তৈরি বিস্কুটের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব

যৌথ অভিযান: সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালুর জন্য রাজি হয়েছে উভয় বাহিনী।

গবাদি পশু পাচারকারীদের দল: উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী গবাদি পশু পাচারকারীদের দ্বারা তাদের উপর ক্রমবর্ধমান সহিংস হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

সীমান্তে ভারত থেকে মাদকদ্রব্য ও গবাদি পশু চোরাচালান: ভারতের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে কোডিন জাতীয় কাশির সিরাপ চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিএসএফের নিয়মতান্ত্রিক প্রচারের প্রশংসা করেছে বিজিবি।

গবাদি পশু চোরাচালান প্রবণ অঞ্চলে যৌথ টহলঃ উভয় বাহিনী একমত হয়েছে যে, সীমান্তে চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলি যে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করছে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চোরাচালান প্রবণ এলাকাসমূহ চিহ্নিত করতে হবে।

গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়: পাচারকারীদের সিন্ডিকেট এবং তালিকা বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভিত্তিতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করতে হবে।

তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় পদ্ধতি: তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী নোডাল কর্মকর্তা নির্বাচন করবে। সীমান্তে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক হত্যার ঘটনা শূন্যে নামাতে বিজিবি এবং বিএসএফের যৌথ প্রচেষ্টা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্রই কেবল ব্যবহার হবে। সকল নিরস্ত্র, নিরপরাধ এবং মানবপাচারের শিকার ব্যাক্তিকে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হবে। মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জাতীয়তা নির্ধারণে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি (এসওপি) গঠন করা হবে।

সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য দৈনিক ভ্রমণ পাস: উভয় বাহিনী এ জাতীয় সামাজিক ভ্রমণ সহজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা / মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি প্রক্রিয়া তৈরির বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টা: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের নীতির পুনরাবৃত্তি করে, বিজিবি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য প্রদানের অনুরোধ করেছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির (যদি থাকে) বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

নদী তীর সুরক্ষা কার্যক্রম: যৌথ নদী কমিশনের অনুমোদন অনুযায়ী বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নদী তীরের সমস্ত সুরক্ষা কাজ শেষ করতে সহযোগিতার জন্য ঐক্যমত্য হয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারী পরবর্তী কার্যক্রম: কোভিড মহামারী সীমান্তে উভয় বাহিনীর সমন্বিত টহল বন্ধ করতে বাধ্য করেছে। উভয় মহাপরিচালক দুই বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে এবং সীমান্তে অপরাধ হ্রাস করতে আবারো সমন্বিত টহল চালু করতে সম্মত হন। চলমান মহামারীর প্রভাব হ্রাসের পরে উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close