fbpx
হেডলাইন

বালুরঘাটে উনিশের লিডকে ধরে রাখতে চায় বিজেপি

রক্তিম দাশ, কলকাতা:  গত ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে বালুরঘাট লোকসভার অর্ন্তগত ৭টি বিধানসভায় সবকটিতে তৃতীয় স্থানে ছিল বিজেপি।ঠিক তিন বছর পরে মোদি ঝড় সব হিসাব উল্টে দিল। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে নিজেদের ভোট ব্যাপক বাড়িয়ে বিজেপি চাপে ফেলে দিয়েছে শাসকদলকে । উনিশের লোকসভা ভোটে  এই কেন্দ্রের অর্ন্তগত ৪টি বিধানসভায় তৃণমূল লিড নিলেও বাকি ৩টিতে ব্যাপক লিড নিয়ে এই কেন্দ্রটি জিতে যায় বিজেপি।এই লিডকে আরও বাড়িয়ে একুশে সবক’টি বিধানসভাতেই জয়ের লক্ষ্যে এখন মরিয়া গেরুয়া শিবির।

বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রটিতে ইটাহার,কুশমাণ্ডি (এসসি), কুমারগঞ্জ, বালুরঘাট, তপন, গঙ্গরামপুর (এসসি) এবং হরিরামপুর বিধানসভা নিয়ে গঠিত। ইটাহার বিধানসভা ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিল সিপিএমের দখলে। এর ২০১১ এবং ২০১৬- বিধানসভা ভোটে আসনটি যায় তৃণমূলের দখলে। এই আসনে মোট ভোটার ২০২২১৯। ২০১৬-তে  তৃণমূলের অমল আচার্য ৮৮৫০৭ (৫২.২৬ শতাংশ), সিপিআইয়ের শ্রীকুমার মুখোপাধ্যায় ৬৯৩৮৭ (৪০.৯৭ শতাংশ) এবং বিজেপির  ইউনুস হক ৭১২৬ (৪.২১ শতাংশ) ভোট পান। তৃণমূল এই আসনে ২০১২০ ভোটে জয়লাভ করে। ২০১৯ এর লোকসভায় এই আসনটিতে তৃণমূল ৮৭,৫০৬, বিজেপি ৫৯৭২৯ এবং আরএসপি ৮১৬৩ ভোট পায়। এই আসনে তৃণমূল বিজেপির থেকে এগিয়ে ২৭৭৭১ ভোটে।

কুশমাণ্ডি বিধানসভাটি ১৯৮৭ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ছিল আরএসপির দখলে। এই আসনে মোট ভোটার ১৯১৪০২। ২০১৬-র বিধানসভায় আরএসপির নর্মদাচন্দ্র রায় ৬৮৯৬৫ (৪২.১৮ শতাংশ), তৃণমূলের রেখা রায় ৬৫৪৩৬ (৪০.০২) এবং বিজেপির রনজিৎকুমার রায় ২০১৮৩ (১২.৩৪ শতাংশ) ভোট পান। এই আসনে আরএসপি ৩৫২৯ ভোটে জয়লাভ করে।  কিন্তু ঠিক তিনি বছর পরে লোকসভা ভোটে এই আসনটিতে  তৃণমূল এর সঙ্গে বিজেপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। তৃণমূল ৭৭৬৪৮, বিজেপির ৭৬৯০৮ এবং আরএসপি মাত্র ৯৫২২ ভোট পায়। এই আসনটি বিজেপি তৃণমূলের থেকে মাত্র ৭৪০ ভোটে পিছিয়ে।

কুমারগঞ্জ বিধানসভাটি ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিল সিপিএমের দখলে। পরবর্তীতে ২০১১ এবং ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে আসনটি যায় তৃণমূলের দখলে। এই আসনটির মোট ভোটার ১৭৯৫০৯। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের তোরাফ হোসেন ম-ল ৬৪৫০১ (৪১.৮৮ শতাংশ), সিপিএমের মাফুজা খাতুন ৬১০০৫ (৩৯.৬১ শতাংশ) এবং বিজেপির মানস সরকার ২২২০১ (১৪.৪১ শতাংশ) ভোট পান। এই আসনে তৃণমূল জয়লাভ করে ৩৪৯৬ ভোটে। কিন্তু ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে এই আসনে মূল লড়াই হয় তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে। তৃণমূল ৮১৫১৮,বিজেপি ৬২৭৫৯ এবং আরএসপি ৯৫১৭ ভোট পায়। এই আসনে তৃণমূল এগিয়ে ১৮৭৫৯ ভোটে।

আরও পড়ুন: পাইলট যে খেলাটা খেলল সেটা খুব দুর্ভাগ্যজনক, নিরীহ চেহারার আড়ালে পিছন থেকে ছুরি মেরেছে’, তোপ গেহলটের

বালুরঘাট বিধানসভাটি ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিল আরএসপির দখলে। ২০১১-তে তৃণমূল জিতলেও ফের ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে আসনটি যায় আরএসপির দখলে। এই বিধানসভায় মোট ভোটার ১৬০৬০৯। ২০১৬-তে আরএসপির বিশ্বনাথ চৌধুরী ৬০৫৯০ (৪২.৮২ শতাংশ), তৃণমূলের শংকর চক্রবর্তী ৫৯১৪০ (৪১.৭৯ শতাংশ) এবং বিজেপির গৌতম চক্রবর্তী ১৫২৫৮ (১০.৭৮ শতাংশ) ভোট পান। এই আসনে আরএসপি জয়লাভ করে ১৪৫০ ভোটে। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে আরএসপি তৃতীয় স্থানে চলে যায়। বিজেপি ৮১২৯৩, তৃণমূল ৪২২৭৭, এবং আরএসপি ১৪৮১৬ ভোট পায়। ব্যাপক ভোট বাড়িয়ে এখানে বিজেপি তৃণমূলের থেকে ৩৯০১৬ ভোটে এগিয়ে।

তপন বিধানসভাটি ১৯৭৭ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ছিল আরএসপির দখলে। কিন্তু ২০১১ এবং ২০১৬-র বিধানসভার ভোটে এটি যায় তৃণমূলের দখলে। এই আসনটির মোট ভোটার ১৬৯৫৬৯। ২০১৬-র বিধনাসভায়  তৃণমূলের বাচ্চু হাঁসদা ৭২৫১১ (৪২.৭৮ শতাংশ), আরএসপির রঘু ওঁরাও ৬৮১১০ (৪০.১৯ শতাংশ) এবং বিজেপির  কৃষ্ণা কুঁজুর ২০৫১০ (১২.১০ শতাংশ) ভোট পান। এই আসনটি ৪৪০১ ভোটে তৃণমূল জয়লাভ করে। কিন্তু সব হিসাব উলটে ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে তৃণমূলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। বিজেপি ৮৯৭৩৭, তৃণমূল ৬৬৪৮৩ এবং আরএসপি ১২৪৮৫ ভোট পায়। এই আসনটিতে বিজেপি ২৩২৫৪ ভোটে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূলের থেকে।

আরও পড়ুন: দিনহাটায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে ঘিরে বিক্ষোভের মুখে প্রধান

গঙ্গরামপুর বিধানসভাটি  ১৯৮৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিল সিপিএমের দখলে। ২০১১-তে তৃণমূল এবং ২০১৬-র বিধানসভায় আসনটি যায় কংগ্রেসের দখলে। এই আসনটির মোট ভোটার ১৯৮৭২৪। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের গৌতম দাস ৮০৪০১ (৪৬.৩৭ শতাংশ), তৃণমূলের সত্যেন্দ্রনাথ রায় ৬৯৬৬৮ (৪০.১৮ শতাংশ) এবং বিজেপির সনাতন কর্মকার ১৭৬০৪ (১০.১৫ শতাংশ) ভোট পান। এই আসনটি কংগ্রেস জয়লাভ করে ১০৭৩৩ ভোটে। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে এই আসনটিরও হিসাব উল্টে যায়। বিজেপি ৯২১৩৮, তৃণমূল ৭০০৫৩ এবং আরএসপি ৮৮০২ ভোট পায়। বিজেপি এই আসনে বিপুল ভোট বাড়িয়ে তৃণমূলের থেকে ২২০৮৫ ভোটে এগিয়ে।

হরিরামপুর বিধানসভাটি ২০১১ সালে ডিলিমিটেশনের ফলে তৈরি হয়। প্রথমবার এটি তৃণমূলে দখলে থাকলেও ২০১৬-র বিধাননভা ভোটে আসনটি যায় সিপিএমের দখলে। এই আসনটির মোট ভোটার ১৬৬৮৬৫। ২০১৬-ও বিধানসভায় সিপিএমের রফিকুল ইসলাম ৭১৪৪৭ (৪২.৮৩ শতাংশ), তৃণমূলের বিপ্লব মিত্র ৬৬৯৪৩ (৪০.১৩ শতাংশ) এবং বিজেপির ফণিভূষণ মাহাতো ১৯৮৪৫ (১১.৯০ শতাংশ) ভোট পান। সিপিএম এই আসনটি ৪৫০৪ ভোটে জয়লাভ করে। ৯৬১৮ ভোট পায়। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে এই আসনে তৃণমূল ৭৯৯৭৮, বিজেপি ৭৫০১৩ এবং আরএসপি ৯৬১২। বিজেপির ব্যাপক ভোট বাড়লেও এখানে তারা তৃণমূলের থেকে ৪৯৬৫ ভোটে এগিয়ে।

Related Articles

Back to top button
Close