fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জলাশয় থেকে উদ্ধার বিজেপি কর্মীর দেহ…খুনের অভিযোগ পরিবারের

অভিষেক চৌধুরী, কালনা: দুদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর জলাশয় থেকে উদ্ধার হল এক বিজেপি কর্মীর রক্তাক্ত মৃতদেহ। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর বাসিন্দা ওই বিজেপি কর্মীকে খুন করার অভিযোগ তোলেন পরিবারের লোকজন। মৃতের নাম শুকদেব প্রামাণিক(৩৫)। তার বাড়ি নিমদহ এলাকায়। রবিবার দুপুরে দেহ উদ্ধারের পর থেকেই ওই এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। রবিবার রাত পর্যন্ত বিজেপি কর্মীরা দফায়-দফায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করেন ও বিক্ষোভ দেখান। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ দেখানো হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন বিজেপির জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ। যদিও এই ঘটনায় তৃণমূল জড়িত নয় বলে জানায় তৃণমূল নেতৃত্ব।

স্থানীয় ও মৃতের পরিবারসূত্রে জানা যায় যে,পূর্বস্থলীর নিমদহের চাঁদপাড়ার বাসিন্দা শুকদেব প্রামাণিক বিজেপির বুথস্তরের কর্মী বলে পরিচিত। আর পেশা হিসাবে তার একটি চায়ের দোকানও রয়েছে।সাতমাস আগেই রায়গন্জে তার বিয়েও হয়।পরিবারের লোকেরা জানান,শুকদেব গত শুক্রবার স্থানীয় এলাকায় বিজেপির মিটিং সেরে বাড়ি ফিরে আসে। এরপর ওইদিনই রাতেই বাড়ি বেরোনোর পরেই হঠাৎই সে নিখোঁজ হয়ে যায়।দু-দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর রবিবার তার পরিবার পূর্বস্থলী থানায় বিষয়টি জানাবে বলে ঠিকও করে নেয়।এর মধ্যেই ওইদিনই দুপুর ২ টো নাগাদ বাড়ির অদূরেই একটি জলাশয় থেকে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়।পরিবারের দাবি তাদের ছেলেকে খুন করে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে।এই বিষয়ে মৃত যুবকের বাবা সুনীল প্রামাণিক বলেন,‘আমার ছেলে বিজেপি করে। শুক্রবার বিজেপির একটি মিছিল করে বাড়ি ফেরে।বাড়িতে খাওয়া দাওয়াও করে।এরপর রাত ১১ টার পর থেকে ছেলে নিখোঁজ হয়ে যায়।স্থানীয় জল জঙ্গল সর্বত্র খুঁজেছি।যদি কেউ মেরে ফেলে রাখে এই ভেবে। কোথাও খুঁজে পাইনি।দুপুর দুটো নাগাদ বাড়ির কাছেই হাঁটুজলের একটি ঘাট থেকে ছেলের দেহ উদ্ধার হয়।আমি যখন খোঁজাখুঁজি করি তখনও ওই ঘাটে পাড়ার মেয়েরা কাপড় কাচছিলো,স্নান করছিলো।ওই ঘাট থেকেই দেহ উদ্ধার হয়।আমি যখন খুঁজি তখন ওই লাশ ছিলো না।ওইখানেই আমি তিনবার খুঁজেছি,কিন্তু পাইনি।এই রহস্যজনক ঘটনা থেকেই বুঝতে পারছি আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে।আমার ছেলেকে যারা মেরেছে সেই দোষী ব্যক্তির শাস্তি চাই।’

এই ঘটনার পরেই বিজেপি নেতৃত্ব রাস্তায় নামে।পথ অবরোধ করে।টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে।ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।

এই বিষয়ে বর্ধমান পূর্বের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ বলেন,‘বিজেপির মিছিলে যাওয়া ও জয়শ্রী রাম বলার কারণে আমাদের এই কর্মীকে খুন করা হয়েছে।কারণ শুকদেবের হঠাৎ করে গায়েব হয়ে যাওয়া তারপরেই আজ মৃতদেহ উদ্ধার এই থেকেই সব রহস্যই উদ্ঘাটন হয়ে যায়। সারা রাজ্যে বিজেপি কর্মীদের এইভাবেই খুন করা হচ্ছে।আর সেইসব ঘটনা তৃণমূলই করছে। এই ঘটনাও তৃণমূলই করেছে। থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ দেখানো হবে।’ যদিও এই খুনের ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই জানান স্থানীয় তৃণমূল নেতা তপন চট্টোপাধ্যায়।
এই বিষয়ে তিনি বলেন,‘ এখানে বিজেপির তিনটি দল। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে রয়েছে।শুধু তাই নয় খবর নিয়ে জানতে পারি ওই যুবকের পারিবারিক অশান্তিও রয়েছে চরম পর্যায়ে। নতুন করে ইস্যু খোঁজার জন্যই কোনও ঘটনা ঘটলেই এখন তৃণমূলকে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।এটাও তাই।’

আরও পড়ুন: রাজ্যের পরিস্থিতি ভয় ও আতঙ্কের, দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা উচিৎ: কৈলাস

এই বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব দাস বলেন,‘অভিযোগ পেয়েছি। কেস শুরু করে।ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’

Related Articles

Back to top button
Close