fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গান স্যালুটের মধ্য দিয়ে সমাধিস্থ বীর জওয়ানের দেহ

অভিষেক আচার্য, তেহট্ট: হাজার হাজার মানুষের চোখের জলে শেষ বিদায় নিলেন সুবোধ ঘোষ। রবিবার নিজের গ্রামের মাটিতে, নিজের বাড়ির কাছেই সমাধি দেওয়া হল এই সেনা জওয়ানকে। তাঁর দেহ যখন সমাধি দেওয়া হচ্ছে, তখন চারপাশে স্লোগান উঠল, ‘সুবোধ ঘোষ অমর রহে’।
দূর-দূরান্ত থেকে জেলার বীর সন্তানকে একবার চোখের দেখা দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন নদিয়ার তেহট্টের রঘুনাথপুর গ্রামে। রবিবার খুব সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে শুরু করে গ্রামে। সুবোধের দেহ আসার কথা ছিল সকালে। কিন্তু রবিবার গভীর রাতে রঘুনাথপুর পৌঁছয় সুবোধের কফিনবন্দি দেহ।

সামনে দু’টি রাজ্য পুলিশের বাইক, তার পরে পুলিশ ভ্যান এবং সব শেষে সেনাবাহিনীর কনভয়ের পরেই ছিল সুবোধের কফিন নিয়ে সেনা ট্রাক। মানুষের ভিড় তখন ভেঙে পড়েছে সেখানে। অনেকেকেই দেখা গিয়েছে বাড়ির ছাদে উঠে দেখতে। সেই ভিড়ে না ছিল করোনা সংক্রমণ রুখতে দূরত্ব-বিধি পালন না ছিল অধিকাংশের মুখে মাস্ক। প্রথমেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানানো মঞ্চে নামানো হয় কফিনবন্দি সুবোধকে। সেখানে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়ম মেনে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একে একে উপস্থিত সরকারি আধিকারিকেরা জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিনে মাল্যদান করেন।

এর পরে সেনা জওয়ানরা কফিন কাঁধে তুলে প্যারেড করে নিয়ে যান বাড়িতে। সেখানে প্রায় আধ ঘণ্টা রাখা হয় এবং কফিন খুলে পরিবারকে দেখানো হয় সুবোধের দেহ। আর কেউ স্থির থাকতে পারেননি। কান্নায় ভেঙে পড়েন সুবোধের স্ত্রী অনিন্দিতা ঘোষ, বাবা গৌরাঙ্গ ঘোষ, মা বাসন্তী ঘোষ এবং অন্য আত্মীয়-পরিজনেরা। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে একটা সময় জ্ঞান হারান সুবোধের মা ও স্ত্রী। পারিবারিক নিয়ম মেনে গঙ্গাজল, তুলসী পাতা, দূর্বাঘাস ও ধান দেওয়া হয় রাজেশকে। রঘুনাথপুর পঞ্চায়েতের নিমতলা বিদ্যানিকেতনের ফুটবল খেলার মাঠে শহিদ সুবোধ ঘোষের শেষ যাত্রার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।

আরও পড়ুন: সৌমিত্র প্রয়াণে শোকস্তব্ধ অমিতাভ

এর পরে রাজেশের কফিন কাঁধে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার-সহ কয়েক জন নিয়ে যান সমাধিস্থলে। সেখানে প্রথমেই রাজ্য পুলিশের পক্ষ ‘গান স্যালুট’দেওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও তিন বার গুলি চালিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সুবোধের মৃতদেহ কফিন বন্দি করেই সমাধি দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের ভিড়ে তখন তিল ধারণেরও জায়গা নেই। ফের উঠল স্লোগান, ‘সুবোধ ঘোষ অমর রহে’। সমাধির পরে সুবোধের মায়ের হাতে সেনাবাহিনীদর পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয় সুবোধের টুপি, বেল্ট, পোশাক ও ব্যাচ। সঙ্গে কফিনের গা জড়িয়ে থাকা জাতীয় পতাকা। এ ছাড়াও তাঁর হাতে সেনার তরফে তুলে দেওয়া হয় একটি বড় অঙ্কের চেক। সব শেষে ফিরে যান সেনা জওয়ানেরা। রাত আরও গভীর হয়েছে। সারা দিন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা ক্লান্ত পা-গুলি ঘরমুখো। শুনশান রঘুনাথপুর থেকে গেল সুবোধ ঘোষের স্মৃতি বুকে নিয়ে।

Related Articles

Back to top button
Close