fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পরিবারকে না জানিয়ে করোনা আক্রান্তের মৃতদেহ সৎকার, বিতর্কে স্বাস্থ্য দফতর

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির পরিবারকে মৃত্যুর খবর না জানিয়ে মৃতদেহ সৎকার করে দেওয়ায় কোণঠাসা দার্জিলিং জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। মৃত্যুর পর ৪০ ঘণ্টা কেটে গেলেও শিলিগুড়ি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওই পরিবারের কাছে সরকারিভাবে এখনও মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি, দেওয়া হয়নি কোনও নথি। এই ঘটনায় প্রবল চাপের মধ্যে পড়ে গিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। আর এর থেকে মানুষের নজর ঘোরানোর জন্য শহরের এক বিজেপি নেতার করোনা সংক্রমণ নিয়ে স্বাস্থ্য দফতর রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করলেন বিজেপি-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রথীন্দ্র বসু।

 

 

মঙ্গলবার রাতে শিলিগুড়ির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক করোনা আক্রান্ত বাসিন্দা চ্যাং সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মারা যান।  মৃতের পূত্র শুভজিত পালের অভিযোগ, তাদের  মৃত্যুর খবর না দিয়ে তার বাবার মৃতদেহ প্রশাসনের তরফে সৎকার করে দেওয়া হয়েছে। সংবাদপত্র পড়ে তারা জানতে পারেন তার বাবা মারা গিয়েছেন এবং মৃতদেহ সৎকার করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত সরকারিভাবে তাদেরকে তার বাবার মৃত্যুর কোনও নথিও দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় শহরে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। মৃতের ছেলে জানিয়েছে, বুধবার সকালে পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব তাদের বাড়ি গিয়ে এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এসেছেন।

 

 

বৃহস্পতিবার এই বিতর্কের মাঝেই উত্তরবঙ্গের করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওএসডি ডাক্তার সুশান্ত রায় সাংবাদিক সম্মেলনে শিলিগুড়িতে করোনার ব্যাপক সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য তিনি নাম না করে বিজেপি-র শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক রাজু সাহাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘ শিলিগুড়িতে যেভাবে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে তা উদ্বেগ জনক। এই পরিস্থিতির জন্য  দায়ী সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তি। যার সঙ্গে বহু মানুষের যোগাযোগ রয়েছে। তিনি করোনা সংক্রমিত অবস্থায় শহরের বিভিন্ন বাজার, ব্যাঙ্কে গিয়েছেন। ১৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুরু করে আরও অনেক ওয়ার্ডে ঘুরে বেরিয়েছেন। তার পরিবারের লোকরাও করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। তারাও অনেক মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। এতে শিলিগুড়িতে তাদের সংস্পর্শে বহু মানুষ সংক্রমিত হওয়ায় এই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।’

 

 

স্বাস্থ্য কর্তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিযেছেন বিজেপি-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রথীন্দ্র বসু। তিনি বলেন, ‘ শিলিগুড়িতে কেন সংক্রমণ লাগামছাড়া হয়েছে তা সাধারণ মানুষ ভালো মতোই জানেন। স্বাস্থ্য দফতর কেমন কাজ করছে তা তারা নিজেরাই প্রমাণ দিয়ে দিয়েছেন। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যাচ্ছেন অথচ তার পরিবারকে না জানিয়ে মৃতদেহ সৎকার করে দেওয়া হচ্ছে। এই অমানবিক কাজের জবাব স্বাস্থ্য দফতর ও পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবকে দিতে হবে। কেননা ওই মৃত ব্যক্তি গৌতমবাবুর পাড়াতেই থাকতেন। ওই ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিদয়ী কাউন্সিলর গৌতমবাবুর স্ত্রী। আসলে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা চাপা দিতে মানুষের নজর ঘোরানোর জন্য স্বাস্থ্যকর্তারা বিজেপি নেতাকে জড়িয়ে নোংরা রাজনীতি করছেন।’ মৃতের পরিবারকে খবর না দিয়ে কেন মৃতদেহ সতকার করা হলো? এই প্রম্নের জবাবে এদিন ডাক্তার সুশান্ত রায় বলেন, ‘বিষয়টি সিএমওএইচ’কে দেখতে বলা হয়েছে।’ আর জেলাশাসক এস পুনমবাল্লম জানিয়েছেন, এখন থেকে হাসপাতালের পাশাপাশি প্রমাসনও পরিবারকে খবর দেবে। সেই খবর না পৌঁছনো পর্যন্ত মৃতদেহ দাহ করা হবে না।

Related Articles

Back to top button
Close