fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ঐক্যবদ্ধ ভারতের ডাক ভিএইচপির……

রামের আদর্শে জাতপাতহীন দেশের সংকল্প হিন্দুত্ববাদীদের

রক্তিম দাশ, কলকাতা: অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ ঐক্যবদ্ধ হিন্দুত্ববাদের প্রতীক। এর মধ্য দিয়েই জাত-পাত-বর্ণবাদ বিরোধী এক নতুন ভারত গড়ার সূচনা হতে চলেছে’। দাবি করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের।আর তাদের দাবি, ঠিক এই কারণে দেশের হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শাখার মঠ-মন্দিরের জল ও মাটিকে সংগ্রহ করা হয়েছে রামমন্দির নির্মাণের ভূমিপুজোর জন্য।

রামচন্দ্র দলিত বিরোধী ছিলেন। তাই এই মন্দির নির্মাণে দলিতদের অংশ নেওয়া উচিত নয় সম্প্রতি একটি মহল প্রচার শুরু করেছে।
এই প্রচারের তীব্র বিরোধিতা করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্রের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন মুখোপাধ্যায় বলেন,‘ শ্রীরাম যদি দলিত বিরোধী হন তাহলে বনবাসী হনুমান, সুগ্রীবদের সাহায্য নিয়েছিলেন কেন? যাঁরা ভগবান রামের অস্তিত্ব স্বীকার করেন না তাঁদের কাছে আমাদের শিখতে হবে? এসব বামপন্থী তথাকথিত ঐতিহাসিকদের চক্রান্ত। তাঁরা আদালতেও গিয়েও এসব প্রমাণ করতে পারেননি।’

আরও পড়ুন:করোনা ভাইরাস বিশ্বে বহু যুগ ধরে তার প্রভাব রাখবে: WHO

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ হিন্দু ধর্মের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ মানে না জানিয়ে স্বপনবাবু বলেন, ‘১৯৬৪ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জন্ম হয়েছিল এই কারণেই। জাত-পাত, দলিত, হরিজন এসব আমরা মানি না। আমাদের কাছে সবাই হিন্দু। হিন্দু ধর্মের প্রতিটি মত ও পথের মধ্যে একাত্তত্বা গড়ে তোলাই আমাদের কাজ। আজ রামমন্দির নির্মাণ কোনও ধর্মীয় উপসনালয় গড়ে তোলা নয়, হিন্দুদেও মধ্যে একাগ্রতা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তাই ১৯৮৯ সালে তফসিলি যুবক কামেশ্বর চৌপালের শ্রী রাম জন্মভূমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তিনি আজ শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের অন্যতম ট্রাস্টিও। ভগবান শ্রী রাম নিজের জীবনে শবরী মাতার সম্মান প্রদর্শন এবং নিশাদরাজের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির উদাহরণ তৈরি করেছিলেন। আর সেজন্যই ভূমিপুজোয় মধ্যপ্রদেশের তান্ত্যভিলের পবিত্র ভূমি এবং ঠাকুরনগরের মতুয়া তীর্থের মাটি ও জল ব্যবহার করা হবে।’

হিন্দু সংহতির সর্বভারতীয় সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন,‘ ভগবান রামচন্দ্র ব্রাহ্মণ ছিলেন না, বরং ব্রাহ্মণ ছিলেন রাবণ। তাই রামচন্দ্র কর্তৃক রাবণ বধ দলিতের উপরে ব্রাহ্মণ্যবাদের অত্যাচার- একথা ধোপে টেকে না। দ্বিতীয়ত, বনবাসে থাকাকালীন রামচন্দ্র যাঁদের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে জাতিতে চন্ডাল গুহক রাজা, মাতা শবরী যিনি জাতিতে ছিলেন শবর। রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিযানে রামচন্দ্রের সঙ্গে কোনও উচ্চবর্ণের লোকেরা ছিলেন বলতে পারেন? তাঁর সৈন্যদল ছিল বনবাসী, গিরিবাসীদের নিয়ে তৈরি। এদেরকেই তো দলিত বলা হয়, তাই নয় কি? তাহলে দেখা যাচ্ছে সৈনিকরা দলিত সম্প্রদায়ের, সেনাপতির ভূমিকায় দলিত, শ্রেষ্ঠভক্ত হনুমান দলিত। আর সবাই মিলে মারতে যাচ্ছে যাকে, সে হল মস্ত এক ব্রাহ্মণ! রামের নামে জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা আগেও একত্রিত ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।’

আরও পড়ুন: রাজ্যে গণতন্ত্র ভেঙে পড়েছে, দলীয় কর্মীরা একের পর এক খুনই তার প্রমাণ: সায়ন্তন বসু

বিশিষ্ট শিক্ষবিদ ড. অচিন্ত্য বিশ্বাস বলেন,‘ বাংলার নমঃশুদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা বড় অংশ মতুয়া। মতুয়াদের মূল আকর গ্রন্থ শ্রীশ্রী হরিলালমৃততে লেখা হয়েছে, রাম হরি,কৃষ্ণ হরি, হরি গোরাচাঁদ, সর্বহরি মিলে এই পূর্ণ হরিচাঁদ। এখানে হরিচাঁদ ঠাকুর বিষ্ণু অবতার এবং পূর্ণ অবতার। রাম, কৃষ্ণ, শ্রী চৈতন্যে বিশ্বাস করলে রামমন্দিরে মতুয়া তীর্থ ঠাকুরবাড়ির মাটি-জল রামমন্দির নির্মাণে যাওয়ায় বিরোধিতা কেন? বামপন্থী ঐতিহাসিকরা হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলির ভূল ব্যাখ্যা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছেন। রামায়ণের মূল পর্ব পাঁচটি যা আদি কাণ্ড নামে পরিচিত। যেখানে আছে রামের বন্ধু চন্ডাল রাজা গুহকের কথা। শবরীর কথা। যিনি রামভক্ত ছিলেন। পরে আরও দু’টি খণ্ড এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে যেখানে শম্বুক হত্যার কথা আছে। এসব না জেনে হইচই করা হচ্ছে। রামের নামে মতুয়া বা দলিতদের ভাগ করা মানে, হিন্দুদের ভাগ করার চক্রান্ত।’

অধ্যাপক রাজীব বিশ্বাসের মতে,‘ প্রাচীন হিন্দু সমাজ বুদ্ধিবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত হতো। ব্রাহ্মণ লাভ করতেন যিনি, তিনি ব্রাক্ষ্মণ হতেন। যা আমাদের হিন্দুদের গোত্রগুলো দেখলেই বোঝা যায়। কোনও না কোন ঋষি ব্রাহ্মণের নামে আমাদের গোত্র হয়েছে। রাম একটি ভাবনার প্রতীক। যিনি একজন শুদ্ধ জনপ্রতিনিধি ছিলেন। যিনি বৈষম্যহীন আর্থিক এবং সামজিক ন্যায়ের শাসনব্যবস্থার প্রবর্তক। এই রাম কখনওই ব্রাহ্মণ নন। তিনি বনবাসীদের আরাধ্য দেবতা। ইন্দোনেশিয়ার মতো মুসলিম প্রধান দেশও রামের সংস্কৃতিকে আজও ধরে রেখেছেন। ভারতের প্রথম প্রকাশিত সংবিধানের প্রতিটি পাতায় রামরাজত্বের ছবি কিন্তু আঁকা হয়েছিল। মহাত্মা গান্ধীও রাম রাজত্বের কথাই বলতেন’।

Related Articles

Back to top button
Close