fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কুখ্যাত গরু মাফিয়া এনামুল হকের খোঁজে জোরদার তলাশি চালাচ্ছে সিবিআই 

মিল্টন পাল,মালদা: কুখ্যাত গরু মাফিয়া হাওলা ট্রেডার্স এনামুল হকের খোঁজে রাজ্যে হন্যে হয়ে তলাশি চালাচ্ছে সিবিআই।এরই মধ্যে সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশ রমরমিয়ে গরু পাচার চালিয়ে যাচ্ছে তারই সহযোগী হুন্ডি ব্যবসায়ীর গডফাদার হাজি আবু তালেব ওরফে হুন্ডি হাজি। তার নিয়ন্ত্রণে চলে বাংলাদেশের সীমান্ত থানা, এপথে যাচ্ছে ভারতীয় গরু, অস্ত্র, মাদক,আর ভারতে আসছে সোনার বার। আবু তালেবের ভয়ে ওই এলাকায় সবাই ‘হুজুর’, ‘হুজুর’ করে।

জানা গেছে, আবু তালেবের ওস্তাদ নাকি সীমান্তের ওপারে জেলখানায় বসে নিয়ন্ত্রণ করে এ সকল চোরাচালানের ব্যবসা। বাংলাদেশের  উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্তে বিশেষ করে চাঁপাই নবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানি হুন্ডিবাজরা, মগেরমুল্লুক কায়েম করে চলেছে সেখানকার প্রশাসনের নাকের ডগায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর ও পুলিশ বাহিনীর নজরের সামনে ভারত বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের চারটি সীমান্ত দিয়ে অবাধে যাচ্ছে ভারতীয় গরু। লেনদেন হচ্ছে হুন্ডি ও স্বর্ণবারে। আন্তজার্তিক হুন্ডিপাচার ও ভারতীয় গরু পাচার চক্রের মূল হোতা এনামুল হকের বাংলাদেশি শিষ্যরা ফের সক্রিয় হয়ে এসবের নিয়ন্ত্রণ করছে। এনামুল চক্রের রুবেল সিন্ডিকেট কোনও রশিদ ছাড়া টাকা করে ব্যাপারীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে। অবৈধ পথ দিয়ে পাচার করা হচ্ছে শত শত গবাদিপশু। এভাবেই চলছে চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসা।

গরু প্রতি ২৯ হাজার টাকার চাঁদার ভাগের মধ্যে বিট মালিক নেয় ১২ হাজার, এনামুল নেয় ১৪ হাজার এবং চোরাচালান সিন্ডিকেট নেয় ৩ হাজার টাকা।ব্যাপারীদের অভিযোগ গরু চোরাচালানীর টাকা ভাগ বাটোয়ারার প্রায় ১০ কোটি টাকা এনামুল সিন্ডিকেটের কাছে আসছে হুন্ডির মাধ্যমে।

২০১৮ সালের ৬ মার্চ ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয় আন্তজার্তিক হুন্ডিপাচার ও গরু পাচার চক্রের মূল হোতা এনামুল হকে। পরে জামিনে ছাড়া পান। তার বাংলাদেশি সহযোগীরা এখন বহাল উত্তরের বিভিন্ন সীমান্তে নেমেছে।

এর মধ্যে চাঁপাই নবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় হুন্ডি কাদের বলে এক পাচারকারীর আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। ভারতীয় হুন্ডি এনামুল সিন্ডিকেটের অন্য মত আড়ত চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার মাসুদপুর, বাকের আলী, জহরপুর মনোহরপুর এলাকা। এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, ডন আবু তালেব, রফিকুল ইসলাম, মিন্টু, আনোরুল, গোলাম জাকারিয়া ভদ্র, সাইফুল ইসলাম, সাজু, আশরাফুল ইসলাম, একরামুল হক, ফিরোজ, টিপু সুলতান, রুহুল আমিন, হারুন অর রশীদ, ইসমাইল, ওবায়দুল হক, সেলিম রেজা, জাহাঙ্গীর আলম, মমিনুল হক, বাবুল হাসনাত, জিএম বাবুল চৌধুরী, মতিউর রহমান ও ভারতীয় নাগরিক আব্দুর রউফ। সরেজমিনে জানা গেছে, অবৈধ খাটাল তৈরি করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করছে চোরাচালানী সিন্ডিকেট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ৪টি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি গরু আসছে। এই জেলার সীমান্ত পথে গত দুই মাসে প্রায় ৪০ হাজার গরু এসেছে ভারত থেকে।

আরও পড়ুন:মোদির রাজত্বকালে সম্ভব নয় ভারত-পাক ক্রিকেট, আক্ষেপ প্রাক্তন পাক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদির

আরও জানা গিয়েছে জহুরপুর টেক ও ফতেপুর খাটাল থেকে গরু পাচার করে আনা হচ্ছে। চাঁপাই নবাবগঞ্জের ওয়াহেদপুর, ফতেপুর, জোহরপুর,টেক পয়েন্ট দিয়ে, সন্ধ্যার পরই সীমান্ত অতিক্রম করে নির্বিঘ্নে দৈনিক ১০০০ এর বেশি গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আর এভাবেই চলছে গরু পাচার।

চাঁদাবাজির অবৈধ টাকা প্রসঙ্গে মাসুদপুর সীমান্ত পথে মালিক রুবেল আহমেদ দাবি করেন, ২৯ হাজার টাকা নয় তিনি গরু প্রতি নিচ্ছেন ২ হাজার টাকা। স্থানীয়রা জানান, মাসুদপুরের পথে গত কয়েক দিনে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি গরু প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। আর এ সুযোগে মাসুদপুরের গরুর মালিক মো. রুবেল আহমেদ চোরাইপথে আসা গরুর কারবার চালিয়ে টাকা আদায় করে গত কয়েকদিনে কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছেন।

Related Articles

Back to top button
Close