fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

দলত্যাগ বিরোধী আইনকে আরও আঁটোসাঁটো করতে চায় কেন্দ্র

ইন্দ্রানী দাশগুপ্ত ,নিউদিল্লি: দলত্যাগ বিরোধী আইনে বেশ কিছু পরিবর্তন এনে আইনটিকে আরও আঁটোসাঁটো করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। হিমাচল প্রদেশের সিমলায় মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ৫৮তম স্পিকার কনফারেন্স। চলবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। সেখানেই দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে আলোচনা হবে বলে সোমবার জানান লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। তিনি বলেন, “বিভিন্ন রাজ্যে বিধায়করা নির্বাচিত হওয়ার পর যেমন এক দল থেকে অপর দলে চলে যান, সেরকমই বহু সাংসদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। আসলে দলত্যাগ বিরোধী আইনটি যথেষ্ট পুরনো। তাই এই আইনকে আরও কড়া করার জন্য বেশ কিছু নিয়ম কানুনের পরিবর্তন আনা নিয়ে আলোচনা করা হবে এই বৈঠকে।”

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের দুই সাংসদ সুনীল মণ্ডল এবং শিশির অধিকারী যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। পরবর্তী কালে বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত মুকুল রায়-সহ একাধিক বিধায়ক যোগ দেন তৃণমূলে। মুকুল রায়ের দলবদলের বিষয়টি এই মুহূর্তে আদালতে বিচারাধীন। অন্যদিকে দলত্যাগী দুই সাংসদের সাংসদ পদ বাতিলের দাবি তুলে ইতিমধ্যেই লোকসভার অধ্যক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সুনীল মণ্ডল এই মুহূর্তে তৃণমূলে রয়েছেন বলেই দাবি করছেন। কিন্তু শিশির অধিকারীর বিষয়টি এখনও ঝুলে রয়েছে। এই সমস্ত প্রসঙ্গের অবতারণা করে স্পিকার জানান , সংবিধানের দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দল যদি দলত্যাগ করার জন্য কোনও সাংসদের বিরুদ্ধে সাংসদ পদ খারিজের আবেদন করে, তাহলে নির্দিষ্ট কমিটি প্রথমে বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখে। এরপর উভয় পক্ষকেই নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য নোটিস পাঠানো হয়। এরপর লোকসভা বা রাজ্যসভার এথিক্স কমিটি এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ১৯৮৫ সালের ৫২ তম সংশোধনী অনুযায়ী দলত্যাগ বিরোধী আইন বর্তমান সময়ে অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক। এই আইনের ফাঁক গলে বহু  বিধায়ক এবং সাংসদ পুনর্বার নির্বাচনের সম্মুখীন না হয়ে দলত্যাগ করার পরেও দীর্ঘদিন নিজেদের বিধায়ক বা সাংসদ পদের সুবিধা ভোগ করেন। এই কারণেই এই আইনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল দশটায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মাধ্যমে সিমলাতে শুরু হবে দেশের ৩৬টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্পিকারেদের কনফারেন্স। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন হিমাচল প্রদেশের রাজ্যপাল, সেই রাজ্য থেকে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর-সহ মুখ্যসচিব এবং সচিবরা।

Related Articles

Back to top button
Close