fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মধ্যমিকের খাতা সংগ্রহ করতে প্রধান পরীক্ষক পৌঁছে গেলেন পরীক্ষকদের কাছে

অমিত দাস , নদিয়া (করিমপুর):  করোনা সংক্রমণে বন্ধ হয়ে রয়েছে স্কুল কলেজ সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্থগিত হয়ে আছে উচ্চমাধ্যমিকের বেশ কয়েকটি পরীক্ষা। লকডাউন শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক চলার সময়। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছিল লকডাউনের আগেই। এমনকি খাতার ডিসট্রিবিউশনও হয়ে গেছিল। ফলে মাধ্যমিকের খাতা দেখাও শেষ। এখন সময় খাতা জমা দেবার। নিয়ম মতো খাতা দেখার পর প্রতিটি পরীক্ষককে নিজে গিয়েই প্রধান পরীক্ষকের কাছে খাতা জমা দিয়ে আসতে হয়। কিন্তু লকডাউনের জেরে গাড়িঘোড়া সব বন্ধ। কোনও কোনও এলাকা রয়েছে রেড জোনের আওতায়। অন্যান্য এলাকায় রয়েছে কড়া প্রশাসনিক নজর। মানুষ নিজের এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে গেলে লাগছে প্রশাসনের অনুমতি। এমতাবস্থায় কিভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা পৌছনো হবে প্রধান পরীক্ষকের কাছে , একথা ভেবে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছে শিক্ষক শিক্ষিকারা।

সরকারি তৎপরতায় মাধ্যমিকের রেজাল্টের দিনক্ষণ স্থির করা না হলেও পরীক্ষার খাতা সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে সঠিক সময়ে খাতা প্রধান পরীক্ষকের কাছে পৌছে দেওয়া প্রয়োজন। বাঁধ সেধেছে কোভিড ১৯ এর সংক্রমণ। লকডাউনে বন্ধ সমস্ত যানবাহন। ফলে চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে সকল শিক্ষক শিক্ষিকাদের। সেই সমস্যার সমাধান করতে এবং শিক্ষক শিক্ষিকাদের কথা ভেবেই নিজেই উদ্যোগ নিলেন এক প্রধান পরীক্ষক।

পলাশিপাড়া থেকে করিমপুরের দুরত্ব অনেক। কিন্তু সেই দুরত্বের কথা না ভেবেই প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্বপ্রাপ্ত পলাশিপাড়ার শিক্ষক ময়ূখ চ্যাটার্জী নিজের খরচে গাড়ি ভাড়া করে চলে আসলেন করিমপুরে , খাতা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার আগেই তিনি সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের ফোন করে জানিয়ে দেন নির্দিষ্ট সময়। তারপর প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করেন পরীক্ষার খাতা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গেই আনেন নিজের দায়িত্বে। আসলে বর্তমান উন্নত সমাজ ব্যবস্থায় অন লাইন শপিংয়ে আমরা প্রায় সবাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন ঘরে বসেই আমরা পেয়ে যায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। ময়ূখ বাবুর এমন অভিনব ও মানবিক উদ্যোগ যেন সে কথাই মনে করিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন: নাজেহাল দশা, সামলাতে মেডিকেলে নিয়োগ সহযোগী সুপার, মর্গে বসছে আরও ছ’টি ডিপ ফ্রিজ

প্রধান পরীক্ষকের এই উদ্যোগে শিক্ষক ও শিক্ষিকারা সত্যিই চিন্তা মুক্ত হয়েছেন। সেই সঙ্গে তাঁরা প্রধান পরীক্ষকের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদও জানিয়েছেন। এরকম জটিল সংকটময় মুহূর্তে প্রধান পরীক্ষকের এই দায়িত্বপূর্ণ কাজের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। এভাবে প্রতিটি শিক্ষক শিক্ষিকার কারও বাড়ি থেকে , কারও স্কুল থেকে খাতা সংগ্রহের মতো দায়িত্বপূর্ণ কাজ সত্যিই অভিনব ও মানবিক। এরকম প্রধান পরীক্ষক পেয়ে অনেক শিক্ষক শিক্ষিকাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। করিমপুর জগন্নাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রিয়তোষ সরকার বলেন , ‘ময়ূখ বাবুর এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। উনি আমাদের প্রধান পরীক্ষক হয়েও যেভাবে শিক্ষক শিক্ষিকাদের কথা ভেবেছেন এবং নিজে বাড়ি বয়ে এসে খাতা সংগ্রহ করেছেন তা সত্যিই মাইলস্টোন হয়ে থাকবে। এরকম প্রধান পরীক্ষককে পেয়ে আমরা সবাই খুব খুশি’।

শিক্ষক ময়ূখ বাবুর কাজ কিন্তু এখানেই শেষ নয়। তিনি করিমপুর থেকে বাড়ি রওনা হওয়ার পথে যে শিক্ষক শিক্ষিকা স্কুটিনির দায়িত্বে আছেন তাদের খাতাও তাদের পৌছে দেবেন বলে জানিয়েছেন। তার কথায় এরকম সংকটজনক অবস্থায় আমরা সবাবই চেষ্টা করছি পৃথিবীকে সুস্থ করে তোলার। কিন্তু এখন মাধ্যমিকের খাতগুলি জমা দেবার সময়। এরকম অবস্থায় প্রত্যেকের পক্ষে নিজে গিয়ে খাতা দিয়ে আসা কষ্টকর। তাই নিজেই বেরিয়ে পড়লাম। দায়িত্বের কাজ , সেটা তো আমাকে করতেই হবে। করোনা সংক্রমণের এই সংকটময় আবহে প্রতিটি মানুষ নিজেকে নিজেকে নিয়ে ভাবছে। ভাবছে নিজের পরিবারকে নিয়ে। তখন প্রধান পরীক্ষক ময়ূখ বাবুর এই দায়িত্বপূর্ণ কাজের ঝুঁকি সত্যিই অন্য মাত্রা এনে দেয়। শিক্ষক শিক্ষিকাদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে যে কাজ তিনি করেছেন তাতে খুশি হয়েছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। যদি সত্যিই এভাবে পরীক্ষার খাতা পৌঁছে যায় পর্ষদের ঘরে তাহলে হয়তো খুব তাড়াতাড়ি মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরনোর সম্ভাবনা বাড়বে। একথা জেনে খুশি হয়েছেন ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরাও।

Related Articles

Back to top button
Close