fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অসতর্কতার জেরে দুর্গাপুরে ক্যানেলে তলিয়ে গেল শিশু

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: ক্যানেল পাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস। তার ওপর অসতর্কতা। টইটম্বুর জলপুর্ন ক্যানেলে পরিবারের অগোচরে তলিয়ে গেল শিশু। ঘন্টা চারেক পর উদ্ধার হলেও, শেষ রক্ষা হল না। মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ল শিশুটি। বুধবার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, দুর্গাপুর কোকওভেন থানার সুকান্তপল্লীর আনন্দপুর এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত শিশুটির নাম বিশ্বজিত চক্রবর্তি। বয়স সাড়ে তিন বছর। ঘটনায় জানা গেছে, শিশুটির বাবা বাপ্পা চক্রবর্তী। পেশায় গাড়ি চালক। সম্প্রতি আনন্দপুরে মা-বাবার সঙ্গে তার মামাবাড়ীতে এসেছিল। মিষ্টি স্বভাবের জন্য শিশুটি পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীর খুব আদরের ছিল।

আরও জানা গেছে, এদিন সকালে পরিবারের সকলের অগোচরে জলপুর্ন ক্যানেলের ঘাটে ব্রাশ নিয়ে দাঁত মাজতে গিয়েছিল। বাড়ীর মধ্যে শিশুকে দেখতে না পাওয়ায় খোঁজাখুজি শুরু করে পরিবারের লোকজন। খবর চাউর হতেই আশপাশের লোকজনও ছুটে আসে। প্রতিবেশীরাও খোঁজাখুজি শুরু করে। খোঁজাখুজির সময় ক্যানেলের ঘাটে নজরে পড়ে শিশুটির টুথব্রাশ। তারপরই চলে ক্যানেলের জলে তল্লাশী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোকওভেন থানার পুলিশ ও স্থানীয় কাউন্সিলার চন্দ্রশেখর ব্যানার্জী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহকুমার বিপর্যয় মোকাবিলা দল। শুরু হয় ক্যানেলের জলে তল্লাশী অভিযান। এদিকে কাউন্সিলার উদ্যোগ নিয়ে ক্যানেলের জলের গতি কমানোর আর্জি করেন সেচ দফতরে। জলের স্রোত কমে যাওয়ার পর ঘন্টা তিনেকের চেষ্টায় শিশুটির দেহ জলে ভেসে ওঠে। ক্যানেল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষনা করে।

শিশুটির বাবা বাপ্পা চক্রবর্তী জানান,” এদিন সকালে কাজে যাওয়ার জন্য আমাকে ঘুম থেকে উঠিয়েছে।” স্থানীয় কাউন্সিলার তথা বরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ব্যানার্জী বলেন,” খুব মর্মান্তিক ঘটনা। সচেতনতার অভাবে দুর্ঘটনা। সর্বদা ওই এলাকার বাসিন্দাদের সজাগ ও সতর্ক করা হয়। ছেলে-মেয়েরা যাতে ক্যানেলের কিনারায় যাতে না যায়, তার জন্যও সাবধান করা হয়।” পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close