fbpx
দেশব্লগহেডলাইন

ভারতীয় সেনার যুব লেফট্যানেন্ট-এর মুষ্ট‍্যাঘাতে দাঁত খোয়াতে হয় চিনা মেজরকে! 

ঋদ্ধিমান রায়: সীমান্তে জঙ্গী অনুপ্রবেশ নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত ভারত। তারই মধ্যে গত দু’দিন ধরে ভারত-চিন সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়েও তৈরি হয় উত্তেজনা। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত পরশু উত্তর সিকিমের নাকু লা সীমান্তে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে আহত হয় উভয় পক্ষের সেনা। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল হেলিকপ্টারে করে ভারত সীমায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় চিন। কিন্তু ভারতীয় ফাইটার জেটের তাড়া খেয়ে পিছু হটতে হয় চিনকে।

 

গতবছরও এই সীমান্তে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল, এবং তারপরই সীমান্তে বাড়তি সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র মজুত করে উভয় দেশই। তৈরি হয়ে যায় একরকম যুদ্ধের পরিস্থিতি। এই কারণে গত দুদিন ধরে ঘটা পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর উভয় দেশের জন্যই। পরশু দিনের হাতাহাতির ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিক ভাবে বিস্তারিত জানানো না হলেও কলকাতার ফোর্ট উইলিয়মের পূর্ব কম্যান্ড মুখ্যালয়ের এক আধিকারিক ঘটনাটি এবার প্রকাশ করলেন।

 

তাঁর বিবৃতি অনুযায়ী, পরশু দিন নাকু লা সেক্টরে জনৈক চিনা মেজর সীমান্তে এসে ভারতীয় সেনাদের উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকা খালি করে দেওয়ার দাবি জানায়। সেই সময় ভারতীয় সেনার এক যুবক লেফটেন্যান্ট এর প্রতিবাদ করলে চিনা মেজর তার দিকে তেড়ে আসে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সেই যুব লেফটেন্যান্ট ওই চিনা মেজরের মুখে মুষ্ট‍্যাঘাত করে। সেই আঘাতে চিনা মেজর মাটিতে বসে পড়ে এবং তার নাক ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। সেই অবস্থায় ওই মেজর উঠে প্রতিঘাত করার চেষ্টা করলে যুব লেফট্যানেন্ট তাকে পুনরায় আঘাত করে। এতে ওই মেজরের দাঁত ভেঙে বেরিয়ে আসে।

 

এরপরই উভয় পক্ষের সেনা সংঘাত ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। উক্ত আধিকারিক তাঁর বিবৃতিতে এই ঘটনার জন্য ওই চিনা মেজরের উস্কানি দেওয়াকেই দায়ী করেন। তিনি আরো বলেন, ওই যুব লেফট্যানেন্ট সেই আহত চিনা মেজরকে আরো আঘাত করতে উদ্যত হয়, কিন্তু বাকি সৈনিকেরা তাকে নিরস্ত করে।

 

 

যুব লেফটেন্যান্ট এর বিস্তারিত পরিচয় না জানা গেলেও সূত্রের খবর, তার ঠাকুর্দা ও বাবা উভয়ই ভারতীয় সেনার প্রাক্তন আধিকারিক ছিলেন। জানা যাচ্ছে, এই অসমসাহসী যুব সৈনিকের বাবার নাম আশীষ দাস, যিনি একজন প্রাক্তন কর্ণেল, নিজেও ১৯৮৬ সালে এমনই এক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন অরুণাচল সীমান্তে।

 

সেনা আধিকারিকদের অনেকেই যুব লেফট্যানেন্ট এর এই দুঃসাহসিক কাজকে সমর্থন না জানালেও এক হৃষ্টপুষ্ট চিনা মেজরকে এই ছিপছিপে চেহারার যুব লেফটেন্যান্টের হাতে অসহায় ভাবে মার খেতে দেখে ভারতীয় সেনারা তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

Related Articles

Back to top button
Close