fbpx
অসমখেলাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

শহরের নাম ধরে রেখেছে শিলচর স্পোর্টিং ক্লাব

তাজ উদ্দিন, শিলচর: ২০১৩ সালের শিলচর ডি এস এ-র রামানুজ গুপ্ত সুপার লিগ ফুটবলে দারুণ সাড়া ফেলেছিলেন সানডে ওগর আয়ুক। ছটফটে এই বিদেশি স্ট্রাইকারকে সেবার নগাঁওয়ের রেডিয়াল ক্লাব থেকে দলবদলের মাধ্যমে শিলচরে নিয়ে এসেছিল স্পোর্টিং। দুর্দান্ত খেলতেন এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার। তার খেলা দেখতে শিলচরের ফুটবল মাঠে রীতিমতো জোয়ার এসেছিল। স্পোর্টিংয়ের ম্যাচ মানেই প্রতিদিনই সানডে। সেবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় পরবর্তীতে অসম ক্লাব কাপ ফুটবল খেলতে যায় স্পোর্টিং। তাদের সামনে একটা বড় লক্ষ্য ছিল। দ্বিতীয় ডিভিশন আই-লিগে খেলা। কিন্তু হোজাইয়ে সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মার খেয়ে বসে।

শিলচরের সক্রিয় ক্লাবগুলির মধ্যে ইন্ডিয়া ক্লাবের (১৯০০) পরেই স্পোর্টিংয়ের জন্ম। কিন্তু একটা সময় ক্লাবটি অনেকটা পেছনের সারিতে চলে গিয়েছিল। তবে সৌভাগ্যের কথা, হারিয়ে যায়নি বলেই আজ শহর শিলচর নিজের নামে গর্ব করার মতো একটা ক্লাবকে পেয়েছে।

১৯৩৬ সালে শিলচর স্পোটিং ক্লাবের জন্ম। এর প্রেক্ষাপট একটু জেনে নেওয়া ভাল। ইন্ডিয়া ক্লাবের জন্মের পর পূর্ববঙ্গ থেকে প্রচুর খেলোয়াড় শিলচরে আসতেন। আর, অনেক মরশুমি ক্লাব গড়ে উঠত। এরকমই একটা ছিল তুলাপট্টি ক্লাব। পরে, এই ক্লাবটি ১৯৩৬ থেকে শিলচর স্পোর্টিং ক্লাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন জি ডি ওয়াকার সাহেব, সম্পাদক ছিলেন জ্যোতির্ময় সেন।

শুরু থেকেই খেলোয়াড় তুলে আনার কাজটি করে আসছে স্পোর্টিং। বলা যেতে পারে কলকাতার এরিয়ান্স ক্লাবের মতো। দলের অন্যতম কর্মকর্তা ছিলেন নারায়ণ চৌধুরী এবং মাখন সেনগুপ্ত। পরবর্তীতে তাঁরা সভাপতি ও সচিব হন। এই মাখন বাবু গ্রামে গঞ্জে চষে বেড়াতেন খেলোয়াড়দের খোঁজে। ফুটবল নির্ভর বরাকে সেই সময় খেলোয়াড় বলতে ফুটবলারদেরই বোঝানো হচ্ছে।

১৯৫৭ সালে শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থা গঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্পোর্টিংও জায়গা করে নেয়। মোটামুটি মাঝারি মানের দল গড়ে ক্লাব লিগে অংশ নিত তারা।
মাখন সেনগুপ্তের পর তারাপুরের বাসিন্দা বিষ্ণু সেনগুপ্ত শিলচর স্পোর্টিং ক্লাবের সচিবের দায়িত্ব নেন। সেই সময় বিষ্ণু বাবু শিলচর ডি এস এ-র হকি সচিবের দায়িত্বও পালন করছিলেন। সেই সুবাদে স্পোর্টিং ক্লাবে হকি চর্চা গুরুত্ব পায়। হকি টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশ নিতে থাকে তারা। সত্যি কথা বলতে, দুর্দিনে শিলচর স্পোটিং ক্লাবকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিষ্ণু সেনগুপ্তের অবদান কখনও ভোলা যাবে না। শেষদিকে এসে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

১০৬০-৭০-এর দশকে শিলচরের পাড়াভিত্তিক ক্লাবগুলি গুরুত্ব পেতে শুরু করে। ইউনাইটেড ক্লাব, তারাপুর এ সি এবং ইটখলা এ সি-কে নিয়ে আগ্রহ বাড়ায় স্পোর্টি়ংয়ের মতো ক্লাবগুলিকে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে টিকে থাকতে হয়।

নব্বইয়ের দশকে ক্লাবের হাল ধরেন জহর রাহা। সচিবের দায়িত্ব নেন তিনি। সেই সময় সভাপতি ছিলেন সঞ্জয় চ্যাটার্জি, সহসভাপতি বাবুল হোড়, কোষাধ্যক্ষ অমৃত রায়। ক্লাবের পাশেই ছিল সুমো স্ট্যান্ড। সেখান থেকে নিয়মিত ডোনেশন মিলত। এতে আর্থিকভাবে সবল হতে থাকে ক্লাব।

১৯৯৭ সালে গঠিত হয় শিলচর ফুটবল অ্যাকাডেমি। শিথিল ধর প্রমুখ এই অ্যাকাডেমির একটা স্থায়ী ঠিকানার জন্য হন্যে হয়ে বেড়াচ্ছিলেন। তাদের আশার আলো দেখালো শিলচর স্পোর্টিং। একই ছাদের নিচে তারা একাডেমির কার্যালয়ের ব্যবস্থা করে দিল। স্পোর্টিংয়ের মাঠও সেই ২০০০ সাল থেকে ব্যবহার করে আসছে অ্যাকাডেমি। জিম নির্মাণের জন্য সেই সময় ব্যক্তিগতভাবে এক লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন বাবুল হোড়। পরে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেব সহ অন্যরাও অ্যাকাডেমির সাহায্যে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। এতেও লাভবান হয়েছে স্পোর্টিং। সমৃদ্ধ হয়েছে পরিকাঠামো।

শিলচর স্পোর্টিংয়ের ফ্যান বেস আগে কখনও ছিল না। গত কয়েক বছরে সেটা গড়ে উঠছে। নতুন সদস্য ভুক্তির পাশাপাশি বাংলা নববর্ষ পালন, বসন্ত উৎসব এবং ফ্যামিলি মিট করছে তারা। এতে আগামীতে তাদের সমর্থক সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা যায়।
ক্রিকেটে স্রেফ অংশ নেওয়ার মতো একটা দলই গড়ে স্পোর্টিং। ফুটবল কেন্দ্রিক ক্লাব হিসেবেই তারা পরিচিত। তবে গত কয়েক বছর ধরে বার্ষিক অ্যাথলেটিকস আয়োজন করছে স্পোর্টিং। আগামী ২০২০-২১ মরশুমে হকিকে ফেরানো হবে বলে জানালেন ক্লাবের বর্তমান সভাপতি মানিক পালচৌধুরী।

Related Articles

Back to top button
Close