fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নদিয়ার কুপার্স হল্ট স্টেশনটির অবস্থা শোচনীয়, ক্ষোভ বাসিন্দাদের

অভিষেক আচার্য, কল্যাণীঃ নদিয়ার রানাঘাট সাব-ডিভিশনের কুপার্স হল্ট স্টেশনটির “দুয়োরানীর দশা”। লাইনে ট্রেন চালু হওয়ার সময় থেকেই স্টেশনের অবস্থা বেহাল। যাত্রীদের তা নিয়ে ভোগান্তিও দীর্ঘদিনের। কখন ট্রেন আসবে তার কোনও ঘোষণার ব্যবস্থাও নেই স্টেশনে। স্টেশন চত্বরের একদিকে সামান্য অংশে ছাউনি থাকলেও তার অবস্থা খারাপ। বাকি অংশে রোদ-বৃষ্টি মাথায় করেই চলে ওঠানামা বা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা।

 

 

কুপার্স হল্ট স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম পাকাপোক্ত হলেও সমস্যা অনেক, শৌচাগার থাকলেও তা জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। মহিলাদের জন্য শৌচাগার নেই বললেই চলে। পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই। তবু বছরের পর বছর এ ভাবেই চলছে পূর্ব রেলের শিয়ালদা-বনগাঁ শাখার হল্ট স্টেশনটি। প্রতি বছর রেল বাজেটে যাত্রী স্বাচ্ছন্দের কথা বলা হলেও এই শাখার স্টেশনের সেই বার্তা আর পৌঁছয়নি। রেল কর্তৃপক্ষেরও কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই।  প্লাটফর্মের মেঝেয় টাইলস না থাকলেও সিমেন্ট করা হয়েছে। এই সব সমস্যা বার বার রেল কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও আজ পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ যাত্রীদের। এই বিষয়ে অসীম বারুই বলেন, এই স্টেশনের ওপর দিয়ে ৩৩ টি ট্রেন যাতায়াত করে। এর মধ্যে ১৭ টি আপ ও ১৬ টি ডাউন। কিন্তু ট্রেন থামে মাত্র ১৩টি। ৭টি আপ ও ৬ টি ডাউন। এই অঞ্চলের কুপার্স কলোনি, শিমুলিয়া, নোকারী, কীর্তিনগর সহ অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদের কাছে ভরসা এই স্টেশন। কিন্তু সবকটি ট্রেন না থামায় এই স্থানের প্রায় ১ লাখ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
এলাকার আর এক বাসিন্দা রঞ্জিত রায় বলেন, স্টেশনের অবস্থা শোচনীয়। তার ওপর সব ট্রেন থামে না।

 

 

এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রানাঘাট স্টেশনে যান ট্রেন ধরার জন্য। কোনো ঘোষণা হয় না। হকার থেকে ছাত্র-ছাত্রী অসুবিধার সম্মুখীন হন নিত্যদিন। কুপার্স হল্ট স্টেশনে গিয়ে টের পাওয়া গেল যাত্রীদের যন্ত্রণা। গোটা স্টেশনের একদিকে রয়েছে কয়েকটি যাত্রী ছাউনি। তাও অত্যন্ত ছোট। নেই ট্রেন আসার কোনও ঘোষণার ব্যবস্থা। শৌচালয় থাকলেও তা ব্যবহারের অযোগ্য। নেই কোনো পার্কিং। রেল কর্তৃপক্ষকে বার বার সমস্যার কথা জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। অভিযোগ বাসিন্দাদের।

 

 

ইতিমধ্যেই স্থানীয়রা লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন রানাঘাট লোকসভার সাংসদ জগন্নাথ সরকারকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, লকডাউনে সব আটকে রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কাজ শুরু হবে। হল্ট স্টেশনটির অবস্থা খুবই খারাপ। স্টেশনগুলিতে এখনও পর্যন্ত ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় মাইকে কোনও ঘোষণা করা হয় না। ফলে যাত্রীরা ট্রেনের সময়সীমা বুঝতে পারেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁদের ট্রেনের অপেক্ষায় স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কখন ট্রেন আমতা থেকে ছাড়ছে বা ট্রেন কতদূর এল তা জানতে হয় সহযাত্রীদের মোবাইলে ফোন করে। টাইমটেবিল থাকলেও তার সঙ্গে ট্রেন চলাচলের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই অভিযোগ যাত্রীদের। এই শাখার যাত্রীদের আর কতদিন ভুগতে হবে তা তা অবশ্য জানা নেই কারোর।

Related Articles

Back to top button
Close