fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

যানবাহনের অবস্থা স্বাভাবিকের মধ্যেই দিয়ে ভারতের কিষাণ সংগঠনের ডাকা বনধ পালিত হল বর্ধমানে

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ভারতের কিষাণ সংগঠন গুলির ডাকা বনধে মিশ্র প্রভাব পড়লো পূর্ব বর্ধমান জেলাতে। বনধ সফল করতে বিজেপি বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দল ও কিষাণ সংগঠনগুলি মঙ্গলবার সকাল থেকেই পথে নামে। তবে বনধ নিয়ে জেলার কোথাও কোন গোলযোগ বা অশান্তির ঘটনা না ঘটায় স্বস্তিতে প্রশাসন। কেন্দ্রের নয়া কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে এদিন সকালে বাম কৃষক সংগঠনের সদস্যরা জেলা কালনা মহকুমার পূর্বস্থলীতে রাস্তায় শাকসবজি ও চাল ফেলে পথ অবরোধ করেন। এই অবরোধের জেরে কালনা কাটোয়া সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। মিনিট কুড়ি অবরোধ চলার পর পূর্বস্থলী থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে অবরোধ তুলে দেয়।
তবে কালনা মহকুমার মন্তেশ্বর ও কালনায় বন্ধের তেমন কোন প্রভাব দেখা যায়নি। এইসব এলাকায় বেশিরভাগ দোকানপাট ও বাজার খোলা ছিল। সরকারি ও বেসরকারি বাস পথে দেখা না গেলেও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে দেখা গিয়েছে। ভাগীরথীতে পারাপার আর পাঁচটা দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল।

বনধ সফল করতে সারা ভারতের কৃষক সভার সদস্যরা জেলার অন্যান্য জায়গাতেও এদিন সকাল থেকে পথে নেমে পড়ে। কৃষকসভার সদস্যরা শক্তিগড়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। তার জেরে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে আটকে পড়ে যানবাহন। বর্ধমান গুসকরা জাতীয় সড়কের বরা চৌমাথার মোড়ে পথ-অবরোধ করেন। কৃষকসভার সদস্যরা

বনধের সমর্থনে ভাতারেও ট্রেন ও রাস্তা অবরোধ করে। তারা প্রথমে ভাতারের বাদশাহী রোড ও পরে ভাতার বাজারে নাসিগ্রাম মোড়ে পথ অবরোধ করেন।পাশাপাশি বর্ধমানের ভাতার স্টেশনে রেল অবরোধ করেন। গলসিতেও পথে নামে কৃষকসভা ও জাতীয় কংগ্রেসের কর্মীরা। তারা গলসিতে ২ নং জাতীয় সড়ক পথ অবরোধ করেন কংগ্রেস কর্মীরা। পাশাপাশি রাস্তার উপরে আগুন জেলে পথ অবরোধ সারা ভারত কৃষক সভার সদস্যরা। সিপিআই(এম) বর্ধমান শহর ১ ও ২নং এরিয়া কমিটি বনধের সমর্থনে এদিন বিশাল মিছিল করে শহর বর্ধমানে। মিছিল জি টি রোড, বি সি রোড সহ বর্ধমান শহর পরিক্রমা করে কার্জন গেট চত্বরে পৌঁছায়। সেখানে সারা ভারত কৃষক সভা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক অমল হালদার বক্তব্য রাখেন। মিছিল ও পথ সভায় সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী সহ সংগঠনগুলির রাজ্য-জেলা নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। বামকর্মীরা কার্জন গেট চত্ত্বরে মোদির কুশপুতুলও দাহ করেন।

আরও পড়ুন: মমতার পাড়ায় এসে গৃহ সম্পর্ক অভিযান, কালিঘাট মন্দিরে পুজো দেবেন জে.পি. নাড্ডা

বনধে কিছুকিছু জায়গায় কৃষকসভার সদস্যরা রেলপথ অবরোধ করলেও জেলার বাকি সবজায়গায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এদিনের বনধের সামান্য প্রভাব অবশ্য পড়েছে শহর বর্ধমানে। বেসরকারি কোন বাস এদিন বর্ধমান থেকে কাটোয়া, কালনা, মেমারি বা গুসকরা রুটে চলাচল করেনি। শহরের আলিসা ও নবাবাহাট বাস টার্মিনাস থেকে ছাড়েনি আন্তঃশহর বাসগুলো।বাসস্ট্যান্ট ছিল শুনশান। যাত্রী ভিড়ও দেখা যায়নি। তবে বর্ধমান থেকে কলকাতা বা দুর্গাপুর গামী সরকারি বাস চলাচল করেছে। বর্ধমান শহরে স্থানীয় পরিবহন যদিও চালু ছিল। বনধে জেলার সাধারণ জনজীবনে তেমন প্রভাব পড়েনি। বর্ধমান শহর ছাড়াও মেমারি, গুসকরা, রায়না খণ্ডঘোষে দোকান বাজার অন্যদিনের মতই চলছে। বর্ধমান শহরেও বাজার খোলা ছিল। টোটো চলছে।

Related Articles

Back to top button
Close