fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে আমফানে দুর্নীতির অভিযোগে জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে ধর্ণায় দম্পতি

মনোজ চক্রবর্তী, হাওড়া: আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরনের ক্ষেত্রে একাধিক দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে হাওড়াতে। অভিযোগ বহুক্ষেত্রে প্রকৃত মানুষ ক্ষতিপূরন পায়নি। উল্টে স্থানীয় নেতারা নিজেদের লোককে তা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। যার জেরে কয়েকদিন আগে তোলপাড় হয়েছে হাওড়ার রাজনীতি । সাসপেন্ড করা হয়েছে একাধিক নেতাকে। সামনে এসেছে দুই মন্ত্রী অরূপ রায় ও রাজীব ব্যানার্জীর কাজিয়া। এবার নিজের উদ্যোগে আমফানে পড়ে যাওয়া কারখানার চাল সারাতে গিয়েও পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ এনে হাওড়া জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে ধরনা দিল এক দম্পতি।

মঙ্গলবার একদিকে যখন ভার্চুয়াল জনসভার মাধ্যমে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতাকর্মীদের কাছে আগামী দিনের আন্দোলন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপরেখা টেনে দিচ্ছেন ঠিক তখনই তাঁরই দলের কর্মী তথা পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে তোলাবাজির এই অভিযোগ। জানা গিয়েছে, গত জুন মাসের আমফান ঝড়ের সময় উড়ে যায় লিলুয়া থানার জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীপাড়ার বাসিন্দা নস্কর দম্পতির জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কারখানার শেড।এরপর কিছুদিন আগে বেশ কিছু টাকা-পয়সা একত্রিত করে সেই শেডটি সারাতে শুরু করেন হাওড়া জগদীশপুর দেবী পাড়া এলাকার বাসিন্দা গোবর্ধন নস্কর এবং তার স্ত্রী জ্যোৎস্না নস্কর। অভিযোগ, তখনই স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান তথা তৃণমূল নেতা গোবিন্দ হাজরা দলবল নিয়ে এসে তাদের কাজ থামাতে বলেন। সরাসরি কুড়ি হাজার টাকা তোলা দাবি করেন। নইলে তাদের কারখানা সারাতে দেওয়া হবে না বলে ও হুমকি দেন।

শুধু তাই নয় , সেই দাবি মানতে রাজি না হওয়ায় গোবর্ধন নস্কর নামের ওই ব্যক্তিকে গোবিন্দ হাজরা এবং তার লোকজন মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এরপর তারা স্থানীয় লিলুয়া থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ না হওয়ায় কার্যত বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার জেলাশাসকের দপ্তর এর সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন স্বামী-স্ত্রী। তাদের প্রশ্ন ঝড়ের সময় যা ক্ষতি হবার তা হয়ে গিয়েছে। নিজেদের টাকায় সেই ভাঙ্গা কারখানা সারাতে চেষ্টা করছিলাম। তাহলে কেন তা সারাতে দেওয়া হবে না ? কেনই বা তার বিনিময় তোলা চাওয়া হবে? সুবিচার চাইতে এদিন তাই জেলা শাসকের সামনে ধরনায় বসেছেন তাঁরা -এমনটাই জানিয়েছে ওই দম্পতি।

যদিও এই বিষয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গোবিন্দ হাজরা। তিনি বলেন এটা পারিবারিক বিবাদের জেরে হয়েছে। এর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। যদিও এই ঘটনায় আতঙ্কিত ওই দম্পতি।

Related Articles

Back to top button
Close